এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৪ এপ্রিল : কয়লা পাচার মামলায় (Coal Scam Case) তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা ভাড়াটে সংস্থা I-PAC এর বিরুদ্ধে বড়সড় অ্যাকশন নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট(ইডি) । গ্রেপ্তার করা হয়েছে সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর তথা সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্ডেলকে (Vinesh Chandel)৷ সোমবার দিল্লিতে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর পিএমএলএ (PMLA) আইনের আওতায় তাঁকে হেফাজতে নেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। গ্রেফতারের পর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট আই-প্যাকের পরিচালক ভিনেশ চান্ডেলকে দিল্লিতে বিচারকের বাসভবনে নিয়ে যায়। এর আগে গত ২ এপ্রিল ভিনেশ চান্ডেলের দিল্লির বাড়িতে তল্লাশি চলে । পশ্চিমবঙ্গের কয়লা পাচার মামলায় বেআইনি লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে । ইডির দাবি, পশ্চিমবঙ্গের কয়লা পাচারের টাকা আই-প্যাকের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা হয়েছিল ।
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, গত কয়েকদিনে দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, বিজয়ওয়াড়া এবং রাঁচি মিলিয়ে আই-প্যাকের মোট ১১টি ঠিকানায় ম্যারাথন তল্লাশি চালানো হয়েছে। এই অভিযানে সংস্থার অপর এক ডিরেক্টর ঋষি রাজ সিং-এর বেঙ্গালুরুর বাসভবন ও দফতরেও হানা দেয় ইডি।
ইডি-এর অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে বলা হয়েছে, ইডি, কলকাতা জোনাল অফিস কলকাতার মাননীয় বিশেষ আদালত (পিএমএলএ)-এ ৫ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করে কয়লা সিন্ডিকেট মামলার তদন্তের পরিধি বাড়িয়েছে। এই অভিযুক্তদের মধ্যে চিন্ময় মণ্ডল এবং কিরণ খানও রয়েছেন, যাঁদের দুজনকেই ০৯.০২.২০২৬ তারিখে পিএমএলএ-এর বিধান অনুযায়ী গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। নভেম্বর ২০২৫-এ চালানো তল্লাশির ফলে নগদ ১৭.৫৭ কোটি টাকা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়। এই মামলায় এখন পর্যন্ত চিহ্নিত অপরাধলব্ধ অর্থের পরিমাণ ৬৫০ কোটি টাকারও বেশি। এই মামলার তদন্ত অবৈধ কয়লা উত্তোলন, চুরি, অবৈধ কয়লা পরিবহন, অবৈধ বিক্রি এবং চাঁদাবাজির সাথে সম্পর্কিত।
পূর্ববর্তী ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে শুরু করে এরাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজি বা রণকৌশল তৈরির নেপথ্যে ছিল এই আই-প্যাক। বর্তমানে যখন বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন দোরগোড়ায়, আর মাত্র ৯ দিন পরেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন, আর নির্বাচনী প্রচারণার মাঝেই চান্দেলের এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল। স্বাভাবিকভাবেই আই-প্যাকের শীর্ষ কর্তার গ্রেপ্তারিতে চাপে তৃণমূল । তৃণমূল এই গ্রেপ্তারিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখলেও বিজেপির অভিযোগ কয়লা চুরির টাকা রাজনৈতিক প্রচারের কাজে লাগানো হয়েছে ।
ভিনেশ চান্ডেলকে গ্রেপ্তারির পর অভিষেক ব্যানার্জি একটা বড়সড় টুইট করেছেন । তাতে তিনি লিখেছেন,’পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে আই-প্যাক-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেপ্তার শুধু উদ্বেগজনকই নয়, এটি সকলের জন্য সমান সুযোগের ধারণাকেই নাড়িয়ে দেয়। যে সময়ে পশ্চিমবঙ্গের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত, সেই সময়ে এই ধরনের পদক্ষেপ একটি ভীতিকর বার্তা দেয়: যদি আপনি বিরোধী দলের সাথে কাজ করেন, তবে আপনার পালাও আসতে পারে। এটা গণতন্ত্র নয়—এটা ভীতি প্রদর্শন!’
