এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,২১ মার্চ : ঈদের নামাজের পরেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়াল বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গার দুই গ্রামের লোকজন । শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া তিন ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হন। এই সময় অন্তত ৪০টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। ঈদুল ফিতরের নামাজের পরই উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের ছোট হামিরদী গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন লিটন মাতুব্বর এবং গোপীনাথপুর গ্রামের কুদ্দুস মুন্সী, হাসান মুন্সীর লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষ শুরু হয় বলে জানা গেছে । আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে ওবায়দুর রহমান নামের একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, ছোট হামিরদী গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন লিটন মাতুব্বরের সঙ্গে গোপীনাথপুর গ্ৰামের কুদ্দুস মুন্সী, হাসান মুন্সীদের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে অনেক দিন ধরে বিরোধ চলছে। ১৯ মার্চ রাতে চা খাওয়াকে কেন্দ্র করে বচাসা থেকে একপ্রস্ত সংঘর্ষ হয় ।
আজ ঈদের নামাজের পর সাজ্জাদ পক্ষের এক নারীর সঙ্গে কুদ্দুস মুন্সীর পক্ষের এক যুবকের টিকটক ভিডিও বানানো নিয়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের উপর হামলা চালায় । এ সময় কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় কার্যত রনক্ষেত্রের চেহেরা নেয় । চলে দেদার গোলাগুলি । তারই মাঝে ৪০টি বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট করা হয়। সংঘর্ষের সুযোগে ১২টি গরু লুটপাট করে নিয়ে যায় দুষ্কৃতকারীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
এই বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি ফোর্স ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে (ভাঙ্গা সার্কেল) সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। পরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে গ্ৰামের মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনও কোনও পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।।
