এইদিন ওয়েবডেস্ক,পশ্চিম মেদিনীপুর,২২ এপ্রিল : মঙ্গলবার ভোটের প্রচারের শেষ দিনে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতন বিধানসভার মোহনপুরে বিজেপির উপর তৃণমূল আশ্রিত সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে । ব্যাপক মারধরের পাশাপাশি বেশ কিছু বাইকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় বলে অভিযোগ । হামলায় হাত ভাঙে বিজেপির প্রার্থী অজিত কুমার জানার । আহত হয় অন্তত ৩০ জন । আহতদের মধ্যে একজন বিজেপি কর্মী উড়িষ্যার জলেশ্বর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন । ঘটনার প্রতিবাদে ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মোহনপুর থানার সামনে পথ অবরোধ করে বিজেপি ৷ মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত প্রায় ২০ জনকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গেছে।
বিজেপি প্রার্থী অজিত কুমার জানার অভিযোগ, বিগত ১৬ তারিখ থেকে আমি যখন থেকে প্রচার শুরু করেছি দেখছি যে সংখ্যালঘু এলাকা দিয়ে গেলেই আমাদের তৃণমূলের পতাকা দেখানো হয় এবং উস্কানিমূলক আচরণ করা হয় । তাদের সেই সমস্ত প্ররোচনায় কোনো রকম পা না দিয়ে আমরা পাশ কাটিয়ে চলে এসেছি এতদিন । কিন্তু আজকে যখন আমরা প্রচারের শেষ দিনে একটা মেগা র্যালি করেছিলাম, হালদার বাজার থেকে সাউদি হয়ে আমরা দুর্গাতে গিয়ে শেষ করলাম । দুর্গা থেকে মোহনপুরে যখন ফিরছিলাম তখন সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আঁতলা বস্তিতে, যেটা সন্ত্রাসের এলাকা সেখানে সব সময় সন্ত্রাস লেগেই থাকে, ওখানে ঘরে ঘরে আগ্নেয়াস্ত্র আছে-বোম আছে-ঘরে ঘরে তলোয়ার আছে । আর ওখানকার হিন্দু বাঙালি যারা আছে তাদেরকে উৎপীড়ন করে থাকে ।’
তিনি বলেন,’আজকে যখন আমরা ওই গ্রামের উপর দিয়ে বাইক র্যালি করে মোহনপুরে ফিরছিলাম তখন শেষের দিকে আমাদের কুড়ি পঁচিশ জন বাইকে থাকা কর্মীর উপর ওরা আক্রমণ করে । তাদেরকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করে । আমি সামনের দিকে ছিলাম । খবর পেয়ে আমি সেখানে ছুটে আসি । দেখি ৫০-৬০ জন হার্মাদ বাহিনী আমাদের কর্মীদের মারধর করছে । তাদের হাতে ছিল রড,তলোয়ার, বাঁশ ও কাঠ । কারো কারো হাতে আমি আগ্নেয়াস্ত্রও দেখেছি । আমাদের ২০-২৫ জন কর্মী আহত হয়েছে । তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয় । তার মধ্যে ৬-৭ জনের অবস্থা খুবই সংকটজনক। তাদেরকে আমরা চিকিৎসার জন্য জলেশ্বর ও বালেশ্বর পাঠাই । জলেশ্বর থেকে তাদের এইএমএস-এ স্থানান্তরিত করা হয় ।’
তিনি বলেন,’আমার অনুমান,তৃণমূল প্রার্থী মানিক মাইতি নিশ্চিত ভাবে যে হারছেন সেটা আন্দাজ করেই তিনি সংখ্যালঘুদের বিজেপির উপর আক্রমণ করার উসকানি দিয়েছেন । এটা পূর্ব পরিকল্পে ঘটনা । এর পিছনে ইফতিকার আলী এবং মানিক মাইতির হাত আছে । তার উসকানিতেই সংখ্যালঘু হার্মাদ বাহিনী এই হামলা চালিয়েছে ।’ তিনি আরো বলেন যে আমি এক দলীয় কর্মীকে ব্যাপক মারধর করা হচ্ছে দেখে বাঁচাতে গিয়েছিলাম । সেই সময়ে এক দুষ্কৃতী আমার হাতে কাঠ দিয়ে সজোরে আঘাত করে । অন্যান্য দলীয় কর্মীরা আমাকে সেখান থেকে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যায় ।
জানা গেছে,মঙ্গলবার দুপুরে মোহনপুরে বিজেপি প্রার্থীর বাইক র্যালি ছিল । মিছিলটি আঁতলা বস্তি দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার ঘটনা ঘটে ।অভিযোগ যে মিছিলের শেষ ভাগ লক্ষ্য করে তৃণমূলের লোকজন জড়ো হয়ে প্রথমে ইঁটপাটকেল ছোড়ে । এরপর সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা বিজেপি কর্মীদের উপর প্রাণঘাতী হামলা চালায় । এই হামলায় প্রায় ৩০ জন বিজেপি কর্মী আহত হন । বেশ কিছু বাইকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় । আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় । এরপর মোহনপুর থানার সামনে পথ অবরোধ শুরু করে বিজেপি । দীর্ঘক্ষণ অবরোধ চলার পর অবশেষে সন্ধ্যা ৭ টা নাগাদ অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
মোহনপুরে বিজেপির বাইক র্যালিতে হামলার ঘটনায় পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানান, মঙ্গলবার বেলদায় ৯ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত ‘একটি রাজনৈতিক দলকে র্যালির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।যে র্যালিতে শুধুমাত্র গাড়ির অনুমতি ছিল । কিন্তু র্যালিতে ছটা গাড়ি এবং প্রায় ৮০-৮৫টা মোটরবাইক ছিল । দুপুর প্রায় ১২:৪৫ নাগাদ র্যালিটি বেলদা থানা এলাকা থেকে মোহনপুর থানায় এলাকায় ঢোকে । যদিও মোহনপুর এলাকায় তাদের প্রচারের অনুমতি ছিল না বলে তিনি দাবি করেন ।
এসপি বলেন,’আঁতলা গ্রামের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় দুটো পলিটিক্যাল পার্টির মধ্যে বিবাদ শুরু হয় । দু’তরফের স্লোগানের কারণে উত্তেজনা ছড়ায় । প্রায় ২৫-৩০ টা গাড়ি ভাঙচুর হয় । দুটো গাড়িকে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় । দু’তরফেই আহত হয় । র্যালি করা রাজনৈতিক দলের ৫৪ জন হাসপাতালে যায় । তাদের মধ্যে ৩৬ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। গুরুতর জখম হওয়ায় ১৮ জনের ব্যান্ডেজ করা হয় । তাদেরকে স্থানান্তরিত করা হয় । তাদের অবস্থা ভালো ।’ তিনি জানান যে ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে । যারা এই হিংসায় জড়িত তাদের কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন ।।
