এইদিন স্পোর্টস নিউজ,২৩ মার্চ : পাকিস্তান সুপার লিগের (PSL) ২০২৬ মরশুম এখন এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (TTP) সাথে সম্পৃক্ত একটি গোষ্ঠী—’জামাত-উল-আহরার’—আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের সরাসরি হুমকি দিয়েছে, যার ফলে এই টুর্নামেন্টটি নিয়ে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ ছেয়ে গেছে । জামাত-উল-আহরার ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভ স্মিথ এবং ড্যারিল মিচেলের মতো আন্তর্জাতিক তারকাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, পিএসএল-এ অংশ নিতে তারা যেন পাকিস্তানে না যান।
এই সন্ত্রাসী সংগঠনটি জানিয়েছে যে, খেলোয়াড়দের উচিত “অবিলম্বে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানো,” কারণ তাদের নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। জামাত-উল-আহরারের একজন কমান্ডার “দ্য সানডে গার্ডিয়ান*”-কে বলেন, “আমরা এই ইভেন্টের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল ক্রিকেট বোর্ডকে পরামর্শ দিতে চাই যে, তারা যেন তাদের খেলোয়াড়দের পাকিস্তানে না পাঠায়। যদি তাদের কোনো ক্ষতি হয়, তবে আমরা তার জন্য দায়ী থাকব না। আমরা ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা জারি করেছি।”
ওই কমান্ডার আরও যোগ করেন, “ম্যাচগুলো যাতে অনুষ্ঠিত হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে আমরা আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করব। টুর্নামেন্টটি ব্যাহত করতে এবং খেলোয়াড়দের মাঠে নামা থেকে বিরত রাখতে আমরা সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাব।” সংগঠনটি এও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ক্রিকেট খেলার প্রতি তাদের কোনো বিদ্বেষ নেই; তবে তাদের দাবি—পাকিস্তানের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য অনুকূল নয়।
প্রসঙ্গত,চলতি বছরে পিএসএল-এ অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভ স্মিথ এবং অ্যাডাম জাম্পা-সহ বেশ কয়েকজন হাই-প্রোফাইল আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় অংশ নেবেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ডের মঈন আলী এবং নিউজিল্যান্ডের ডেভন কনওয়েও এই তালিকায় রয়েছেন। যদিও পিসিবি ইতিমধ্যেই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলোর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে এই হুমকিগুলোকে দায়ী করা হয়নি। আসরটি ২৬শে মার্চ শুরু হচ্ছে এবং এখন সবার নজর পিসিবি ও আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের দিকে।
যদিও, এই হুমকিগুলো প্রকাশ্যে আসার আগেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) টুর্নামেন্টের কাঠামোতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিল। বোর্ড ঘোষণা করেছে যে, ২০২৬ সালের পিএসএল মাত্র দুটি শহরে অনুষ্ঠিত হবে এবং তা হবে রুদ্ধদ্বার পরিবেশে—অর্থাৎ কোনো দর্শক ছাড়াই। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভির মতে, সরকারের সাথে পরামর্শ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকেই এই পদক্ষেপের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।।
