এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২১ মার্চ : ২০২৬ সালের বিধানসভার ভোটে কলকাতার ভবানীপুর আসনের ফলাফলের উপর শুধু এরাজ্য নয়,গোটা দেশের নজর থাকবে । কারন ২০২১ সালের বিধানসভার ভোটে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রামের পর ফের একবার সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । শুভেন্দু হুঙ্কার দিয়েছেন যে ফের তিনি মমতাকে হারাবেন । নিজের প্রতিজ্ঞাপূরণ করতে নন্দীগ্রামের থেকে বেশি ভবানীপুরে বেশি প্রচারে নজর দিতে দেখা যাচ্ছে তাকে । আজ শনিবার ভবানীপুরে কার্যত দাপিয়ে বেড়ালেন বিরোধী দলনেতা । সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বললেন : “ভয় পেয়েছে মমতা, জেনে গেছে জনতা” ।
আজ প্রথমেই কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে যান শুভেন্দু অধিকারী । পূজো দিয়ে ফিরে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন । পরে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া ৮ জন প্রবীন বিজেপি নেতার বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাক্ষাৎ করেন । সেখান থেকে ফিরে এসে ভবানীপুর বিধানসভার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে ভোলা গিরি আশ্রমে সাধু সন্তদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং মন্দিরে পূজো দেন । শুভেন্দুকে কাছে পেয়ে সাধু সন্তদের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মত ।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এখন তো কিছুই হয়নি৷ এখনো তো অনেক বাকি । আজকের সবেমাত্র ২১ তারিখ । ভয় পাচ্ছে৷ ভয় পেয়েছে মমতা, জেনে গেছে জনতা ।” তিনি বলেন,”ভারতীয় জনতা পার্টি মমতা ব্যানার্জিকে হারাতে চায়, ভবানীপুরের মানুষকে পরিত্রান দিতে চায়, এখানে ভয়ভীতি মুক্ত করতে চায়, সেই কারণে বিরোধী দলনেতাকে এখানে পাঠিয়েছে । মোদিজীর সৈনিক হিসেবে আমি এখানে এসেছি বিজেপির প্রার্থী হিসেবে । এই রাজ্যের কুশাসন-অপশাসন-অত্যাচার- তোষণ-দুর্নীতি, সবকিছুর যিনি কর্ণধার মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে পরাস্ত করার জন্য আমাকে এখানে পাঠানো হয়েছে ।”
তিনি বলেন,”শুধু জনতা জনার্দনের কাছে প্রার্থনা করব ২০১৪ সালে অল্প ভোট হলেও বিজেপিকে এগিয়ে রেখেছিলেন, বিভিন্ন কারণে আপনার এখানে গণতন্ত্রের পরিবেশ পাননি । সকালবেলা যদি বৃষ্টি পড়ে এবং আপনারা যদি ভোট কেন্দ্রে যান, আপনারা কি করবেন আমার সেটা জানা আছে । আমি নিশ্চিত, আমার পুরো ভরসা রয়েছে ।” শুভেন্দুকে ঘিরে সাধারণ মানুষের উৎসাহ দেখে এদিন তাকে যথেষ্ট উৎফুল্ল ও আত্মবিশ্বাসী দেখা যায় ।
মমতা ব্যানার্জির ১০,প্রতিজ্ঞা “ঢপের চপ”
গতকাল দলীয় ইস্তাহার প্রকাশ করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি । যেখানে “দুয়ারে চিকিৎসা” প্রকল্পের আওতায় প্রতি ব্লকে চিকিৎসা পরিষেবা ক্যাম্প করা সহ ১০ টি “প্রতিজ্ঞা” করেছেন । মুখ্যমন্ত্রীর এই “১০ প্রতিজ্ঞা”কে “ঢপের চপ” আখ্যা দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা । তিনি বলেন,”সব ঢপের চপ । এক ঝুড়ি মিথ্যা । বিজেপি ক্ষমতায় আসছে এবং নজরুল মঞ্চে প্রথম মিথ্যাশ্রী পুরস্কারটা আমরা তৈরি করে রাখছি মাননীয়ার হাতে তুলে দেব ।’।
