এইদিন ওয়েবডেস্ক,কাঠমান্ডু,২১ এপ্রিল : কেনাকাটার জন্য ভারত থেকে নেপালে ভ্রমণকারী এবং সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের জন্য একটি উদ্বেগজনক খবর রয়েছে। নেপাল সরকার ভারত থেকে আসা পণ্যের ওপর শুল্ক বিধি কঠোর করেছে। এখন, ১০০ নেপালি টাকার (প্রায় ৬৩ ভারতীয় টাকা) বেশি মূল্যের পণ্য নিয়ে নেপালে প্রবেশ করলে তার ওপর শুল্ক দিতে হবে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে নেপালের বীরগঞ্জ শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। এনিয়ে বর্তমানে বীরগঞ্জ এবং ভারত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিক্ষোভকারীরা বলছেন, ১০০ টাকার এই সীমা এতটাই কম যে এক কেজি চিনি বা সাধারণ রেশন সামগ্রী আনতেও তাঁদের কর দিতে হচ্ছে। স্থানীয়রা এটিকে একটি “অঘোষিত অবরোধ” বলে অভিহিত করছেন, কারণ এটি তাঁদের দৈনন্দিন জীবন এবং শতবর্ষ পুরোনো সীমান্ত বাণিজ্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
নেপাল সরকার এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (এপিএফ)-এর কর্মকর্তারা বলছেন যে এটি কোনো নতুন আইন নয়, বরং একটি পুরোনো আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। সরকারের যুক্তি হলো, কর পরিশোধ না করে বিপুল পরিমাণ পণ্য নেপালে পাচার করা হচ্ছিল, যা অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হচ্ছিল। সীমান্তজুড়ে চোরাচালান এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক বাণিজ্য রোধ করতে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
নেপাল-ভারত সীমান্ত বরাবর বসবাসকারী মানুষেরা প্রায়শই সস্তা ও প্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য ভারতীয় বাজারের ওপর নির্ভর করেন। বিক্ষোভকারীরা বলছেন যে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তারা পূজা-অর্চনা এবং কৃষিকাজের জন্য সারা ভারত থেকে জিনিসপত্র আমদানি করেন। এখন, সীমান্তে পুলিশের কঠোর তল্লাশি এবং কর আরোপ সাধারণ মানুষের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। তল্লাশির কারণে বীরগঞ্জ সীমান্তে দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে এবং ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।।
