ভগবৎপাদ্ শঙ্করাচার্য্য বিরচিত
শ্রীজগন্নাথাষ্টকম্ একটি কৃষ্ণভক্তিমূলক স্তোত্র। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এটি নিত্য জপ করতেন এবং গৌড়ীয় বৈষ্ণবরা
এই জগন্নাথাষ্টকম্ নিত্য পাঠ করেন। শঙ্করের লিখনীতে শ্রীভগবান্ জগন্নাথের প্রতি ভক্তি নিবেদিত হয়েছে এইভাবে—
কদাচিত্-কালিন্দী তটবিপিন সংগীতকরবো
মুদাভীরী নারীবদন কমলাস্বাদমধুপঃ ।
রমা শম্ভু ব্রহ্মামরপতি গণেশার্চিত পদো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে ॥১॥
অর্থ :যিনি এক সময়ে কালিন্দী (যমুনা) তটবৰ্ত্তী অরণ্য মধ্যে সঙ্গীত শ্ৰবণে চঞ্চল হইয়া প্রীতিভরে ভ্রমরের ন্যায় গোপাঙ্গণাগণের মুখপদ্মের মধু আস্বাদন করিয়াছিলেন; লক্ষ্মী, শম্ভু, ব্ৰহ্মা, ইন্দ্র ও গণেশ যাঁহার পদযুগল অৰ্চনা করেন, সেই প্ৰভু জগন্নাথ আমার নয়ন পথবৰ্ত্তী হউন।
ভুজে সব্যে বেণুং শিরসি শিখিপিংছং কটিতটে
দুকূলং নেত্রাংতে সহচরকটাক্ষং বিদধতে ।
সদা শ্রীমদ্বৃংদাবনবসতিলীলাপরিচয়ো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে ॥২॥
অর্থ :যিনি বামভুজে বেণু, মস্তকে ময়ুরপুচ্ছ এবং কটিতটে পীতাম্বর ও নয়ন প্ৰান্তে সহচরী গোপালাদিগের প্রতি কটাক্ষপাত করিয়া সদা বৃন্দাবন ধামে বাস ও লীলা করিতে প্ৰবৃত্ত আছেন, সেই প্ৰভু জগন্নাথ আমার দৃষ্টি পথগামী হউন।
মহাংভোধেস্তীরে কনকরুচিরে নীলশিখরে
বসন্ প্রাসাদাংতস্ সহজ বলভদ্রেণ বলিনা ।
সুভদ্রা মধ্যস্থস্ সকলসুর সেবাবসরদো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে ॥৩॥
অর্থ :যিনি মহাসমুদ্রের তীরদেশে, সুবর্ণাভ নীলাদ্রির শিখরে প্রাসাদাভ্যন্তরে সুভদ্রাকে মধ্যভাগে স্থাপনপূর্বক বলশালী ভ্রাতা বলরামের সহিত বাসকরতঃ সমস্ত দেবগণকে সেবা করার অবসর ।প্রদান করিতেছেন, সেই প্ৰভু জগন্নাথদেব আমার নয়ন পথবৰ্ত্তী হউন।
কৃপাপারাবারঃ সজল জলদ শ্রেণিরুচিরো
রমাবাণী রামস্ফুরদমল পঙ্কেরুহমুখঃ ।
সুরেংদ্রৈরারাধ্যঃ শ্রুতিগণশিখা গীত চরিতো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে ॥৪॥
অর্থ :যিনি কৃপাসিন্ধু তুল্য, যাঁহার কান্তি জলপূর্ণ মেঘমালার ন্যায় শ্যামল, যিনি লক্ষ্মী ও সরস্বতীর আনন্দনিধান, যাঁহার মুখমণ্ডল অমল কমলবৎ শোভমান, দেবেন্দ্ৰগণ যাঁহাকে আরাধনা করিয়া থাকেন, শ্রুতিসমূহ যাঁহার চরিত্র গান করেন, সেই প্ৰভু জগন্নাথ দেব আমার নয়নপথগামী হউন।
