এইদিন ওয়েবডেস্ক,ভাতার(পূর্ব বর্ধমান),২১ এপ্রিল : পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতারের প্রার্থীকে নিয়ে ক্ষোভের আগুন উসকে দেওয়ার চেষ্টা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক ব্যানার্জি ৷ স্মরণ করালেন সিপিএমের সন্ত্রাসের অতীত ইতিহাস । বললেন, ‘বিজেপি প্রার্থীকে ভোট দেওয়া মানে আসলে সিপিএমের সন্ত্রাসকে ফিরিয়ে আনা ।’
প্রসঙ্গত,এবারের ভাতার বিধানসভায় সৌমেন কার্ফা নামে এক তরুনকে প্রার্থী করেছে বিজেপি । তিনি পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা কলেজে স্নাতক করার সময় সিপিএমের ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্ট ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার(এসএফআই) নেতৃত্ব দিতেন । এছাড়া, সৌমেন কার্ফার বিয়ে হয়েছে ভাতার থানার কামারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জয়ন্ত হাটির মেয়ের সঙ্গে । জয়ন্ত হাটি হলেন ভাতারের বনপাশ গ্রামপঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধান । যা নিয়ে গেরুয়া শিবিরের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় । বিজেপির প্রথম দফার প্রার্থীর তালিকায় তার নাম দেখে বিজেপির অন্দরে ব্যপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে । বিগত বিধানসভার ভোটে ভাতারের বিজেপি প্রার্থী মহেন্দ্রনাথ কোঁয়ার তার অসন্তোষের কথা সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করেছিলেন । এমনকি কয়েক সপ্তাহ আগে ভাতারের বিভিন্ন অঞ্চল জুড়ে বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে পোস্টারও সাঁটানো হয় । যাতে লেখা ছিল : “টিএমসির উপ প্রধানের জামাই সৌমেন কার্ফাকে মানছি না, মানবো না ।” যদিও বর্তমানে প্রকাশ্যে কোনো ক্ষোভবিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে না । জোর কদমে প্রচার শুরু করেছে বিজেপি । তবে সেই ক্ষোভকে ভোটের ৮ দিন আগে ফের চাঙ্গা করে দিতে সিপিএমের ৩৪ বছরের ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’-এর কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন অভিষেক৷
তিনি বলেন,’আমার এখনো মনে আছে ২০১০ সালে বনপাশ শিক্ষা নিকেতন পরিচালন সমিতির নির্বাচনে সিপিএমের হার্মাদদের বোমের আঘাতে আমাদের প্রার্থী টোটন মল্লিকের মৃত্যু হয়েছিল । ২০১১ সালে মা-মাটি-মানুষ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে তাকে আমরা হারিয়েছিলাম । সেই টোটন মল্লিক এর স্ত্রী আজ আমাদের এখানে উপস্থিত রয়েছেন। আমার মনে আছে ২০১০ সালে এখানে একটি স্কুল পরিচালন কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিপিএমের হার্মাদরা বর্তমান বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী কে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল । তার মাথায় গুলি লেগেছিল । কোন মতে তিনি প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন । এই হচ্ছে সিপিএমের ভাতারের ইতিহাস।’
