এইদিন ওয়েবডেস্ক,কুমিল্লা,০৭ ডিসেম্বর : সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হেফাজতে ইসলামের দায়ের করা ধর্মনিন্দার মিথ্যা অভিযোগে এক অন্তঃসত্ত্বা হিন্দু বধূকে জেলে পাঠালো বাংলাদেশের তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের পুলিশ । ওই হতভাগ্য বধূর নাম তৃষা দাস চৌধুরী । বাংলাদেশের কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার একটি দল শহরের মনোহরপুর এলাকা ওই বধূর বাড়ি থেকে গত সপ্তাহে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছে । তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হলেও, কথিত ধর্মীয় অবমাননার পোস্টের কোনো স্ক্রিনশট, লিংক বা প্রযুক্তিগত প্রমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হয়নি আজ অব্দি ।
পরিবারের দাবি, অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া এবং পরিকল্পিত। কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ বা ডিভাইস বিশ্লেষণের রিপোর্ট না থাকা সত্ত্বেও একজন গর্ভবতী নারীকে কারাগারে পাঠানো মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলেই মনে করছেন স্থানীয় মানুষ, মানবাধিকার কর্মী ও সংখ্যালঘু সংগঠনগুলো।
পুলিশের কথায়, “তৃষা দাস চৌধুরী” নামে ফেসবুক আইডি থেকে ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিন্তু কোনো প্রমান নেই। স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে Team Protect Our Sisters BD–এর সদস্য ও হেফাজতে ইসলাম কুমিল্লা শাখার আমির মুফতি শামসুল ইসলাম জিলানি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। জানা গেছে, অভিযোগকারীরা চরমপন্থী ইসলামি মতাদর্শে বিশ্বাসী । ওই দুই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হিন্দু বিদ্বেষী প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে একাধিকবার । এমনকি হিন্দুদের উপর একাধিক হামলায় নেপথ্যে থেকে উৎসানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে “Team Protect Our Sisters BD” ও হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে । অথচ এহেন দুই কুখ্যাত গোষ্ঠীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একজন অন্তঃসত্ত্বা হিন্দু বধূকে গ্রেফতার করায় প্রশ্ন উঠছে । যদিও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির আশঙ্কায় “তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা” নেওয়ার কথা জানিয়ে পুলিশ তৃষাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে বলে জানা গেছে ।
তবে পরিবারের সদস্যদের দাবি—এটি এক ধরনের টার্গেটেড হয়রানি এবং সংখ্যালঘু নারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক নিপীড়নেরই অংশ। তৃষার আত্মীয়স্বজনরা বলেন, ‘আইডিটি তাঁর নয়। ফোনে কোনো আপত্তিকর পোস্ট নেই। পুলিশের কাছে এটুকু বলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।’
তৃষা দাস চৌধুরীর অন্তঃসত্ত্বা থাকার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আরও তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে। চিকিৎসকদের মতামত অনুযায়ী, এমন অবস্থায় একজন নারীর জন্য মানসিক চাপ এবং বন্দী জীবন দুটিই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু মামলার তথাকথিত “প্রাথমিক অভিযোগ”কেই যথেষ্ট ধরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে—যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।।

