এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৩ এপ্রিল : আজ বৃহস্পতিবার এরাজ্যের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে । ১৫২ টি আসনে রেকর্ড প্রায় ৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে । অতীতের পরিসংখ্যান বলছে যে ভোটের হার বৃদ্ধি প্রতিষ্ঠান বিরোধীতা মানসিকতার স্পষ্ট লক্ষণ । তবে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি ও তার ভাইপো মনে করছেন যে মানুষ তাদেরই ব্যাপক সমর্থন দিয়েছে । অন্যদিকে আত্মবিশ্বাসের সুর শোনা গেল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গলাতেও । তিনি দাবি করেছেন যে এই ১৫২ টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১২৫ টি আসনে জয়লাভ করে গেছে । সেই সাথে ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর পর শংসাপত্র নিয়ে প্রথমে কালীঘাটের দেবী কালীকে দর্শন করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি ।
নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ শেষ করেই নিজের দ্বিতীয় নির্বাচনী এলাকা ভবানীপুরে ছুটে আসেন শুভেন্দু অধিকারী । ভবানীপুরের ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী পথসভা করেন । সভায় তিনি বলেন,’১৫২ তে ১২৫ তো হবেই আজকে৷ মালদা থেকে আলিপুরদুয়ার সাফ সাফ সাফ ৷ পুরুলিয়া শূন্য । বাঁকুড়া শুন্য । পশ্চিম বর্ধমান ০ । ঝাড়গ্রামে তিন তো হবেই৷ পশ্চিমে ১৫ তে দশ তো হবেই । পূর্বের ১৬ তে ১৬৷ মুর্শিদাবাদের ২ এর জায়গায় ৮ । বীরভূমে এক এর জায়গায় ৭ । তোমরা কোথায় যাবে এখন থেকে ব্যাগ গোছাও ।’
তিনি বলেন,’আজকের ভোটে হিন্দুরা যেভাবে একত্রিত হয়েছে, সবাই বলছে লড়াই বাঁচার লড়াই কে প্রার্থী জানিনা, কে মন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী জানিনা, এটা হিন্দুদের অস্তিত্ব রক্ষার শেষ নির্বাচন৷ আজকে তাই ঢেলে ভোট । আমার কথা রেকর্ড করে রাখুন । কোন হিন্দু বুথে তৃণমূল পাঁচ পার্সেন্ট এর বেশি ভোট পাবে না ।’ শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এত ধমকাচ্ছিল আটকাতে পেরেছে ? আমি আজ ভোর পাঁচটায় উঠে সাড়ে ছটা সাতটা থেকে মাঠে ছিলাম৷ নন্দীগ্রামের গড়চক্রবেড়িয়াতে প্রচুর মুসলমান থাকে৷ তাদের মাঝে ১৩৫ জন হিন্দু থাকে । তাদের কোন বারেই ভোট দিতে দেয় না । আজকে দাঁড়িয়ে থেকে ভোট দান করিয়েছি । নাগচিরাচর বলে একটি গ্রাম আছে । ১৭৫ জন হিন্দু থাকে । কালকে রাতে গিয়ে বলে এসেছে তোরা কেউ ভোট দিতে যাবি না, শোনেনি । জেনে গেছে জনতা যাবে এবার মমতা ।’
তিনি বলেন,’মমতা ব্যানার্জি ভাষার নামে ভাগ করতে চেয়েছেন । জাতের নামে ভাগ করতে চেয়েছেন । ভাতার নামে ভাগ করতে চেয়েছেন । পুলিশকে দিয়ে ভাগ করতে চেয়েছেন । কেনাবেচা করে ভাগ করতে চেয়েছেন । ভয় দেখিয়ে ভাগ করতে চেয়েছেন । এট দ্য এন্ড অফ দে ডে,আজকের ভোটে হিন্দু ভাই ভাই ।’ এরপর তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন,’হয়ে গেছে আজকে । একে হারাতেই হবে ।’ এরপর মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন,’আজকে আপনিও মিছিল করেছেন । প্রত্যেকটা ভিডিও আমার আছে। ভিডিওতে ভবানীপুরের কিছু লোক ছিল । আর একটা বড় অংশের লোক দাওয়াত-এ- ইসলাম দেওয়া, যিনি মমিনপুর ইকবালপুরকে মিনি পাকিস্তান বলেন, তিনি বলেন আমি সেদিন খুশি হব যেদিন রাজ্যের ৫০ শতাংশ লোক উর্দুতে কথা বলবে, তিনি জনাব ফিরাজ হাকিম, বন্দরের তিনি ৭৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ভাল লোক সাপ্লাই দিয়েছেন ।’
এরপর তিনি বলেন,’মাননীয়া, আপনি কি জানেন আজকের সিনিয়র সিটিজেনদের ভোট ছিল ? ১৫০ জন সিনিয়র সিটিজেন ভোট দিয়েছে । ৭৭ এর কয়েকটা মুসলমান ছাড়া আপনাকে একটা ভোটও দেয়নি । সব শুভেন্দু অধিকারীকে টিক লাগিয়েছে।
ভোট পড়া শুরু হয়ে গেছে । আপনাকে আমি হারাবো হারাবো হারাবো । কাল হরিণঘাটায় একটা প্রোগ্রাম আছে । কবিয়াল অসীম সরকারের । ওটা করে আমি একদম এখানে ঢুকবো। ২৯ তারিখে ইভিএম সিল করে বেরোবো । আর ৪ তারিখে নিজের গণনার টেবিলে বসবো । সার্টিফিকেট টা নিয়ে প্রথম কালীঘাটে গিয়ে মা কালীকে দর্শন করবো ।’
তিনি বলেন,’মমতা ব্যানার্জি, আমি আপনাকে ছোটাবো । আপনি বুঝতে পারবেন আপনার প্রতিপক্ষ কে ।’ তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন,’শুকনা মত,ডরনা মত, বিকনা মত” ।।
