সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে অন্যতম একটি বিতর্কিত নাম হল কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মার্কন্ডেয় কাটজু । রাজনীতিবিদ শিব নাথ কাটজুর পুত্র এবং কৈলাশ নাথ কাটজুর নাতি মার্কন্ডেয় কাটজু ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যানও ছিলেন ৷ বিচারক হিসাবে তার কিছু রায় এবং অবসরের পর তার কিছু মন্তব্যে প্রায়ই সমাজে প্রবল প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে । এবারে রমজান মাসে অমুসলিমদের একদিন রোজা রাখার আবেদন জানিয়ে ফের ট্রোল হচ্ছেন মার্কন্ডেয় কাটজু ।
আজ তিনি এক্স-এ লিখেছেন,’আগামীকাল, ১৩ মার্চ, আমি রমজান মাসে একদিন রোজা রাখব, যেমনটি আমি গত ২৫-৩০ বছর ধরে আমার মুসলিম ভাইবোনদের সাথে সংহতি প্রকাশ করার জন্য করছি। আমি সমস্ত অমুসলিমদের কাছে রমজান মাসে একদিন রোজা রাখার আবেদন করছি। একই কারণে, আমি অ-হিন্দুদের কাছে নবরাত্রিতে একদিন উপবাস রাখার আবেদন করি । এটি কেবল একটি প্রতীকী ইঙ্গিত, এবং এর অর্থ এই নয় যে কাউকে তার ধর্ম ত্যাগ করতে হবে। আমাকে বলা হয়েছে যে আগামীকাল, ১৩ মার্চ, দিল্লিতে সেহরি ভোর ৫.১৭ মিনিটে এবং ইফতার সন্ধ্যা ৬.২৮ মিনিটে। তাই এই সময়কালে আমি খাবার বা জল ছাড়াই থাকব।’
এদিকে তার এই আবেদনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন নেটিজেনরা । একজন ব্যবহারকারী(@Dear_Men_ Life) লিখেছেন,’এই ১৮ বছর বয়সী জেন জেডের মস্তিষ্ক এবং পরিপক্কতা ৮০ বছর বয়সী সুপ্রিম কোর্টের বুঢ্যার চেয়ে বেশি।অবশ্যই দেখুন এবং ভাবুন কাটজু।ধর্মনিরপেক্ষতা একমুখী রাস্তা নয়।’ তিনি একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন৷ যেখানে একটি অল্পবয়সী মেয়েকে বলতে শোনা গেছে,”মুসলিমদের উপর আমার বিন্দুমাত্র ভরসা নেই ।”
রাজেশ কুমায়ত লিখেছেন,”মুসলিম ভাইদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য একদিন খাবার/জল ছাড়া। ভারতবিরোধী টুইট না করে একদিন কাটালে কেমন হবে? এটাই হবে ১৪০ কোটি মানুষের সাথে সত্যিকারের সংহতি। ৫:১৭ টায় সেহরি, কখনোই না।”
একজন “হাজি লল্লু খতনা স্পেশালিষ্ট” এর একটি পোস্টার সংযুক্ত করে লিখেছেন,”স্যার, মুসলিম ভাইদের সাথে সংহতি প্রকাশের জন্য ০.৫ সেমি খাৎনা পেতে আপনার কাছে অনুরোধ করছি। হাজী লাল্লু খুশি হয়ে তা গ্রহণ করবেন। নীচের ঠিকানায় যোগাযোগ করুন।”
প্রসঙ্গত,বিতর্ক আর মার্কন্ডেয় কাটজু কার্যত সমার্থক শব্দ হয়ে গেছে । অতীতে তার অনেক মন্তব্যের কারনে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল । ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আম আদমি পার্টির বেশ কয়েকজন নেতাকে ট্যাগ করে “অশালীন” টুইট করে বিতর্কে জড়ান তিনি ম
কাটজু দলের প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গালিগালাজ শুরু করার পরই “পাঞ্জাব নির্বাচনে আপ সাফ সুইপ করতে চলেছে” এই মন্তব্যের জবাবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক লেখেন, “আপেরও রেশন কার্ড বিতরণ করা উচিত। এটি সম্মতিতে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে কার্যকর হবে।”
২০২০ সালের অক্টোবরে উত্তরপ্রদেশের ধর্ষণের ঘটনার প্রেক্ষিতে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মার্কণ্ডেয় কাটজু। ধর্ষণের ঘটনায় জন্য তিনি দায়ী করেছিলেন বেকারত্বকে। মন্তব্য করেছিলেন, যৌনতা পুরুষের স্বাভাবিক তাগিদ। প্রাক্তন বিচারপতির এই বেফাঁস মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্কের ঝড় বয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কাটজু আছেন নিজের মধ্যেই। তার ঠিক কয়েক দিন পরেই বাঙালিদের বিরুদ্ধে কুমন্তব্য করার অভিযোগে সরগরম হয়ে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়া।
আচমকাই সোশ্যাল মিডিয়ায় বাঙালি এবং বাংলাকে উল্লেখ করে একাধিক পোস্ট করেন মার্কণ্ডেয় কাটজু। কাটজুর একটি পোস্টে তাঁর জাতিবিদ্বেষী চরিত্র সামনে এনে দেন মুহাম্মদ আলি বলে একজন ব্যক্তি। সেই পোস্টে কাটজু লিখেছিলেন, বাঙালিদের চিরাচরিত জল ‘পান’ করার বদলে জল ‘খাওয়া’র প্রসঙ্গ উল্লেখ করে। তার উত্তরে মুহাম্মদ আলি লিখেছেন, শুধু বাংলা বলে নয়, যে কোনো ভাষার ক্ষেত্রেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেই থাকে। উদাহরণ দিয়ে ইংরাজি বা হিন্দির উদাহরণ দিয়েও তিনি দেখিয়েছেন যে, তুল্যমূল্য বিচার করলে এমন হাস্যকর ঘটনা দেখতে পাওয়া যাবে সেখানেও। এবং তার পরেই তিনি উল্লেখ করেছেন, বাংলা ভাষার ঐতিহ্যের কাছাকাছি হিন্দি ভাষাকে পৌঁছতে এখনও অপেক্ষা করতে হবে কম করে আরো ১০০ বছর। তার থেকেও বড়ো চমক হল, এই মন্তব্যের নিচে তিনি নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন একজন মালয়ালি মানুষ হিসেবে।
এছাড়াও কাটজুর অপর একটি পোস্টে উঠে আসে বাঙালি এবং বিহারিদের নিয়ে নিন্দনীয় মন্তব্য। একজন বাঙালির বাড়ি থেকে ভজনের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার নিমন্ত্রণ পেয়ে একজন বিহারি সেখানে ভোজন হবে ভেবে পৌঁছে গেছেন। কিন্তু পৌঁছে গিয়ে খাবারদাবারের ব্যাবস্থা না দেখতে পেয়ে সেদিন থেকেই নাকি বিহারিরা বাঙালিদেরকে ‘কাঙালি’ বলে ডাকা শুরু করেছে। পোস্টের ভাষা, শব্দ চয়নই বলে দেয় কতটা নিচু মানসিকতার ব্যক্তি এই মার্কন্ডেয় কাটজু।।
