অষ্টবক্র গীতার নবম অধ্যায় (নবমোঽধ্যায়ঃ) হলো ঋষি অষ্টবক্র এবং রাজা জনকের মধ্যকার কথোপকথনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে বৈরাগ্য এবং আত্মজ্ঞান-এর মাধ্যমে মোক্ষ লাভের পথ নির্দেশ করা হয়েছে। এই অধ্যায়ে মূলত বাসনা ত্যাগ, দ্বৈতবোধের অবসান এবং জগতের অনিত্যতা অনুধাবনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
অষ্টবক্র উবাচ ॥
কৃতাকৃতে চ দ্বংদ্বানি কদা শাংতানি কস্য বা ।
এবং জ্ঞাত্বেহ নির্বেদাদ্ ভব ত্যাগপরোঽব্রতী ॥৯-১॥
কস্যাপি তাত ধন্যস্য লোকচেষ্টাবলোকনাত্ ।
জীবিতেচ্ছা বুভুক্ষা চ বুভুত্সোপশমং গতাঃ ॥৯-২॥
অনিত্যং সর্বমেবেদং তাপত্রিতযদূষিতম্ ।
অসারং নিংদিতং হেয়মিতি নিশ্চিত্য শাম্যতি ॥৯-৩॥
কোঽসৌ কালো বয়ঃ কিং বা যত্র দ্বংদ্বানি নো নৃণাম্ ।
তান্যুপেক্ষ্য যথাপ্রাপ্তবর্তী সিদ্ধিমবাপ্নুয়াত্ ॥৯-৪॥
নানা মতং মহর্ষীণাং সাধূনাং যোগিনাং তথা ।
দৃষ্ট্বা নির্বেদমাপন্নঃ কো ন শাম্যতি মানবঃ ॥৯-৫॥
কৃত্বা মূর্তিপরিজ্ঞানং চৈতন্যস্য ন কিং গুরুঃ ।
নির্বেদসমতায়ুক্ত্য়া যস্তারযতি সংসৃতেঃ ॥৯-৬॥
পশ্য ভূতবিকারাংস্ত্বং ভূতমাত্রান্ যথার্থতঃ ।
তত্ক্ষণাদ্ বন্ধনির্মুক্তঃ স্বরূপস্থো ভবিষ্যসি ॥৯-৭॥
বাসনা এব সংসার ইতি সর্বা বিমুংচ তাঃ ।
তত্ত্যাগো বাসনাত্যাগাত্স্থিতিরদ্য যথা তথা ॥৯-৮॥
নবম অধ্যায়: বৈরাগ্য ও আত্মার স্বরূপ
১. বাসনা ও দ্বৈতবোধের ত্যাগ (শ্লোক ৯.১ – ৯.৪):
অষ্টবক্র বলছেন, কৃত (করা কাজ) ও অকৃত (না করা কাজ) বা ভালো-মন্দ—এই সব দ্বৈতবোধ কখন এবং কার শান্ত হয়? যখন মানুষ এই সংসার বা বৈষয়িক জীবন থেকে বৈরাগ্য (নিরাসক্ত) গ্রহণ করে, তখনই সে প্রকৃত জ্ঞান বা শান্ত অবস্থা পায়।
এই জগত অনিত্য (ক্ষণস্থায়ী), তাপত্রয় (আধ্যাত্মিক, আধিভৌতিক ও আধিদৈবিক দুঃখ) দ্বারা দূষিত, অসার এবং নিন্দিত—এই সত্য উপলব্ধি করে জ্ঞানী ব্যক্তি শান্ত হন।
২. সংসারের স্বরূপ ও মুক্তি (শ্লোক ৯.৫ – ৯.৮):
মহর্ষি, সাধু এবং যোগীদের নানাবিধ মত দেখে যে ব্যক্তি বৈরাগ্য অবলম্বন করে, সে কে না শান্ত হয়?।
নিজের চৈতন্য বা আত্মার স্বরূপ চিনলে, যে গুরু নির্বেদ (বৈরাগ্য) এবং সমতার মাধ্যমে সংসার থেকে মুক্তি দেন।
বাসনাই হলো সংসার, তাই সমস্ত বাসনা ত্যাগ করো। বাসনা ত্যাগ করলেই মোক্ষ লাভ হয়।
মূল বার্তা:
নির্বেদ (বৈরাগ্য): জগতকে অসার জেনে তার প্রতি আসক্তি কমানো।
বাসনা ত্যাগ: কামনা-বাসনার বিনাশই মুক্তি।স্বরূপস্থিতি: নিজেকে শরীর বা মন মনে না করে, নিজের নিত্য চৈতন্য স্বরূপ উপলব্ধি করা।
অষ্টবক্র গীতার এই অধ্যায়টি একজন সাধককে বাহ্যিক জগত থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্তর্মুখী হওয়ার নির্দেশনা দেয়, যাতে তিনি নিজের প্রকৃত স্বরূপ (আত্মা) জানতে পারেন।।