তিনি বলেন,’আজকে আমরা জানি বিভিন্নভাবে বিভিন্ন জায়গায় সিপিএমের লোকেরা বিজেপিতে নাম লিখিয়েছে । কিন্তু ভাতারে শুধু কর্মীরাই নয়, যে প্রার্থী হয়েছে তাকেও সিপিএম সাপ্লাই করেছে ।এখানে সিপিএমের সেই ভয়াবহ সন্ত্রাসের অতীত দিন মানুষ ভুলে যায়নি । বিজেপিকে কোন মতে যদি কেউ সমর্থন করেন তাহলে ভাতারে আবার সেই সিপিএমের সন্ত্রাসের দিন অনুন্নয়নের দিনগুলো ফিরিয়ে আনা হবে ।’ তিনি বলেন,’এখানে শান্তনু কোনারের বিপরীতে যিনি দাঁড়িয়েছেন, সৌমেন কার্ফা । যার কাজের কোন ইতিহাস নেই । সুযোগ বুঝে ২০২০ সালের সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাকে একটা অঞ্চলের একটা বুথে যদি কেউ সমর্থন করে তাহলে ভাতারে আবার সেই খুনের রাজনীতি ফিরিয়ে আনা হবে ।’
তিনি বলেন,’যারা আমাদের বাংলাদেশী আর রোহিঙ্গা বলে আখ্যায়িত করেছে তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়ার ভোট হল ২৯ তারিখের এই ভোট । খালি তৃণমূল কংগ্রেসকে জেতালে হবে না । ভাতারের ষোলটা অঞ্চলের যে কটা বুথ রয়েছে, সিপিএমের যে কটা হার্মাদ গায়ের জার্সি পাল্টে বিজেপির জল্লাদ সেজে কাস্তে হাতুড়ি তারা ছেড়ে পদ্মফুল ধরে ভোট ভিক্ষা চাইছে সেই হার্মাদ গুলোর জামানত বাজেয়াপ্ত করতে হবে যাতে ভাতারে আর সন্ত্রাস আর অনুন্নয়নের সিপিএমের সেই কালো অধ্যায় আর ফিরে না আসে ।’
“বিজেপির গ্যারান্টি মানে জিরো ওয়ারেন্টি, মমতা ব্যানার্জির গ্যারান্টি মানে লাইফ টাইম ওয়ারেন্টি”
পাশাপাশি তৃণমূল সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে অভিষেকের মন্তব্য, ‘বিজেপির গ্যারান্টি মানে জিরো ওয়ারেন্টি, আর মমতা ব্যানার্জির গ্যারান্টি মানে লাইফ টাইম ওয়ারেন্টি ৷’ তিনি বলেন,’১৬ টা অঞ্চল নিয়ে ভাতার বিধানসভা। গত দু’বছরে নরেন্দ্র মোদী সরকারের কোন অর্থ সহযোগিতা ছাড়া প্রায় ১৫ হাজার গরীব পরিবারের মাথার ওপর পাখা ছাদের ব্যবস্থা করেছে মমতা ব্যানার্জীর সরকার৷ ভাতারের প্রায় ৭৪ হাজার মায়েরা প্রতিমাসে লক্ষ্মীর ভান্ডার পাচ্ছেন । আমাদের দল যতদিন থাকবে বাংলার মায়েরা আজীবন লক্ষ্মীর ভান্ডার পাবে । আমরা প্রতি মাসে দেড় হাজার এবং বছরে ১৮ হাজার টাকা করে দিচ্ছি । বিজেপি ১৮ পয়সা দিয়েছে ? একজন তপশিলি মা মাসে ১৭০০ এবং বছরে কুড়ি হাজার টাকা লক্ষ্মীর ভান্ডার পাচ্ছে । বিজেপি দশ পয়সাও আপনার একাউন্টে গত ১২ বছরে দেয়নি । বিজেপির গ্যারান্টি মানে জিরো ওয়ারেন্টি । আর মমতা ব্যানার্জির গ্যারান্টি মানে লাইফ টাইম ওয়ারেন্টি । যতদিন বাঁচবে ততদিন ওয়ারেন্টি থাকবে।’
অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দেওয়া নিয়ে বিজেপির অভিযোগের জবাব দেন মমতা ব্যানার্জির ভাইপো । আজ মঙ্গলবার ভাতারের আলিনগর স্টেডিয়ামে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় ভাতার ছাড়াও, কাটোয়া,মঙ্গলকোট, আউশগ্রাম প্রভৃতি আসনের তৃণমূল প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন। অভিষেক ব্যানার্জির সভা ঘিরে ছিল কঠোর নিরাপত্তা৷ কয়েক হাজার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল আলিনগর স্টেডিয়াম ও সংলগ্ন এলাকায় ।।
