এইদিন ওয়েবডেস্ক,কেতুগ্রাম(পূর্ব বর্ধমান),০৮ এপ্রিল : ভাগিরথীতে বেআইনিভাবে বালি তুলতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল দুই শ্রমিকের । নদী থেকে বালি তোলার কাজ সম্পন্ন হলেও অতিরিক্ত ভারে নৌকা উলটে গিয়ে তাদের এই মর্মান্তিক পরিনতি হয় । আজ বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটা নাগাদ এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামের শাঁখাই ঘাটের কাছে । মৃতরা হলেন,কানাই মণ্ডল (৫২) এবং গণেশ মণ্ডল (৫১)। তাঁদের বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার লালবাগ থানার আজাদ হিন্দ বাগ এলাকায় । তারা পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। কাজ না থাকায় তারা মুর্শিদাবাদ জেলার বালি মাফিয়ার হয়ে রাতের অন্ধকারে বালি তোলার কাজ করতেন বলে জানা গিয়েছে। এদিকে দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য রুখতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে ।
পূর্ব বর্ধমান মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলার সীমান্ত বরাবর প্রবাহিত হয়েছে ভাগিরথী নদী । মুর্শিদাবাদের অন্যপ্রান্তে পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের শাঁখাই গ্রামের কাছে অজয় নদ ও ভাগীরথী নদী মিলিত হয়েছে । শাঁখাই গ্রামের নদী ঘাটে বালির পরিমান সর্বদা বেশি থাকে । যেকারণে শাঁখাই ঘাটের দিকে সর্বদা নজর থাকে মুর্শিদাবাদের বালি মাফিয়াদের । মাফিয়ারা রাতের অন্ধকারে বালি তোলার কাজ করত । লোভনীয় মজুরির টোপ দিয়ে শ্রমিক ভাড়া করে নিয়ে আসে মাফিয়ারা। শ্রমিকরা সেই প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী থেকে বালি তোলার কাজ করে । আর অভাবের তাড়নায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেতুগ্রামের শাঁখাই ঘাটে বালি তুলতে এসে বেঘোরে প্রাণ হারাতে হল লালবাগ থানার আজাদ হিন্দ বাগ এলাকার দুই শ্রমিক কানাই মণ্ডল এবং গণেশ মণ্ডলকে ।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে,আজ ভোর রাতে একটি নৌকায় চড়ে মাঝি সহ ১১ জন মিলে শাঁখাই ঘাটে বালি তুলতে এসেছিল । ভোর পাঁচটা নাগাদ তারা ফিরে যাচ্ছিল ৷ কিন্তু ভিজে বালি এবং অতগুলো মানুষের ভারে নৌকাটি শাঁখাই পোস্ট অফিস ঘাটের কাছে আসতেই উল্টে যায় । বাকিরা সাঁতরে পাড়ে উঠে এলেও দুজন চাপা পড়ে । তাঁদের মধ্যে একজনের শরীর নৌকার তলার দিকে পাখার ব্লেডে কেটেও যায় । সেই সময় নদীর পাড়ে থাকা কয়েকজন মাঝি ও স্থানীয় লোকজন জলে নেমে দুজনকে উদ্ধার করেন। কিন্তু তার আগেই তাদের মৃত্যু হয় ।
উল্লেখ্য এই ঘটনার মাস চারেক আগে কেতুগ্রামের কল্যাণপুর ঘাটের কাছে মুর্শিদাবাদের বালি মাফিয়াদের হয়ে বেআইনিভাবে বালি তুলতে এসে নৌকা উল্টে জেলার ভরতপুর এলাকার বাসিন্দা দুর্লভ রাজবংশি নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয় । তারপরে আজ ফের জোড়া শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল । বারবার একই জায়গায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও কেতুগ্রাম থানার পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে ।।
