শ্যামসুন্দর ঘোষ,কাটোয়া(পূর্ব বর্ধমান),২১ মার্চ : শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে প্রথমে ঝড় শুরু হয় । তারপর শুরু হয় মুশলধার বৃষ্টি । তার সঙ্গে চলে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি ৷ ঘন্টা পাঁচেক স্থায়ী হয় এই দুর্যোগ । আর এই সময়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া-২ ব্লকের পলসোনা অঞ্চলের অন্তত ১০ টি গ্রাম মিলে দেড় হাজারের অধিক পিঁয়াজ ও ধান চাষিকে কার্যত পথে বসিয়ে দিয়েছে । ধান গাছগুলি গর্ভবস্থায় ছিল । কিন্তু শিলাবৃষ্টির ফলে থোড় (Panicle Initiation) আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় আর ফলন হবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যদিকে প্রবল বৃষ্টিপাতে জমি জলের তলায় চলে যাওয়া অকালেই পিঁয়াজ তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা । ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে চাষিদের । পলসোনা অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বীরবল মণ্ডল জানিয়েছেন,শষ্যবীমার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা যাতে ক্ষতিপূরণ পান সেই চেষ্টা করবেন তিনি।
জানা গেছে,পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া-২ ব্লকের পলসোনা অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে খড়ি নদী । নদী সংলগ্ন হওয়ায় এটি মূলত কৃষি প্রধান এলাকা । আওড়িয়া,কোয়ারা,পলসোনা, কোয়ারা ডাঙ্গা প্রভৃতি গ্রাম মিলে অন্তত ১০ টি গ্রামের মানুষের জীবিকা নির্বাহ হয় মূলত কৃষিকাজ থেকে । এক একজন চাষি প্রতি বছর ধান ও পিঁয়াজ মিলে ২০-৩০ বিঘা জমিতে চাষবাস করেন । এজন্য তাদের অধিকাংশ জনকে কৃষিঋণ নিতে হয় বলে জানিয়েছেন চাষিরা । উৎপন্ন ফসল বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করে তাদের সারা বছরের সংসার খরচ চলে । এবারে পলসোনা অঞ্চল জুড়ে আনুমানিক ৫০০০ একর ধান ও ১০০০ একর পিঁয়াজ চাষ হয়েছিল বলে জানান স্থানীয় তৃণমূল নেতা বীরবল মণ্ডল ।
তিনি বলেন,’গতকাল রাতে প্রচন্ড শিলাবৃষ্টি এবং ৫-৬ ঘন্টা ধরে বৃষ্টি হয়েছে । যেকারনে পলসোনা অঞ্চলের আউড়িয়া, কোয়ারা, পলসোনা প্রভৃতি একাধিক গ্রামের চাষিরা যে পিঁয়াজ চাষ করেছিলেন সব জলের তলায় চলে গেছে । যেহেতু এলাকাটি নদী তীরবর্তী , তাই বোরো ধানের চাষ হয়। ধানের থোর এসেছিল এবং কয়েকদিন পরেই শিষ বের হওয়ার কথা । ধান জমিও জলের তলায় চলে গেছে । আমার অনুমান ধানের শিষ বের হওয়ার পর সাদা হয়ে যাবে। অর্থাৎ শিষে আর ধান থাকবে না । এটা একটা ব্যাপক ক্ষতি ।’ তিনি বলেন,’প্রশাসনের উচিত কৃষকদের পাশে থাকা । আমরা কাটোয়া-২ এডিএ-কে বিষয়টি জানাব, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ফসলবীমার টাকা পায় ।’
আজ শনিবার সকালে দেখা গেল পলসোনা গ্রামের কৃষকরা প্লাবিত জমিতে নৌকা করে অপরিপুষ্ট পিঁয়াজ তুলে ফেলছেন চাষিরা । সেই পিঁয়াজ তারা বস্তা বন্দি করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন । স্থানীয় চাষি মান্নান হোসেন, লিয়াকত শেখ,বেচারাম ঘোষরা কেউ ২০-৩০ বিঘা করে ধান এবং ১০ কাঠা থেকে এক বিঘা করে পিঁয়াজ চাষ করেছিলেন । সেই সমস্ত জমি এখন জলের তলায় । তারা বলেন,’কিভাবে ঋণ শোধ করব,আর কিভাবে সারা বছর সংসার চালাব জানিনা ।’।
