এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২১ মার্চ : প্রবল জনরোষের মুখে পড়ে আমেরিকা থেকে পালাতে বাধ্য হলেন নিহত ইরানি নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানির(Ali Larijani) কন্যা ফাতেমেহ আরদেশির লারিজানি (Fatemeh Ardeshir Larijani) ও ভাইঝি জাহরা মোহাগেগ দামাদ( Zahra Mohaghegh Damad) । দিন কয়েক আগেই তেহেরানে ইসরায়েলের বিমান হামলায় মৃত্যু হয় আলী লারিজানির । প্রবল আমেরিকা বিরোধী লারিজানি ছিলেন ইরানি বিক্ষোভকারীদের গণহত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ।
তার মেয়ে ফাতেমেহ আরদেশির লারিজানি (Fatemeh Ardeshir Larijani) ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত জর্জিয়ার এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ে (Emory University in Georgia) হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।তিনি একটি মর্যাদাপূর্ণ মার্কিন প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন নেওয়ার পাশাপাশি আমেরিকান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পড়াতেন, আর ঠিক সেই সময়েই তার বাবা এমন একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, যেটিকে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে । ইরানে ফিরে আসার আগে ফাতেমেহ আরদেশির লারিজানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইরানি ঐক্যের প্রশংসা করেন । যেকারণে তাকে প্রবল জনরোষের মুখে পড়ে আমেরিকা ছাড়তে বাধ্য হতে হয় ।
ক্রমাগত জনরোষ, ক্যাম্পাস বিক্ষোভ এবং মার্কিন কংগ্রেসম্যান বাডি কার্টারের (Buddy Carter) সরাসরি চাপের পরেই তিনি তার পদ হারান। কার্টার সঠিকভাবেই ইরানের শাসকগোষ্ঠীর একজন শীর্ষ কট্টরপন্থীর সন্তানকে আমেরিকান শিক্ষাঙ্গনে যুক্ত রাখার সুস্পষ্ট জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। এখন জাতীয়তাবাদী মার্কিন নাগরিকরা প্রশ্ন তুলেছেন : ফাতেমেহ আরদেশির লারিজানি কীভাবে আমেরিকায় আশ্রয় পেলো ? একজন ইরানি নিরাপত্তা প্রধানের মেয়ে—যার সরকার “আমেরিকার ধ্বংস হোক” স্লোগান দেয় এবং মার্কিন স্বার্থে হামলায় অর্থায়ন করে—কীভাবে আমেরিকার মাটিতে গ্রিন কার্ড, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি এবং করদাতাদের টাকায় শিক্ষকতার চাকরি পেল? মার্কিনদের অভিযোগ, সে আমাদের স্বাধীনতা, সুযোগ-সুবিধা এবং অভিজাত প্রতিষ্ঠানগুলো উপভোগ করেছে, আর ঠিক যখন শাসকগোষ্ঠীর প্রচারণার জন্য একটি উপকরণের প্রয়োজন হলো, তখনই সে দেশে পালিয়ে গেল।
উল্লেখ্য,তবে শুধু ফাতেমেহ আরদেশির লারিজানি মার্কিন উচ্চপদে কর্মরত থেকে সর্বোচ্চ সুযোগসুবিধা ভোগ করেনি । তার খুড়তুতো দিদি জাহরা মোহাগেগ দামাদও ( Zahra Mohaghegh Damad) সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগ করছিলেন । জাহরা মোহাগেগ ইলিনয় আরবান-শ্যাম্পেইন বিশ্ববিদ্যালয় (UIUC)-এর নিউক্লিয়ার, প্লাজমা এবং রেডিওলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন অধ্যাপক এবং ডোনাল্ড বিগগার উইলেট ফ্যাকাল্টি স্কলার । তিনি UIUC-এর সোশিও-টেকনিক্যাল রিস্ক অ্যানালাইসিস (SoTeRiA) গবেষণা পরীক্ষাগারের পরিচালক ছিলেন ।
জাহরা মোহাগেগ দামাদ( Zahra Mohaghegh Damad) হলেন আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোস্তফা মোহাগেগ দামাদ (Seyed Mostafa Mohaghegh Damad) এবং ফাজেলেহ আরদেশির লারিজানির (Fazeleh Ardeshir Larijani)কন্যা। তিনি লারিজানি ভাইদের, যাদের মধ্যে আলি লারিজানি এবং সাদেক আমোলি লারিজানি অন্তর্ভুক্ত, ভাইঝি। তার কাকা সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব এবং খামেনেইয়ের পর, ইরানি তরুণদের ব্যাপক ও নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত দুইজনের মধ্যে একজন।তার কাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সবচেয়ে বড় শত্রু বলে পরিচিত এবং প্রতিনিয়ত আমেরিকার ধ্বংসের আহ্বান জানান, অথচ তার কন্যা এবং ভাইঝি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন । মূলত জো বাইডেনের আমলে কথিত ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তারা বহাল তবিয়তে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের স্ট্যাটাস উপভোগ করছিলেন তারা । কিন্তু দক্ষিণপন্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প আসার পর তাদের প্রবল জনরোষের মুখে পড়তে হয় । তবে, আশ্চর্যের বিষয় হলো যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক-সম্পর্কিত ক্ষেত্রে ইরানিদের উপস্থিতি হয় নিষিদ্ধ অথবা বিধিনিষেধের অধীন, অথচ ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কমান্ডার এবং এক্সপেডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিলের প্রধানের ভাইঝি এই বিধিনিষেধ থেকে কিভাবে অব্যাহতিপ্রাপ্ত হল, এই প্রশ্ন উঠছে ।।
