এইদিন ওয়েবডেস্ক,পাটনা,১০ মার্চ : বিহারের কিষাণগঞ্জের বাসিন্দা এহসান রাজা নামে এক যুবক দীর্ঘ দেড় বছর পর সৌদি আরব থেকে ফিরে আসার পরের দিনেই তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনা বলে মনে করা হলেও তদন্তে জানা যায় যে তাকে খুন করা হয়েছে । তথ্য অনুযায়ী, এহসান তার বিয়ের তিন মাস পর জীবিকা নির্বাহের জন্য সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের কারণে তিনি দেড় বছর পর ফিরে আসেন, কিন্তু এই সময় তার স্ত্রী এবং স্ত্রীর খুড়তুতো ভাই আঞ্জুমের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার স্ত্রী বর্তমানে দেড় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মেডিকেল রিপোর্টে এটি প্রকাশ পাওয়ার পর, পুলিশ পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে জানতে পারে যে তাকে খুন করা হয়েছে।
পুলিশ এহসানের মৃতদেহের মাথার পিছনে গভীর আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছে। যদি এটি দুর্ঘটনা হত তাহলে দেহের সামনের দিকে আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা ছিল, যেকারণে এটি পুলিশের সন্দেহ জাগিয়ে তোলে । পুলিশের মতে, শামরিন তাজ তার স্বামী এহসানকে ইফতারের জন্য তার বাবা-মায়ের বাড়িতে ডেকেছিল। এহসান তার বাইকে করে তার শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন, কিন্তু রাত ৮টা পর্যন্ত তিনি সেখানে পৌঁছাননি। পরিবার যখন খুঁজতে শুরু করে, তখন এহসানের মৃতদেহ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। যদিও পুলিশ দুর্ঘটনার কোনও চিহ্ন পায়নি।
পুলিশ এহসানের বাবা সাবির আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার স্ত্রী শামরিন এবং তার খুড়তুতো ভাই সিরাজ আঞ্জুমের মধ্যে অবৈধ সম্পর্কের কথা প্রকাশ পায়। শামরিনও তার অপরাধ স্বীকার করে। সে বলেছে যে বিয়ের আগে থেকেই সিরাজ আঞ্জুমের সাথে তার শারিরীক সম্পর্ক ছিল। তার স্বামী বিদেশ যাওয়ার পর দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়। শামরিন গর্ভবতী হয়ে পড়ে, কিন্তু তার স্বামী ভারতে ফিরে আসছে জানতে পেরে সে স্বামীকে খুনের ষড়যন্ত্র করে।
শামরিন তার স্বামীর কাছ থেকে মুক্ত হতে চেয়েছিল, এবং সিরাজ শিশুটির পিতৃত্ব স্বীকার করতেও রাজি ছিল। তাই, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শামরিন তার বাবা-মায়ের বাড়িতে ইফতারের নাম করে এহসানকে ফোন করে আসতে বলে, কিন্তু সে পৌঁছানোর আগেই, সিরাজ তাকে পথে হত্যা করে এবং লাশ ফেলে দিয়ে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে দেখানোর চেষ্টা করে। পুলিশ স্ত্রী শামরিন তাজকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে, অন্যদিকে সিরাজ পলাতক এবং তার খোঁজ চলছে।।
তথ্যসূত্র ও ছবি : সৌজন্যে ওপি ইন্ডিয়া ।
