এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,২৫ এপ্রিল : উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে সম্প্রতি গলা কাটার ঘটনায় সংবাদের শিরোনামে আসা প্রাক্তন মুসলিম ইউটিউবার সেলিম ওয়াস্তিক (Salim Wastik) সম্পর্কে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দিল্লির এক ব্যবসায়ীর ১৩ বছর বয়সী ছেলেকে হত্যার দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং সে গত ২৫ বছর ধরে পলাতক ছিল । একাধিকবার সে নিজের নাম বদলে নিজেকে প্রাক্তন মুসলিম বলে প্রচার করে বহাল তবিয়তে বসবাস করছিল । দিল্লি পুলিশ শনিবার (২৫শে এপ্রিল, ২০২৬) সেলিম ওয়াস্তিককে গ্রেপ্তার করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী,গাজিয়াবাদ পুলিশ কমিশনার জে. রবীন্দ্র গৌর বলেছেন যে, শনিবার সকালে দিল্লি পুলিশের একটি দল সেলিমের বাড়িতে পৌঁছে তাকে তুলে নিয়ে যায়। বলা হচ্ছে যে, সেলিম ১৯৯৫ সালের ২০শে জানুয়ারি ওই ব্যবসায়ীর ১৩ বছর বয়সী ছেলে সন্দীপ বনসালকে অপহরণ করেছিল এবং মুক্তিপণ না পাওয়ায় তাকে হত্যা করে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ১৯৯৭ সালে সেলিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ২০০০ সালে সে জামিন পায়, যার পর সে চম্পট দেয় । গত ২৫ বছর ধরে সে শামলি, মুজাফফরনগর, মিরাট এবং গাজিয়াবাদে বিভিন্ন নামে বসবাস করছিল। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে সে নিজেকে মৃত ঘোষণা করে সেলিম আহমেদ নামে পরিচিত হয় । পরবর্তীতে সে সেলিম ওয়াস্তিক নামে পরিচিত হয় ।
সে প্রথমে পোশাক তৈরির কারিগর হিসেবে কাজ করত এবং পরে গাজিয়াবাদের লোনিতে একটি কাপড়ের দোকান খোলে । এই নতুন পরিচয়ে সে একজন ইউটিউবার হিসেবে দেশব্যাপী বিখ্যাত হয়ে ওঠে এবং এই পরিচয়ই শেষ পর্যন্ত তার গ্রেপ্তারের কারণ হয় । পুলিশের মতে, ইন্সপেক্টর রবিন ত্যাগীর নেতৃত্বে এবং এসিপি সঞ্জয় কুমার নাগপালের তত্ত্বাবধানে একটি দল পলাতক অভিযুক্তের খোঁজে নিযুক্ত ছিল। এরই মধ্যে হেড কনস্টেবল মিন্টু যাদবের কাছ থেকে একটি গোপন খবর পাওয়া যায়। এরপর দলটি আঙুলের ছাপ এবং পুরনো ছবি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয় যে, প্রাক্তন মুসলিম সেলিম ওয়াস্তিকই পলাতক অভিযুক্ত সেলিম খান।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে লোনির নিজ কার্যালয়ে তিনি আক্রান্ত হন এবং তাঁর ঘাড় ও পেটে একাধিক আঘাত লাগে। এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই, ইউপি স্পেশাল টাস্ক ফোর্স পৃথক দুটি সংঘর্ষে তাঁর দুই হামলাকারীকেই হত্যা করে।।
