অষ্টবক্র গীতার অষ্টম অধ্যায়টি “বন্ধন ও মুক্তি” বা “চিত্তবৃত্তি নিরোধ” সংক্রান্ত। এখানে ঋষি অষ্টবক্র রাজর্ষি জনককে বলছেন যে—যখন চিত্ত (মন) কোনো কিছু কামনা করে, দুঃখ করে, ত্যাগ করে বা গ্রহণ করে, তখন তা ‘বন্ধন’। আর যখন মন কোনো কিছুর জন্য আকাঙ্ক্ষা বা বিলাপ করে না, কিছুই গ্রহণ বা বর্জন করে না, এবং অচল-অটল থাকে, তখন তা-ই ‘মুক্তি’।
অষ্টবক্র উবাচ ॥
তদা বন্ধো যদা চিত্তং কিঞ্চিদ্ বাঞ্চতি শোচতি ।
কিঞ্চিন্ মুঞ্চতি গৃহ্ণাতি কিঞ্চিদ্ধৃষ্যতি কুপ্যতি ॥৮-১॥
তদা মুক্তির্যদা চিত্তং ন বাঞ্চতি ন শোচতি ।
ন মুঞ্চতি ন গৃহ্ণাতি ন হৃষ্যতি ন কুপ্যতি ॥৮-২॥
তদা বন্ধো যদা চিত্তং সক্তং কাস্বপি দৃষ্টিষু ।
তদা মোক্ষো যদা চিত্তমসক্তং সর্বদৃষ্টিষু ॥৮-৩॥
যদা নাহং তদা মোক্ষো যদাহং বন্ধনং তদা ।
মত্বেতি হেলয়া কিংচিন্মা গৃহাণ বিমুংচ মা ॥৮-৪॥
অষ্টম অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ :
বন্ধন (শ্লোক ৮-১): যখন মন কোনো কিছু আকাঙ্ক্ষা করে, শোক করে, ত্যাগ করে বা ধরে রাখে, এবং কোনো কিছুতে সন্তুষ্ট বা অসন্তুষ্ট হয়, তখন তা বন্ধন।
মুক্তি (শ্লোক ৮-২): যখন মন কিছুর জন্য আকাঙ্ক্ষা করে না, শোক করে না, বর্জন করে না, গ্রহণ করে না, এবং কামনা-বাসনামুক্ত থাকে, তখন তা মুক্তি।
আসক্ত চিত্ত (শ্লোক ৮-৩): যখন মন কোনো বিষয়বস্তুর প্রতি আসক্ত থাকে, তখন তা বন্ধন। আর যখন মন সমস্ত বিষয়ে নিরাসক্ত থাকে, তখন তা মোক্ষ।
অহংবোধ বর্জন (শ্লোক ৮-৪): যখন “আমিত্ব” (অহংজ্ঞান) থাকে না, তখনই মোক্ষ হয়। আর যখন “আমিত্ব” আছে, তখনই বন্ধন।
এই অধ্যায়টি অদ্বৈত বেদান্তের মূল কথা—কামনা বর্জন এবং নিরাসক্ত চিত্তের মাধ্যমে আত্মার স্বরূপে স্থিত থাকাই মুক্তি—তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।।
