এইদিন ওয়েবডেস্ক,মুর্শিদাবাদ,০৯ এপ্রিল : জনৈক মাসাদুর রহমানের (@MasadurRahman088) ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস । ভিডিওটি জেপিইউ পার্টি সুপ্রিমো হুমায়ূন কবীরের “বিস্ফোরক স্টিং অপারেশন” বলে দাবি করা হচ্ছে । হুমায়ুন কবীরকে “বিজেপির দালাল” আখ্যা দিয়ে তৃণমূল দাবি করছে যে ‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করার জন্য বিজেপি তাকে ১,০০০ কোটি টাকা দিয়েছে’ । তৃণমূলের বিদায়ী মন্ত্রী তো হুমায়ূনকে “নরকের কীট” বলে অবিহিত করেছেন । এদিকে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা(আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রয়োগ করে তৈরি বলে পালটা তোপ দেগেছেন হুমায়ুন । তিনি বিজেপির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার প্রমান চেয়েছেন তৃণমূলের কাছ থেকে এবং দিতে না পারলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন । হুমায়ুন বলেছেন,’প্রমাণ করতে না-পারলে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বদনাম করার উদ্দেশ্যে এআই ভিডিও করার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক, কুণাল ঘোষ, ববি হাকিমের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মানহানীর মামলা করব।’
আজ সকালে তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে ১৯ মিনিটের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয় । তাতে বলা হয় যে ভিডিওটি জনৈক মাসাদুর রহমানের (@MasadurRahman088) ইউটিউব চ্যানেল থেকে নেওয়া । ভিডিওতে হুমায়ুন কবীর ও বিজেপির মধ্যে গোপন আঁতাঁতের অভিযোগ তোলা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে তিনি বিজেপিকে সমর্থন করবেন এবং বিনিময়ে ১০০০ কোটি টাকার ‘ডিল’ হয়েছে। ভিডিওটিতে শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে হিমন্ত বিশ্বশর্মাদের নামও উঠে এসেছে। তৃণমূলের দাবি, ধর্মীয় আবেগ কাজে লাগাতে হুমায়ুন বাবরের নামে মসজিদ তৈরির নাটক করছেন ।
এই ভিডিও সামনে আসতেই পালটা তোপ দেগেছেন হুমায়ুন কবির৷ তাঁর দাবি,’রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে তৃণমূল ।’ ভিডিওটি এআই দিয়ে বানানো বলে দাবি করে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন,’১০০০ কোটি তো দূর, ১ কোটি টাকারও ডিল হয়েছে এমন প্রমাণ যদি তৃণমূল দেখাতে পারে, তবে তিনি সমস্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন। আর যদি প্রমাণ না মেলে, তবে মিথ্যা বদনাম দেওয়ার জন্য হাইকোর্টে যাবেন তিনি। মুসলিম ভোটব্যাংক হারানোর ভয়েই তৃণমূলের এই প্রকার অপপ্রচারের রাস্তায় নেমেছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি৷
এদিকে ওই ভিডিও-কে ইস্যু করে কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক পর্যন্ত করেছেন কুণাল ঘোষ, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসরা । তারা বিজেপির সঙ্গে হুমায়ূন কবীরের ‘গোপন আঁতাত’ প্রমান করার মরিয়া চেষ্টা চালান । যাতে মুসলিম ভোটব্যাংককে ফের ফিরিয়ে আনা যায় । এখন দেখার বিষয় রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ কাজে বিশ্বাস করে …. তৃণমূল নাকি হুমায়ূন ?
