এইদিন ওয়েবডেস্ক,মালদা,১৯ মার্চ : দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকেই মেঠোপথ দিয়ে যাতায়াত করতে হয় আদিবাসী অধ্যুষিত কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাকে । ১৯৪৭ সালে দেশ তো স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু বেহাল রাস্তার আর হাল ফেরেনি । তারপর একের পর এক গ্রাম পঞ্চায়েত,বিধানসভা ও লোকসভার ভোট এসেছে গেছে । নেতারা রাস্তা নির্মান করে দেওয়ার ভারিভুরি প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটে জেরার পর আর দিক মারায়নি বলে অভিযোগ । অবশেষে ২০২৬ সালের বিধানসভার ভোটের ঠিক মুখেই বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে মালদা জেলার গাজোল বিধানসভার ২৬১ নম্বর নিমতলা বুথ এলাকার বাসিন্দারা । “আগে রাস্তা পরে ভোট , রাস্তা নেই, ভোট নেই” লেখা ব্যানার হাতে পথে নেমে বিক্ষোভ দেখালেন শতাধিক মহিলা ও পুরুষ ।
জানা গিয়েছে,গাজোল ব্লকের রানীগঞ্জ-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কিছুটা ভিতরে রয়েছে আদিবাসী অধ্যুষিত নিমতলা,ধোলাহরি,মোংলাপাড়াসহ একাধিক গ্রাম। সব মিলে হাজার পাঁচেক মানুষের বসবাস । নিমতলা বুথের কয়েকটি রাস্তা মিলে প্রায় ৫ কিলো মিটার রাস্তা কাঁচা । শুকনো মরশুমে চলাচল করা গেলেও বর্ষায় কার্যত গৃহবন্দী হয়ে যেতে হয় গ্রামবাসীদের । সরকার মুর্মু নামে এক বিক্ষোভকারী যুবকের কথায়,’বর্ষায় রাস্তা পায়ে হেঁটে যাওয়াই দুষ্কর হয়ে পড়ে । সেই সময় কেউ অসুস্থ হলে হয় খাটিয়া অথবা ট্রাক্টরে চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয় । এমনও ঘটনা ঘটেছে যে প্রসূতিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তাতেই প্রসব হয়ে গেছে ।’
আন্দোলনকারী প্রৌঢ় বিশ্বনাথ সোরেন বলেন,’১৯৪৭ সাল থেকে আমাদের এলাকার প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তাটা কাঁচাই আছে । দেশ স্বাধীন হলেও রাস্তা আর হয়নি । পঞ্চায়েত,বিডিও-জেলা প্রশাসনের অফিস ও বিধায়কের কাছে বারবার ছুটে গেলে শুধু আশ্বাস মিলেছে,কিন্তু কাজের কাজ হয়নি । তাই আমরা এবারে ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছি ।’
জানা গেছে,এর আগেও রাস্তার দাবিতে পথ অবরোধ করে পুলিশের মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছিল গ্রামবাসীদের । তবুও ওই ৫ কিমি রাস্তা আর নির্মান হয়নি । উল্লেখ্য,গাজোল ব্লকের রানীগঞ্জ ২ গ্রাম পঞ্চায়েতটি তৃণমূল কংগ্রেস(TMC) শাসিত৷ কিন্তু গাজোলের বর্তমান বিধায়ক হলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) দীপালী বিশ্বাস । বিক্ষোভকারী বধূ শ্যামলী হেমব্রম বলেন,’ভোটের আগে ভোট চাইতে সবাই আসে । কিন্তু ভোট হয়ে গেলে আর কারোর টিকি দেখতে পাওয়া যায়না,ত্রিসীমানা দিয়ে আসে না কেউ । তাই এবারে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগে রাস্তা পরে ভোট । যতদিন না রাস্তা হচ্ছে আমাদের আন্দোলন চলবে ।’।
