স্বাধীনতা সংগ্রামে নামেমাত্র অংশগ্রহণ করে স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতে কয়েক দশক ধরে শাসনক্ষমতা কুক্ষিগত রাখা জহরলাল নেহেরু এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যার কুফল আজও দেশকে ভোগ করতে হচ্ছে । অর্থনীতি থেকে বিদেশনীতি, নেহেরুর অদুরদর্শিতার ফল পরবর্তী সময়ে দেশের জন্য মারাত্মক প্রতিপন্ন হয়েছে । কাশ্মীর ইস্যু জাতিসংঘে নিয়ে যাওয়া, ৩৭০ ধারা, ১৯৬২-র চীন যুদ্ধের প্রস্তুতিহীনতা এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের স্থায়ী সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান—আজও ভারতের ভূ-রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য কুফল হিসেবে বিবেচিত হয় । তাঁর সমাজতান্ত্রিক নীতি ও আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীরগতির করেছিল । তবুও কংগ্রেস আর গান্ধী-নেহেরু পরিবারের কিছু তাঁবেদারের দল নেহেরুকে মহিমান্বিত করতে পিছপা হয় না ৷ আসুন জেনে নেওয়া যাক নেহেরুর এমনই কিছু ‘কুকীর্তি’ সম্পর্কে :
বেলুচিস্তানের পাকিস্থানের অন্তর্ভুক্তি :
১৯৪৮ সালে, বেলুচিস্তানের নবাব নেহেরুকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি লিখে আন্তরিকভাবে অনুরোধ করেন যেন বেলুচিস্তানকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তিনি বলেন: “আমরা ভারতের সঙ্গেই থাকতে চাই।” কিন্তু নেহেরু তা প্রত্যাখ্যান করেন। এর ফল কী হলো? পাকিস্তান অস্ত্রের জোরে বেলুচিস্তান দখল করে নেয়। একবার ভাবুন, এর জন্য আমাদের কী বিপুল মূল্য দিতে হয়েছে।
কোকো দ্বীপপুঞ্জ :
১৯৫০ সালে,নেহেরু কোকো দ্বীপপুঞ্জ (Coco Islands) বার্মাকে উপহার দিয়েছিলেন—। বার্মা পরবর্তীতে তা চীনের কাছে বিক্রি করে দেয়। ফল কী হলো? আজ চীন আমাদের নৌবাহিনীর ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করার জন্য তা ব্যবহার করে এই দ্বীপ ।
নেপাল :
১৯৫০-৫১ সালে, নেপালের রাজা ত্রিভুবন নেপালকে ভারতের সঙ্গে একীভূত করার প্রস্তাব দেন। নেহেরু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। পরে বামপন্থার প্রসার ঘটিয়ে নেপালকে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে শুরু করে চীন ।
বার্মাকে কাবাও উপত্যকা উপহার
১৯৫২ সালে, নিজ স্বার্থে,নেহেরু বার্মাকে ২২,৩২৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকা উপহার দেন। এই অঞ্চলটি কাবাও উপত্যকা(Kabaw Valley) নামে পরিচিত। এটি কাশ্মীরের মতোই সৌন্দর্য ও মনোরম দৃশ্যে পরিপূর্ণ একটি স্থান ছিল। পরে, বার্মা তা চীনের কাছে বিক্রি করে দেয়। ফল কী হলো? আজ চীন আমাদের বিরুদ্ধে নজরদারি চালানোর জন্য সেই স্থানটি ব্যবহার করে।
আকসাই চিন বেদখল
১৯৬২ সালে চীনের সাথে যুদ্ধের সময়, নেহেরু ভারতীয় বিমান বাহিনীর কৌশলগত পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধ পরিচালনা করতে অস্বীকার করেন; পরিবর্তে, তিনি কার্যত আত্মসমর্পণ করেন এবং—একটি ‘উপহার’ হিসেবে—চীনকে ১৪,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা ছেড়ে দেন। এই সংঘাতে ৩,০০০-এরও বেশি ভারতীয় সৈন্য শহীদ হন। এই অঞ্চলটিই আকসাই চিন(Aksai Chin) নামে পরিচিত।
কাশ্মীর ইস্যু ও ৩৭০ ধারা
কাশ্মীর সমস্যা সমাধান না করে ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘে নিয়ে যাওয়া এবং পরে অনুচ্ছেদ ৩৭০ প্রবর্তন, যা দীর্ঘ সাত দশক ধরে উপত্যকায় অস্থিরতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদ জিইয়ে রেখেছিল ।
রাষ্ট্রপুঞ্জের স্থায়ী সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান
১৯৫০ ও ১৯৫৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভারতকে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু নেহরু তা প্রত্যাখ্যান করে চীনকে এগিয়ে দেন । আজ সেই চীন ভারতের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে ।
তিব্বত নীতি
১৯৫৯ সালে তিব্বতকে চীনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, যার ফলে ভারত-চীন সীমান্তে নিরাপত্তার অভাব তৈরি হয় এবং তিব্বতীয় বাফার স্টেট হারিয়ে যায় । আর আজ তীব্বত থেকে ভারতের উপর নজরদারি চালায় চীন ।
গোয়াদার বন্দর হাত ছাড়া করা
১৯৪৭ সালে, ওমান রাষ্ট্র গোয়াদার বন্দরটি ( Gwadar Port) ভারতকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু নেহেরু এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এর ফল কী হলো? পাকিস্তান এটি দখল করে নেয় এবং পরবর্তীতে চীনের কাছে হস্তান্তর করে।
অর্থনৈতিক নীতি (লাইসেন্স রাজ)
সমাজতান্ত্রিক আদলে শিল্প নীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা (License-Quota-Permit Raj) দীর্ঘদিনের জন্য ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর করে দিয়েছিল । সৌজন্যে “চাচা” নেহেরু ।
এছাড়া দেশ স্বাধীনতা লাভের অল্প কিছুদিন পরেই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নেহেরুকে ভারতকে পারমাণবিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য একটি পরিকল্পনা স্থাপনের পরামর্শ দেন; কিন্তু নেহেরু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।।
