এইদিন ওয়েবডেস্ক,ভাতার(পূর্ব বর্ধমান),০৫ এপ্রিল : ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই এরাজ্যে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ । ভোটারদের আকর্ষিত করার জন্য নেতানেত্রীরা অকথা কুকথাও বলতে দ্বিধাগ্রস্ত হচ্ছেন না । আজ রবিবার মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জে নির্বাচনী জনসভায় খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি “মোটা ভাই” অমিত শাহকে নিশানা করতে গিয়ে “শালা” শব্দ প্রয়োগ করেন । যা নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । কিন্তু ঠিক তার কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে শুভেন্দুর দল বিজেপির এক নেতার মুখ থেকে বেরিয়ে এলো এমন কিছু কথা যার তীব্র প্রতিবাদ করেছে তৃণমূল ৷ পূর্ব বর্ধমান জেলার এক বিজেপি নেতা তৃণমূলকে “কালসাপ” আখ্যা দিয়ে হুমকির সুরে বলেছেন,’যারা মা- বোনেদের ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে, তাদের ধর্ষণ যন্ত্র কেটে বাড়ির সামনে ঝুলিয়ে দিয়ে আসব ।’
আসলে,বৃহস্পতিবার। ভাতারের সেলেণ্ডা গ্রামে দলের পতাকা লাগাচ্ছিলেন কয়েকজন বিজেপি কর্মী। ছিলেন বিজেপির ভাতার ৩ নম্বর মণ্ডল সভাপতি স্নেহময় কুণ্ডু। বিজেপির অভিযোগ ওইসময় বিজেপি নেতার উপর হামলা চালায় তৃণমূলের লোকজন । ওই ঘটনার প্রতিবাদে আজ রবিবার সন্ধ্যায় ভাতার বাজারে কামারপাড়া মোড়ে জমায়েত করেছিল বিজেপি। উপস্থিত ছিলেন ভাতার বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সৌমেন কার্ফা ও “ধর্ষণ যন্ত্র কেটে নেওয়া”র হুমকি দেওয়া বিজেপির জেলার নেতা প্রবাল রায় সহ অনান্যরা ।
প্রবাল রায় বলেন, আমরা মাতৃশক্তিতে বিশ্বাস করি।শক্তির জন্য মাকালী ও দুর্গাপুজো করি,বিদ্যার জন্য সরস্বতীর আরাধনা করি আর টাকা পয়সা ও আর্থিক সহয়তার জন্য লক্ষ্মীর পুজো করি।যারা মায়েদের ধর্ষণের ভয় দেখাচ্ছে আমি তাদের বলি বাড়ি গিয়ে ধর্ষণের যন্ত্র কেটে ঝুলিয়ে দিয়ে আসব ।”
বিজেপি নেতার বক্তব্য শুনুন 👇
তবে আজ একই সময়ে ভাতারে মিছিল করে তৃণমূল । ভাতারের বিজেপি প্রার্থী সৌমেন কার্ফা বক্তব্য রাখছিলেন তখন তৃণমূল কংগ্রেসের পথসভা শেষ করে তৃণমূলকর্মীরা মিছিল করে কামারপাড়া মোড়ের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। তৃণমূলের মিছিল আসতে দেখেই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির জমায়েতের সামনে ব্যারিকেড করে দেয়। আর তৃণমূল কংগ্রেসের মিছিল থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উঠতে থাকে। বিজেপির কর্মী সমর্থকরাও ততধিক জোরে ‘জয় শ্রীরাম ‘ স্লোগান দিতে শুরু করেন। ফলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। যদিও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পথসভায় প্রবাল রায় দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন,”আপনাদের অনুরোধ করছি যে আপনারা রাস্তা থেকে একটু সরে দাঁড়ান । আর কিছুক্ষণের মধ্যে ওই দুর্বৃত্তরা মিছিল শেষ করলে আমরা এখান থেকে বের হবো । না হলে আমরা বেরোবো না । ওদেরকে বিশ্বাস নেই । কাল সাপ কে বিশ্বাস করা যায়, তবু তৃণমূলকে বিশ্বাস করা যায় না ।” অঅন্যদিকে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন,”বিজেপি হাথরসের কথা ভুলে গেছে,ধর্ষণকারীর গলায় মালা পরিয়ে সম্বর্ধনা দেওয়ার ঘটনা সবাই জানে । তাদের মুখে ধর্ষণের কথা শোভা পায় না ।”
