এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,১০ মার্চ : ইরান আর ইসরায়েলের সাপে-নেউলে সম্পর্ক৷ তার মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন- গিভরকে তারা জাতশত্রু বলে মনে করে । ইসরায়েলের ওই দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে ঠিক কতটা বিদ্বেষমূলক মনোভাব পোষণ করে ইরানের সরকার, তার এক ঝলক দেখতে পাওয়া গেল আজ মঙ্গলবার । ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ একটা প্রতিবেদনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও ইতামার বেন-গিভর মৃত্যুর ভুয়ো খবর পরিবেশন করেছে ।
প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের এক্সপোস্টের উদ্ধৃতি ছাড়া আর কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি। এক্সে গতকাল সোমবার স্কট রিটার নামের একটি বলেছিলেন, ‘ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নেতানিয়াহুর সরকারি বাসভবনে আঘাত হানার পর ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন নেতানিয়াহু। এ সময় তার বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন ইতামার বেন-গিভর। তিনি আহত হয়েছেন।’
তবে যে অ্যাকাউন্ট থেকে এই পোস্ট করা হয়েছে, সেটি আদৌ স্কট রিটার ব্যবহার করেন কি-না, কিংবা অ্যাকাউন্টটি ভুয়া কি-না —এখনও নিশ্চিত নয়।ফার্সি ভাষার সংবাদমাদ্যম তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর উপর হামলার প্রমাণ বা কোনও ক্ষতির নিশ্চিত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। তার পরিবর্তে, এটি বেশ কয়েকটি পরিস্থিতিগত বিষয় একত্রিত করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ভিডিও ক্লিপগুলির অনুপস্থিতি, ইসরায়েলি মিডিয়ায় তার বাড়ির চারপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন, জ্যারেড কুশনার এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের একটি কথিত সফর স্থগিত করা এবং রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি ফোনালাপের ফরাসি রেকর্ড, যেখানে কথোপকথনের তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়নি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও এই ব্যাপারে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের রেকর্ড বলছে, নেতানিয়াহুর নামে সর্বশেষ বিবৃতিটি দেওয়া হয়েছিল গত ৭ মার্চ। সেদিন ইসরায়েলের বিরশেবা এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আহত কয়েকজনকে দেখতে গিয়েছিলেন নেতানিয়াহু।
উল্লেখ্য,ইরানের সংবাদমাধ্যমে অবশ্য নেতানিয়াহুর নিহত হওয়ার ভুয়ো খবর প্রকাশ নতুন কিছু নয়। এর আগে ২ মার্চ কয়েকটি ইরানি সংবাদাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে দাবি করছিল, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তিনি নিহত হয়েছেন। তবে পরে চীনা সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর দপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তথ্য ‘নিছকই গুজব’।।
