এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,০২ এপ্রিল : বুধবার সকাল থেকে গভীর রাত অব্দি ৩ মহিলাসহ ৭ বিচারককে কালিয়াচক-২ বিডিও অফিসে বন্দি করে রেখে বিক্ষোভ দেখানো হয় ৷ এই ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট । আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলার শুনানি হয় । শুনানিতে কালিয়াচক-২ বিডিও অফিসে ৭ বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা পনবন্দি করে রাখার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শীর্ষ আদালত পুরো ঘটনাটিকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি “পূর্বপরিকল্পিত, সুপরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” প্রচেষ্টা বলে আখ্যা দিয়েছে। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী অ্যাডভোকেট জেনারেলকে বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত, আপনাদের রাজ্যে সবাই সবকিছু রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে। এটি সবচেয়ে বিভক্ত রাজ্য। আমরা জানি না গোলযোগ সৃষ্টিকারী কে। আমি রাত ২টা পর্যন্ত সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছিলাম। খুবই দুর্ভাগ্যজনক।”
এই ঘটনাকে একটি “নির্লজ্জ প্রচেষ্টা” আখ্যা দিয়ে আদালত বলেছে, “গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনরত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে এবং মানসিক ভীতি সৃষ্টি করতে আমরা কাউকে অনুমতি দেব না ।” পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে দিয়েছে যে এই ধরনের কাজ ফৌজদারি আদালত অবমাননার শামিল হতে পারে।
আদালত মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ডিজিপি এবং জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এবং জানতে চেয়েছে যে, আগে থেকে তথ্য থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও নিরাপদ অপসারণ নিশ্চিত করার জন্য কেন সময়মতো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
প্রকৃতপক্ষে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে নাম বাদ পড়া মুসলিম ভোটাররা মালদার কালিয়াচক-২ বিডিও অফিসে সাতজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে প্রায় আট ঘণ্টা পনবন্দি করে রেখেছিল। পুরো ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর আখ্যা দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আপস গ্রহণযোগ্য নয়। আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়াল করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট কপিল সিব্বাল ও সিনিয়র অ্যাডভোকেট মেনকা গুরুস্বামী ।।
