এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২১ এপ্রিল : সোমবার রাতের কলকাতার একবালপুর এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে । অভিযোগ, বিজেপির নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা হামলা চালায়। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন একাধিক বিজেপি কর্মী। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিং নিজেও। আজ মঙ্গলবার ফেসবুক লাইভে এসে রাকেশ সিং জানান যে মহিলাসহ ৩ বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত হয়েছে । পাশাপাশি তিনি তিন পুলিশ আধিকারিক ডিসি পোর্ট হরেকৃষ্ণ পাই,ডিসি-২ বিপি দাস,আমানুল্লা খানসহ বিদায়ী মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের ডানহাত বলে পরিচিত শেহবাজ খান মিলে ‘হিন্দু-মুসলিম’ দাঙ্গা উসকে দিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের ষড়যন্ত্র করেছিল বলে অভিযোগ করেছেন৷ রাকেশ সিং-এর অভিযোগ যে ভোটের সময় তাকে জেলে ভরে রেখে ভবানীপুর ও কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের জয় নিশ্চিত করতে চেয়েছিল তারা ।
জানা গেছে,সোমবার সন্ধায় একবালপুর এলাকার হুসেন শাহ রোডে খুব ছোটো একটি পথ সভার আয়োজন করেছিল বিজেপি। বক্তব্য রাখতেন বিজেপির প্রার্থী রাকেশ সিংয়ের। কিন্তু অভিযোগ, রাকেশ সিং আসার আগে, স্থানীয় কয়েকজন নেতা সেই সভায় হামলা চালিয়ে দেয় ।তারপরই রণক্ষেত্র চেহারা নেয় গোটা এলাকা । হামলার পর রাকেশ সিং একবালপুর থানার সামনে রাস্তায় শতাধিক কর্মী সমর্থকদের সাথে বসে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের দাবি ছিল যারা হামলা করল, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং গ্রেফতার করতে হবে। গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত তিনি উঠবেন না। ঠিক সেই সময় পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বাবলু করিম-এর নেতৃত্বে থানা ঘেরাও ও অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা। থানার একদিকে বিজেপি, অন্যদিকে তৃণমূল। এরপর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ শুরু করে ।
রাকেশ সিং বলেন,’কিছু মুসলিম লোক ‘মিনি পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ শ্লোগান দিতে দিতে সেখানে আসে । পুলিশের উপস্থিতিতে এইসব হচ্ছিল । মহিলাদের গায়েও হাত দেওয়া হয় । সেই সময় আমি মেটিয়াবুরুজ যাচ্ছিলাম । এক মহিলা কার্যকর্তা ফোন করে আমায় ঘটনার কথা জানালে আমি সেখানে ফিরে আসি ।’ তার অভিযোগ যে,’যখন আমি ডিসি পোর্ট হরেকৃষ্ণ পাই-কে ফোন করি তখন তিনি আমায় ৫ মিনিটের মধ্যে পুলিশ বাহিনীর সাথে আসার আশ্বাস দেন । কিন্তু আসেনি । আসলে ডিসি পোর্ট হরেকৃষ্ণ পাই,ডিসি-২ বিপি দাস,আমানুল্লা খান ও শেহবাজ খানের পরিকল্পনা ছিল ওখানে হিন্দু- মুসলিমের মধ্যে দাঙ্গা উসকে দেওয়া, মুসলিমদের মনের মধ্যে ঘৃণা ছড়ানো । আর তার পুরো দায় ভবানীপুর ও কলকাতা বন্দর আসনে তৃণমূলের জয় নিশ্চিত করতেই সাম্প্রদায়িক হিংসার দায় তার উপর চাপিয়ে ভোটের সময় জেলে রাখার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল বলে রাকেশ সিংয়ের অভিযোগ । বিশেষ করে ডিসি পোর্ট হরেকৃষ্ণ পাইয়ের বিরুদ্ধে তৃণমূলের ক্যাডারের ভুমিকা পালন করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি । তিনি তাকে “ভগবানের নামের একজন শয়তান” আখ্যা দিয়ে কঠিন শাস্তির দাবি তুলেছেন । অন্যদিকে তৃণমূলের তরফ থেকে অভিযোগ আনা হয় যে বিজেপির এই সভা থেকে প্ররোচনামূলক মন্তব্য করা হচ্ছিল।
উল্লেখ্য,কলকাতা বন্দর বিধানসভা কেন্দ্র মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত । এবারের নির্বাচনে ফিরহাদ হাকিম ও রাকেশ সিং—এই দুই শক্তিশালী প্রার্থীর মুখোমুখি লড়াই হচ্ছে । তাই ভবানীপুরের মত এই আসনও রাজ্যের অন্যতম হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনী কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
রাকেশ সিং দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় হিন্দু সমাজের অধিকার এবং ধর্মীয় স্থানের সুরক্ষা নিয়ে সরব। তিনি অভিযোগ করেছেন, বন্দর এলাকায় অবৈধ নির্মাণ, সিন্ডিকেট রাজ ও বেআইনি কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি, স্থানীয় সংস্কৃতি ও ভাষা রক্ষার প্রশ্নেও তিনি সোচ্চার। তাঁর মতে, “বাংলার ঐতিহ্যকে রক্ষা করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।”
সোমবার রাতের এই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনার পারদ বহুগুণ বেড়ে গেছে ৷ তাই কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের লড়াই শুধুমাত্র ভোটের লড়াই নয়—এটি এখন আদর্শ, পরিচয় এবং রাজনৈতিক আধিপত্যের সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। আগামী দিনে এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজ্য রাজনীতির।।
