এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২২ এপ্রিল : গত রবিবার পুরুলিয়া জেলার ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী প্রচারে সেরে ফিরতি পথে স্থানীয় একটি দোকানের সামনে কনভয় দাঁড় করিয়ে ১০ টাকার ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । তিনি সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লিখেছিলেন, ‘ব্যস্ত এক রবিবারে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে চারটি র্যালির মাঝে ঝাড়গ্রামে কিছু সুস্বাদু ঝালমুড়ি খেলাম।’ ভিডিওটি ব্যাপক ভাইরালও হয় । অনেক সংবাদমাধ্যমে খবরও হয় । কিন্তু আগামীকাল বৃহস্পতিবার(২৩ এপ্রিল) রাজ্যে প্রথম দফার ভোটের ঠিক কয়েক ঘন্টা আগেই সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে । কোনো আপত্তিকর বিষয়বস্তু না হওয়া সত্ত্বেও খোদ প্রধানমন্ত্রীর এই ভিডিও কেন সরিয়ে ফেলা হল তার সুনির্দিষ্ট কোনো কারন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি । শুধু বলা হয়েছে যে ‘স্থানীয় আইনের বাধ্যবাধকতা বা সরকারের অনুরোধের ভিত্তিতে’ ভিডিও-টি ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ।
এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আজ বুধবার ফেসবুক জানিয়েছে : “আইনত আমরা নির্দিষ্ট কিছু স্থানে আপনার ভিডিওতে প্রবেশাধিকার সীমিত করতে বাধ্য। আমরা স্থানীয় আইনি বাধ্যবাধকতা বা সরকারের অনুরোধের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নিয়েছি।” কিন্তু কোন সরকারের ‘অনুরোধ’ এবং প্রধানমন্ত্রীর মুড়ি খাওয়ার মত একটা আপাত নিরীহ ভিডিও-এর বিরুদ্ধে আইনের কোন ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে, তাও স্পষ্ট করেনি মেটা । এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক পেজ থেকেও ভিডিওটি তুলে নেওয়া হয়েছে । যদিও বর্তমানে ইউটিউবে ভিডিওটি এখনো উপলব্ধ ।
তবে মেটার “স্থানীয় আইনের উপর ভিত্তি করে বিষয়বস্তু সীমাবদ্ধতা” সংক্রান্ত নীতি অনুযায়ী : “যখন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা থ্রেডস-এর কোনো কিছু স্থানীয় আইনের পরিপন্থী বলে আমাদের কাছে রিপোর্ট করা হয়, কিন্তু তা আমাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডস-এর পরিপন্থী নয়, তখন আমরা যে দেশে এটিকে বেআইনি বলে অভিযোগ করা হয়েছে, সেই দেশে কন্টেন্টটির প্রাপ্যতা সীমিত করতে পারি। আমরা সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং আদালতের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও সাধারণ জনগণের কাছ থেকেও রিপোর্ট পেয়ে থাকি, যা আমরা আমাদের কর্পোরেট মানবাধিকার নীতি এবং গ্লোবাল নেটওয়ার্ক ইনিশিয়েটিভ-এর সদস্য হিসেবে আমাদের অঙ্গীকার অনুসারে পর্যালোচনা করি। এই রিপোর্টে সেইসব ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে যেখানে আমরা স্থানীয় আইনের ভিত্তিতে কন্টেন্টের অ্যাক্সেস সীমিত করেছি। এতে সেইসব কন্টেন্ট অন্তর্ভুক্ত নয় যা আমরা আমাদের নীতির পরিপন্থী হওয়ার কারণে সরিয়ে দিয়েছি।” তবে মেটা এটাও জানিয়েছে যে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার ভিডিও ভারতে নিষিদ্ধ হলেও অনান্য দেশে উপলব্ধ । অর্থাৎ, ভারতের বাইরে ভিডিওটি দেখা যাবে ।
প্রসঙ্গত,গত রবিবার ঝাড়গ্রামে নরেন্দ্র মোদী জনসভা করেন । সভা শেষ করে হেলিপ্যাড গ্রাউন্ডের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় ঝাড়গ্রাম কলেজ মোড়ে আচমকাই গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়েন তিনি । সোজা চলে যান একটি চানাচুর বিক্রেতার দোকানে । ঝালমুড়ির দাম জিজ্ঞেস করেন । তারপর পকেট থেকে একটি ১০ টাকার নোট বের করে ঝালমুড়ি বানিয়ে দিতে বলেন । দোকানদার হেঁসে টাকা ফেরত দিতে যান । কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাকে টাকা ফেরত নিতে অস্বীকার করেন। এরপর দোকানদারের কাছ থেকে ঝালমুড়ি নিয়ে সকলের সঙ্গে ভাগ করে খান প্রধানমন্ত্রী । সেই সময় বিজেপি কর্মীসমর্থকরা ‘জয় মোদী জি’, ‘জয় শ্রী রাম’ প্রভৃতি স্লোগান তোলেন । মুড়ি খেতে খেতেই ঝাড়গ্রাম কলেজ মোড়ে জনসংযোগও সারেন প্রধানমন্ত্রী। যদিও গতকালও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়াকে কটাক্ষ করে দাবি করেন যে পুরোটাই সাজানো ঘটনা ।।
Author : Eidin Desk.