রথারূঢো গচ্ছন্ পথি মিলিত ভূদেবপটলৈঃ
স্তুতি প্রাদুর্ভাবং প্রতিপদমুপাকর্ণ্য সদয়ঃ ।
দয়াসিংধুর্বংধুস্ সকল জগতা সিন্ধুসুতয়া
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে ॥৫।।
অর্থ :রথে আরোহণ করিয়া গমন করিলে পথিমধ্যে ব্ৰাহ্মণগণ মিলিত হইয়া যাঁহার স্তব করিয়া থাকেন, যিনি তাদৃশ স্তব শ্রবণে পদে পদে প্ৰসন্ন হয়েন, সেই লক্ষ্মী-সম্মিলিত দয়াসিন্ধু, সর্বজগদ্বন্ধু জগন্নাথ স্বামী আমার নয়ন পথগামী হউন।
পরব্রহ্মপীড়ঃ কুবলয়-দলোত্ফুল্লনয়নো
নিবাসী নীলাদ্রৌ নিহিত-চরণোঽনংত-শিরসি ।
রসানন্দো রাধা-সরস-বপুরালিংগন-সখো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে ॥৬॥
অর্থ :নিরাকার পরব্রহ্ম স্তবনীয় হইলেও সাকার অবস্থায় যাঁহার নেত্র পদ্মপলাশের ন্যায় প্ৰফুল্ল, যিনি নীলাদ্রিতে বাস করেন এবং অনন্তনাগের শিরে চরণ স্থাপন করেন, যিনি রস ও আনন্দস্বরূপ; যিনি শ্ৰীরাধিকার রসময় দেহ আলিঙ্গনে সুখী, সেই প্ৰভু জগন্নাথ আমার নয়নপথগামী হউন।
ন বৈ যাচে রাজ্যং ন চ কনক মাণিক্য বিভবং
ন যাচেঽহং রম্যাং নিখিলজন-কাম্যাং বরবধূম্ ।
সদা কালে কালে প্রমথ-পতিনা গীতচরিতো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে ॥৭॥
অর্থ :আমি রাজ্য চাহি না, স্বর্ণ-মাণিক্যাদি বৈভবও প্রার্থনা করি না এবং সকল লোক কমনীয়া মনোহারিণী কামিনীও চাই না, আমি সর্ব্বদা একান্ত মনে প্রার্থনা করি যেন ভূতনাথ যাঁহার চরিত্র কীৰ্ত্তন করেন সেই প্ৰভু জগন্নাথ আমার নয়নপথগামী হয়েন।
হর ত্বং সংসারং দ্রুততরমসারং সুরপতে
হর ত্বং পাপানাং বিততিমপরাং যাদবপতে ।
অহো দীনোঽনাথে নিহিতচরণো নিশ্চিতমিদং
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে ॥৮॥
অর্থ :হে সুরপতি! তুমি আমার এই অসার সংসার হরণ কর, হে যাদবপতি! তুমি আমার অশেষ পাপভারও হরণ কর । আহা! আত্মসমর্পিত দীন ও অনাথজনকে সতত রক্ষা করিবার জন্য অচলভাবে স্থিত, সেই প্ৰভু জগন্নাথদেব আমার নয়নপথগামী হউন ৷
জগন্নাথাষ্টকং পুণ্যং যঃ পঠেত্ প্রযতঃ শুচিঃ ।
সর্বপাপ বিশুদ্ধাত্মা বিষ্ণুলোকং স গচ্ছতি ॥
অর্থ :যে ব্যক্তি শুচি হইয়া, এই জগন্নাথাষ্টক পাঠ করে,সে ব্যক্তি সৰ্ব্ব পাপ হইতে বিশুদ্ধ হইয়া বিষ্ণুলোকে গমন করিয়া থাকে॥
।। ইতি শ্রীমদ্ শঙ্করাচার্যবিরচিতং জগন্নাথাষ্টকং সংপূর্ণং॥
অর্থ :ভগবৎপাদ্ শঙ্করাচার্য বিরচিত জগন্নাথাষ্টক সম্পূর্ণ।।
