এইদিন ওয়েবডেস্ক,উত্তরপ্রদেশ,২৪ মার্চ : অভিযোগ জানাতে আসা ধর্ষণের শিকার নারীকে যৌন মিলনের প্রস্তাব দেওয়া উত্তর প্রদেশের আলিগড়ের কোয়ার্সি থানার অন্তর্গত নাগলা পাটোয়ারি পুলিশ ফাঁড়ির হেড কনস্টেবল ইমরান খানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার । ভুক্তভোগীর কাছে অশ্লীল ছবি চাওয়ার এবং তার ওপর অনৈতিক সম্পর্ক গড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগে গ্রেফতারের পর ইমরানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।এসএসপি নীরজ কুমার জাদৌনের নির্দেশে পরিচালিত একটি তদন্তে ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো প্রমাণিত হওয়ার পরেই তার বিরুদ্ধে এই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ঘটনাটির সূত্রপাত হয় যখন জামালপুরের বাসিন্দা ওই মুসলিম মহিলা তার প্রেমিক জিশানের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের একটি এফ আই আর দায়ের করতে নাগলা পাটোয়ারি পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়েছিলেন । মহিলার অভিযোগ যে জিশান তাকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে গেলেও বিয়ে করতে অস্বীকার করছে । তদন্তের অজুহাতে ইমরান ওই ভুক্তভোগীকে পুলিশ ফাঁড়িতে ডেকে পাঠান এবং পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপ কলের মাধ্যমে তাকে হয়রানি করতে শুরু করেন। অভিযুক্ত ইমরান ওই ভুক্তভোগীকে তার মামলার বিষয়ে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবং ঈদের জন্য পোশাক কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে যান।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কনস্টেবল ইমরান খান একটি হোয়াটসঅ্যাপ কলের সময় অত্যন্ত আপত্তিকর কিছু মন্তব্য করেন। তিনি ভুক্তভোগীকে জানান যে তিনিও একজন মুসলমান; এ কথা বলে তিনি তাকে ঈদের পোশাক কিনে দেওয়ার এবং “নাস্তা” করানোর প্রস্তাব দেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি শর্ত জুড়ে দেন: তিনি অপর অভিযুক্ত—জিশানকে—জেলে পাঠাবেন এবং তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন কেবল তখনই, যদি ভুক্তভোগী তার সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। অধিকন্তু, ওই কনস্টেবল ভুক্তভোগীকে শপথ করিয়ে হুমকি দেন যেন তিনি এই বিষয়টি অন্য কারো কাছে প্রকাশ না করেন; তিনি সতর্ক করে দেন যে, যদি এই ঘটনার বিস্তারিত ফাঁস হয়ে যায়, তবে তিনিই বরং তাকে জেলে পাঠাবেন।
কিন্তু সাহস সঞ্চয় করে, ভুক্তভোগী অভিযুক্ত কনস্টেবলের অশ্লীল মন্তব্যের একটি রেকর্ডিং এসএসপি নীরজ কুমার যাদৌনের হাতে তুলে দেন। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে, এসএসপি তদন্তের দায়িত্ব সিও সর্বম সিংয়ের ওপর ন্যস্ত করেন।তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির পরপরই ইমরান খানকে অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং কোয়ার্সি থানাতেই তাঁর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয় । কিন্তু হেড কনস্টেবল ইমরান খান পালিয়ে যায় । অবশেষে তাকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হলে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক ।।
