কাটোয়ায়
এইদিন ওয়েবডেস্ক,কাটোয়া(পূর্ব বর্ধমান),১২ নভেম্বর : কটোয়ার গাঙ্গুলিডাঙ্গায় প্রস্তাবিত রেল আন্ডারপাসের নির্মাণের কাজ গ্রামবাসীর বিক্ষোভের জেরে শুরু করতে পারল না রেল দপ্তর৷ আজ বুধবার রেলের কর্মী ও আধিকারিকরা মাপজোখ করতে এলে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখায় । তাদের দাবি, রেলগেট তুলে দিয়ে আন্ডারপাস তৈরি করলে বর্ষায় জলমগ্ন হয়ে যাবে এলাকা । বিক্ষোভের খবর পেয়ে কাটোয়া থানার পুলিশ আসে । কিন্তু তার পরেও গ্রামবাসীর বাধায় মাপজোখ না করেই ফিরে যেতে হয় রেলের কর্মীদের ।
বর্ধমান-কাটোয়া রেলপথে কাটোয়া স্টেশনের ঠিক আগেই রয়েছে গাঙ্গুলিডাঙ্গা স্টেশন৷ স্টেশন পেড়িয়ে রয়েছে ২১ সি নম্বর রেলগেটটি । গাঙ্গুলিডাঙ্গা, কদমপুকুর গ্রাম এবং শ্রীখণ্ড ভুতনাথতলা ও গৌরাঙ্গপাড়া প্রভৃতি এলাকার লোকেরা এই রেলগেট দিয়ে যাতায়াত করে৷ সম্প্রতি রেল বিভাগ থেকে ২১ সি রেলগেট তুলে সেখান থেকে আরও প্রায় ১৫০ মিটার দূরে আণ্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা নেয় । সেজন্য আজ রেল দপ্তরের তরফে জায়গাটির মাপজোখ করতে এসেছিল । কিন্তু গ্রামবাসীদের বাধায় তাদের কাজ না করেই ফিরে যেতে হয় ।
স্থানীয় গ্রামবাসী সেন্টু শেখ, বাবুলাল শেখদের কথায়, ‘প্রস্তাবিত রেল আন্ডারপাসের ঠিক সামনেই একটা জলাশয় রয়েছে । এমনিতেই প্রায় সারাবছর জল জমে থাকে। এমতাবস্থায় এখানে আন্ডারপাস করলে জল জমবে৷ ফলে গ্রামবাসীর চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে ।’ তারা জানান যে শ্রীখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ১০ টি সংসদ মিলে প্রায় ১৫ হাজার গ্রামবাসীর যাতায়াতের রাস্তা এটি।
রেল দপ্তর সূত্রে খবর,মূলত আর্থিক ক্ষতির কারনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রেলগেট তুলে দিয়ে আন্ডারপাস তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলদপ্তর । কাটোয়া স্টেশন ঢোকার আগেই গাঙ্গুলিডাঙ্গা স্টেশনের ওই জায়গাটিও সেই হিসাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ । তাই সেখানে আন্ডারপাস তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় । এখন গ্রামবাসীদের বাধায় সেটি অনিশ্চিত হয়ে পড়ল । যদিও স্থানীয় পঞ্চায়েতের প্রধান প্রদীপ মণ্ডল জানিয়েছেন যে বিষয়টি গ্রামবাসী প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা করে নিষ্পত্তির চেষ্টা করবেন ৷।

