এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,১৩ এপ্রিল : ইরানের সঙ্গে সংঘাতে ইতিমধ্যেই জড়িয়ে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বেইজিং ইরানকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করতে পারে এমন খবরের জেরে চীনের সঙ্গে বানিজ্য সংঘাতে জড়াতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে । ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। ইরানকে সমর্থনে যে দেশগুলি সামরিক সরঞ্জাম পাঠাবে সেই দেশগুলোর ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে, সেই তালিকায় চীন আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।ট্রাম্প বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেছেন,”হ্যাঁ, এবং চীনসহ অন্যান্য দেশও আছে ।”
ট্রাম্প এই প্রতিবেদনগুলোকে ভুয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, তবে বলেছেন যে, যদি সেগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তিনি বেইজিংয়ের ওপর ভারী শুল্ক আরোপ করবেন।ট্রাম্প বলেন,এই প্রতিবেদনগুলো আমার কাছে তেমন অর্থবহ মনে হচ্ছে না, কারণ এগুলো মিথ্যা এবং ভুয়া খবর হতে পারে। তবে, আমি শুনেছি চীন কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে। আমি মনে করি না তারা এমনটা করবে, কারণ আমার সাথে তাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু, হয়তো তারা শুরুতে সাহায্য করেছিল। তবে, আমি মনে করি না তারা আর তা করবে ।”
তিনি বলেন,”কিন্তু, যদি আমরা তাদের এমনটা করতে দেখি, তাহলে আমরা অবশ্যই তাদের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করব। এটা বিস্ময়কর, এক বিশাল পরিমাণ ।”
ট্র্বাম্প বলেন,”চীন আমাদের কাছে তাদের জাহাজ পাঠাতে পারে। চীন ভেনেজুয়েলাতেও তাদের জাহাজ পাঠাতে পারে। আমরা তাদের ভেনেজুয়েলা থেকে কিনতে বলেছি। আমাদের উৎপাদন ক্ষমতা বেশি। আমরা তাদের কাছে (তেল) বিক্রি করব এবং সম্ভবত আরও কম দামে বিক্রি করব ।”
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর,বেইজিং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের কাছে কাঁধে বহনযোগ্য বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, যা ম্যানপ্যাড (MANPAD) নামে পরিচিত, সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এগুলোর প্রকৃত উৎস গোপন করতে বেইজিং তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে এগুলো পাঠানোর চেষ্টা করছে বলে শনিবার সিএনএন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে।প্রতিবেদনটি সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে, ফ্লোরিডার উদ্দেশে হোয়াইট হাউস ছাড়ার আগে ট্রাম্প বলেন, “চীন যদি এমনটা করে, তাহলে তারা বড় সমস্যায় পড়বে।” তবে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের একজন মুখপাত্র বলেছেন,”চীন সংঘাতে জড়িত কোনো দেশকে কখনো অস্ত্র সরবরাহ করেনি; এই তথ্যটি মিথ্যা ।”
চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনার জন্য ট্রাম্প আগামী মাসের শুরুতে বেইজিং সফরে যাবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে। বলা হচ্ছে যে, তেহরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার চীন ৭ই এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করতে সাহায্য করেছিল। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে ইরানকে রাজি করানোর পেছনে চীনের সম্পৃক্ততা ছিল কি না, এএফপিকে এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি বলব হ্যাঁ। হ্যাঁ, তারা ছিল।”
যদিও চীন যুদ্ধবিরতিতে তার ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে বেইজিং পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ইরানের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।ট্রাম্পের চীন সফরের আগেই যুদ্ধ বন্ধ হোক, এমনটাই চায় বেইজিং। যুদ্ধ সংক্রান্ত দাবির কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প তাঁর চীন সফর স্থগিত করছেন, যা মার্চের শেষে নির্ধারিত ছিল ।।

