এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১০ এপ্রিল : দলীয় পতাকা হাতে আশ্রমে ঢুকে সাধুসন্তদের হেনস্থা করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল কলকাতার ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ৷ ভবানীপুর বিধানসভার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের পদ্মপুকুর এলাকার একটি আশ্রমে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । তার অভিযোগ, কালিঘাট ও আশেপাশের এলাকায় সনাতন ধর্মের প্রচার করা ওই আশ্রমে আগত কিছু সাধুসন্তদের অসম্মান করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয় কাউন্সিলর অসীম বসু তাঁর দুষ্কৃতী বাহিনী । তিনি ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন৷
সেই ভিডিও-তে একজন সাধুকে বলতে শোনা গেছে, “আমি গিয়েছিলাম কালীঘাটে সনাতন ধর্মের প্রচার করতে৷ সেই কারণে ৩-৪ জন সাধুকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে৷ আমাদের কেটে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। বলছে তোমাদের কিসের সনাতন ?’ তিনি বলেন, ” বাবা,আমরা খেয়ে না খেয়ে সনাতনের প্রচার করছি। এখানে আর কোন উদ্দেশ্য নেই আমাদের৷ শুধু আমাদের আত্মরক্ষার জন্য । আমরা হিন্দু হয়েও যদি নিজেকে হিন্দু না বলতে পারি তাহলে এই পশ্চিমবঙ্গে না থাকাই ভালো৷ যে আমাকে হুমকি দিয়ে গেছে, সেও কিন্তু হিন্দু, বাবা ।’
তিনি বলেন, আমার কিছু বলার নেই । আজ আধ ঘণ্টা আগে সাধুগুলোকে তাড়িয়েছে । আমার বলছে যে ভবানীপুরে দাড়িওয়ালা দেখলেই কুচিকুচি করে কাটবে । সব রেকর্ড আছে বাবা । বাবা,জল বন্ধ করে দিয়েছে। ইলেকট্রিক, বন্ধ করে দিয়েছে ।এরপর কি করবো ? তবু আমি বলছি যে ইলেকট্রিক লাগবেনা । জলও লাগবেনা । আমাদের সনাতনের জয় দরকার । সনাতনের জয় যদি করতে না পারি তাহলে আমাদের পশ্চিমবঙ্গে থাকা যাবে না, বাবা ।’
প্রতিক্রিয়ায় শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, বাংলাদেশের তদানীন্তন ইউনূস-সরকারের ছায়া যেন ভবানীপুরে দেখা যাচ্ছে! ভবানীপুরের পদ্মপুকুর এলাকার একটি আশ্রমে আগত কিছু সাধুসন্ত কালিঘাট ও আশেপাশের এলাকায় সনাতন ধর্মের প্রচার করছিলেন। কিন্তু আজ সেখান থেকে তাঁদের অসম্মান করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয় এবং পরে ভবানীপুর বিধানসভার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের ছাপ্পা কাউন্সিলর অসীম বসু তাঁর দুষ্কৃতী বাহিনী নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা হাতে আশ্রমে উপস্থিত হয়ে গেরুয়াধারী সাধুসন্তদের পোশাকের কলার ধরে হুমকি দেন, ভয় দেখান, মোবাইল কেড়ে নেন এবং চোর অপবাদ দিয়ে আশ্রম থেকে বের করে দেন।’
তিনি লিখেছেন,’শুধু তাই নয়, আশ্রমের জল ও বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ করে রাখা হয়।তাহলে কি দাঁড়ালো? ভবানীপুরে কি সনাতন ধর্ম প্রচার করা অপরাধ? মাননীয়া, আপনি কি তাহলে তোষণের রাজনীতির স্বার্থে আপনার লেঠেল বাহিনী ব্যবহার করে হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছেন?’
সবশেষে তিনি রাজ্যের শাসক দলকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন,’হিন্দুবিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস জেনে রাখুন, এই অত্যাচার আর বেশিদিন চলবে না। প্রতিটি অন্যায়ের হিসাব হবে। সনাতনীদের আত্মসম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করুন। হিন্দু সমাজ আর চুপ করে সহ্য করবে না। কথা দিলাম, এবার ৪ঠা মে-র পর প্রতিটি অন্যায়ের হিসাব হবে।’।
