এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৩ মার্চ : গতকাল অহীন্দ্র মঞ্চে মমতা-অভিষেকের বৈঠকে ছিলেন ভবানীপুরের তৃণমূল কাউন্সিলরেরা। ছিলেন ব্লক স্তরের নেতানেত্রীরাও। সূত্রের খবর, সেখান থেকে ভবানীপুরে জয়ের ব্যবধানের ‘৬০ হাজার টার্গেট’-ও বেঁধে দেন অভিষেক । কাউন্সিলরদের আলাদা বার্তাও দেন মমতা । প্রতিক্রিয়ায় আজ সোমবার কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু বলেছেন,”৫১ হাজার তো চলে গেছে ।” তবে এদিন “মমতাকে ভবানীপুরে হারাবই” চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেননি তিনি ।
এবারের বিধানসভার ভোটে গোটা দেশের নজর থাকবে কলকাতার ভবানীপুর আসনের দিকে । কারন এখানে শাসকদল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি বনাম বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী লড়াই হবে । ইতিমধ্যে একাধিক মঞ্চ থেকে মমতা ব্যানার্জিকে হারানোর অঙ্গীকার করেছেন শুভেন্দু অধিকারী । সেই কারনে গতবারের পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনের মতই এবারে ভবানীপুর আসনে শাসক- বিরোধী দু’দলের কাছেই ‘প্রেস্টিজ ফাইট’ । তাই এই আসনের জন্য স্পেশাল রনকৌশল তৈরি করছে দু’দলই৷ রবিবার সন্ধ্যায় ভবানীপুরের নির্বাচনী কর্মিসভা ডেকেছিলেন মমতা। ছিলেন অভিষেকও। দ্বিমুখী দিক থেকে ভবানীপুরের তৃণমূল কর্মীবাহিনীকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মমতা -অভিষেক।দলীয় নেতাকর্মীদের শিথিলতা, নিষ্ক্রিয়তা, আত্মতুষ্টিতে না-ভুগে কাজ করার বার্তা দেন অভিষেক । অবিষেক নির্দেশ দিয়েছেন, কলকাতার মধ্যে ‘ফার্স্টবয়’ করতে হবে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে। অন্তত ৬০ হাজার ভোটে জেতাতে হবে তৃণমূলনেত্রীকে। আর সে ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে হবে কর্মীদেরই।
অভিষেকের এই নির্দেশের বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে শুভেন্দু বলেন,”উপনির্বাচন কিভাবে হয়েছে সবাই জানে । উপনির্বাচনের পরে তো লোকসভার ভোট হয়েছে । ৫৮ তো আর ৫৮ নেই । ব্রেকফাস্টে ৪৫ হাজার গেছে । লাঞ্চে গেছে দু হাজার, ৪৭ হাজার । তারপর গেছে ৪ হাজার৷ ৫১ হাজার তো চলে গেছে ।” অর্থাৎ তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে এবারের ভোটে ভুয়ো ভোটারকে কাজে লাগিয়ে জেতার সম্ভাবনা নেই।
সেই সাথে নন্দীগ্রামেও জেতার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু অধিকারী । তিনি বলেন,”২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের ফলাফল নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, গতবারে মমতা ব্যানার্জি অনেক আশা ভরসা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন । কিছু ভোটার বিভ্রান্ত হয়েছিল । আমি সবে বিজেপিতে গিয়েছিলাম সংগঠন তৈরি করতে পারিনি । ১৭ টা গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে আমার হাতে মাত্র একটা গ্রাম পঞ্চায়েত ছিল । ষোলটা পঞ্চায়েতে তৃণমূলের ছিল আমি সবাইকে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে নিয়ে যেতে পারিনি । আজকে আমি একটা সলিড সাংগঠনিক বেসের উপর দাঁড়িয়ে । ব্যাপক জনাধারের উপর দাঁড়িয়ে আছি । পার্টি আমাকে প্রতিদ্বন্দ্বিত করার সুযোগ দিয়েছে । তাই সিপিএম, তৃণমূল, বিজেপি এসব তর্কে আমি যাব না । নন্দীগ্রামের মানুষ গতবারে ইভিএম-এ মূলত তিনটে নাম দেখেছিল । একটা অধিকারী শুভেন্দু সিরিয়াল নাম্বার ওয়ান । একটা মমতা ব্যানার্জি সিরিয়াল নাম্বার টু । আর একটা মীনাক্ষী বোন সিরিয়াল নাম্বার থ্রি। তিনজনকে লোক দেখেছে । দিয়ে এক লাখ দশ হাজার ভোট আমাকে দিয়েছিলেন । এক লাখ ৮ হাজার মমতা ব্যানার্জি কে দিয়েছিলেন । ৬২০০ ভোট মীনাক্ষী মুখার্জিকে দিয়েছিলেন ।”
শুভেন্দু বলেন,”এবারে ইভিএম এর চারটি নাম এসে গেছে । একটা পদ্মফুল প্রতীকে শুভেন্দু অধিকারী । একটা পবিত্র কর ঘাসের উপর জোড়া ফুল প্রতীকে । আর একটা শান্তি গিরি কাস্তে ধান শীষের প্রতীকে । আর একটা আজকে আইএসএফ দিয়েছে একজন শিক্ষককে। ইভিএম এই চারটি নাম থাকবে । লোক যাকে যোগ্য মনে করবে তাকে ভোট দেবে । আপনাদের অত বিচলিত হওয়ার কারণ নেই । শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্নকর্তাকে বলেন, আপনি যদি নন্দীগ্রামে ভোটার হতেন এবং এই চারটি নাম দেওয়া হতো, তাহলে আপনি ঠিক বিচারই করতেন ।”
