এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,১১ মার্চ : ইরান ও ইজরায়েল, আমেরিকা সংঘর্ষ এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার জেরে বিশ্বজুড়ে সংকট দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের। এই পরিস্থিতিতে ভারতের ‘রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর সাহায্য নিলন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । মুকেশ আম্বানির সংস্থা ‘রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর সহযোগিতায় টেক্সাসে এই বিশাল শোধনাগার নির্মাণের ঘোষণা করেছেন তিনি। ৫০ বছরের খরা কাটিয়ে আমেরিকায় তৈরি হতে চলেছে প্রথম নতুন তেল শোধনাগারের মেগা প্রজেক্ট।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন যে নতুন শোধনাগারটি আমেরিকান বাজারকে জ্বালানি দেবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করবে, পাশাপাশি জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি করবে। তিনি বলেন, “আমেরিকা প্রকৃত শক্তির আধিপত্য ফিরে পাচ্ছে! আজ আমি গর্বের সাথে ঘোষণা করছি যে আমেরিকা ফার্স্ট রিফাইনিং টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে ৫০ বছরের মধ্যে প্রথম নতুন মার্কিন তেল শোধনাগার উদ্বোধন করছে। এটি ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি ঐতিহাসিক চুক্তি, যা মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বড়, আমেরিকান কর্মী, জ্বালানি এবং দক্ষিণ টেক্সাসের মহান জনগণের জন্য একটি বিশাল জয়! এই অসাধারণ বিনিয়োগের জন্য ভারতে আমাদের অংশীদারদের এবং তাদের বৃহত্তম বেসরকারিভাবে পরিচালিত জ্বালানি কোম্পানি, রিলায়েন্সকে ধন্যবাদ।”
ট্রাম্প আরও বলেন যে নতুন শোধনাগারটি কোটি কোটি ডলারের অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলবে এবং এই অঞ্চলে হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।তিনি বলেন,“আমাদের আমেরিকা ফার্স্ট এজেন্ডা, পারমিট সহজীকরণ এবং কর কমানোর কারণেই আমাদের দেশে কোটি কোটি ডলারের চুক্তি ফিরে এসেছে। ব্রাউনসভিল বন্দরে একটি নতুন শোধনাগার মার্কিন বাজারকে জ্বালানি দেবে, আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করবে, আমেরিকান জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি করবে, কোটি কোটি ডলারের অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলবে এবং বিশ্বের সবচেয়ে পরিষ্কার শোধনাগার হবে। এটি বিশ্বব্যাপী রপ্তানিকে শক্তিশালী করবে এবং হাজার হাজার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত চাকরি এবং প্রবৃদ্ধি এমন একটি অঞ্চলে নিয়ে আসবে যেখানে এটি প্রাপ্য। আমেরিকান শক্তির আধিপত্য দেখতে এরকমই। আমেরিকা ফার্স্ট, সর্বদা!”
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মধ্যে ট্রাম্পের এই ঘোষণা সামনে এসেছে, যা ইরানের বাইরেও বিস্তৃত হয়েছে, ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে – সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন এবং জর্ডান সহ প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, দূতাবাস এবং বেসামরিক/জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে। এই সংঘাত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে উল্লেখযোগ্য ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর আশেপাশে, যেখানে বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবহন হয়।
এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেন, তেল ও গ্যাসের দাম শীঘ্রই কমে আসবে, সম্ভবত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হওয়ার আগে যা ছিল তার চেয়েও কম।
লিভিট গণমাধ্যমকে বলেন, “আমেরিকান জনগণকে আশ্বস্ত করুন, তেল ও গ্যাসের দামের সাম্প্রতিক বৃদ্ধি অস্থায়ী এবং এই অভিযানের ফলে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের দাম কমবে। অপারেশন এপিক ফিউরির জাতীয় নিরাপত্তা লক্ষ্যগুলি সম্পূর্ণরূপে অর্জিত হলে, আমেরিকানরা তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত হ্রাস পাবে, সম্ভবত অভিযান শুরুর আগের তুলনায় আরও কম। আমরা এমন একটি পৃথিবীতে বাস করব যেখানে ইরান আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা আমাদের মিত্রদের পারমাণবিক বোমা দিয়ে হুমকি দিতে পারবে না।”
উল্লেখ্য,হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলির মধ্যে একটি, যেখান দিয়ে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের জাহাজগুলির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যাতায়াত করে। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ৮৬ বছর বয়সী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার পর এই অঞ্চলে সংঘাত শুরু হয়, যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে ইসরায়েলি ও মার্কিন সম্পদ লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যার ফলে জলপথ ব্যাহত হয় এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।।
