এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৬ ডিসেম্বর : সল্টলেকের যুবভারতী স্টেডিয়ামে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসিকে এনে নিজেদের “আদেখলামো”র জন্য জনরোষের মুখে পড়েছে তৃণমূলের মন্ত্রী ও নেতারা ৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসসহ তৃণমূলের নেতাদের পরিবারের লোকজন ও নিরাপত্তারক্ষীরা ঘিরে থাকায় হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটে স্টেডিয়ামে ভিড় করা দর্শকরা মেসির টিকি পর্যন্ত দেখতে পায়নি । ফলে চরম সমালোচনার মুখে পড়েছেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসরা । উঠছে টাকা ফেরতের দাবিও । এদিকে এই পরিস্থিতি থেকে “বাঁচতে” ক্রীড়ামন্ত্রী পদ থেকে অব্যাহতির ইচ্ছেপ্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস । কিন্তু আজ মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর হাতে লেখা ওই চিঠি প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে নতুন চর্চা শুরু হয়ে গেছে । কারন, স্বয়ং মন্ত্রী মশাই চিঠিতে একাধিক বানান ভুল করে ফেলেছেন । যেকারনে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রীর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে ।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে ‘দিদি’ বলে সম্মোধন করে লেখা চিঠিতে অরূপ বিশ্বাস “ক্রীড়ামন্ত্রী” কে “ক্রিয়ামন্ত্রী” হিসেবে উল্লেখ করেছেন । শুধু তাই নয়, মন্ত্রীর মাত্র ১২ লাইনের ছোট্ট চিঠিতে ‘ক্রীড়াঙ্গনে’ লিখতে গিয়ে ‘ক্রিয়াঞ্জনে’ লিখেছেন মন্ত্রী। ‘পরিপ্রেক্ষিতে’ হয়ে গিয়েছে ‘পরিপেক্ষিতে’। ‘অব্যাহতি’ হয়ে গিয়েছে ‘অবাহতি’।
এদিকে মমতা ব্যানার্জি তার ক্যাবিনেটের এই গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে “অব্যাহতি” দিয়ে ক্রীড়া মন্ত্রক নিজের জিম্মায় রেখে দিয়েছেন । অরূপ বিশ্বাসের চিঠিটি এক্স-এ শেয়ার করে রাজ্য বিজেপির যুবমোর্চার সহ-সভাপতি ও কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী তরুনজ্যোতি তিওয়ারি লিখেছেন, ‘শুনলাম আমাদের মুখ্যমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ইস্তফা গ্রহণ করেছেন এবং জানিয়েছেন—এবার থেকে ওই দপ্তর তিনি নিজেই সামলাবেন। অবশেষে পশ্চিমবঙ্গ পেল একজন যোগ্য ক্রীড়া মন্ত্রী। এতদিনে! কারণ উনি শুধু মুখ্যমন্ত্রী নন—উনি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান,তৃণমূলের সর্বময় কর্ত্রী,সাতবারের সাংসদ, তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী,কবি, সাহিত্যিক, লেখক, চিত্রশিল্পী।খেলার মাঠেও তাঁর প্রতিভা নেহাত কম নয়।’
তিনি লিখেছেন,’মমতা শুধু খেলেননি—২২ গজে নেমে ম্যাচের সেরাও হয়েছিলেন।সাংসদদের ম্যাচে,যেখানে পুরুষ–মহিলা সব সাংসদই খেলেছেন, অনেকেরই নিয়মিত ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা ছিল—তাঁদের সবাইকে পিছনে ফেলে ম্যাচের সেরা হয়েছিলেন অধুনা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।বছর দেড়েক আগে দেখা গিয়েছিল—প্রচারের ফাঁকে সন্ধ্যেবেলা ব্যাডমিন্টন কোর্টে,র্যাকেট হাতে পুরো ফর্মে।ফুটবল আছে, হকি আছে। আর আছে ট্রেডমিলে হাঁটতে হাঁটতে বাজেট বানানোর অলৌকিক ক্ষমতা।’
তরুনজ্যোতির কথায়,’এত ট্যালেন্ট একসাথে থাকলে ক্রীড়া দপ্তর আর আলাদা করে কাউকে দেওয়ার দরকারই বা কী?আর হ্যাঁ—উনি যুব কল্যাণ দপ্তরও সামলাবেন।যে রাজ্যে যুবকরা সপ্তাহে দু’বার করে চাকরির দাবিতে রাস্তায় নামেন,যে রাজ্যে শিক্ষিত যুবকদের মিছিল করা মানেই পুলিশের লাঠি,যে রাজ্যে চাকরি পাওয়ার যোগ্যতার চেয়ে “অনুপ্রেরণা” আর “লেনদেন”-এর দাম বেশি—সেই রাজ্যে যুব কল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব তাঁর হাতেই থাকা একদম স্বাভাবিক।’
পরিশেষে তিনি লিখেছেন,’যাঁর আমলে শিক্ষিত যুবক–যুবতীরা ভিন্রাজ্যে কাজের খোঁজে পাড়ি দেন,যাঁর ইচ্ছায় বঞ্চিতরা বঞ্চিতই থাকেন,আর যোগ্যতা থাকলেও টাকা ছাড়া চাকরি পাওয়া অলীক কল্পনা—সেই মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই যুব কল্যাণ দপ্তর থাকাটা একেবারেই নীতিগত সিদ্ধান্ত। সব মিলিয়ে—এক ব্যক্তি, বহু দপ্তর, অগণিত প্রতিভা। জয় বিষ্ণু মাতা ।’।

