এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৯ জুন : দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে নিবেদিত মহাপ্রসাদ বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি । প্রতিটি রেশন দোকান থেকে ইতিমধ্যেই বিলি করা শুরু হয়ে গেছে ওই কথিত “মহাপ্রসাদ” । যদিও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ওই প্রসাদ আদপেই দীঘার মন্দির থেকে আসবে না ৷ বরঞ্চ সেই প্রসাদের নামে “হিন্দু” রেশন ডিলাদের মাধ্যমে তাদের সংশ্লিষ্ট এলাকার দোকান থেকে গজা ও প্যাড়া কিনে “হিন্দু” পরিবার পিছু ২০ টাকা মূল্যের একটা করে ছোট প্যাকেট বিতরণ করা হবে ৷
বিরোধী দলনেতার দাবি যে নিছক অমূলক নয় বাস্তব সত্য, তা একটি ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করে দাবি করলেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় । ভিডিওতে কিছু লোকজনকে গজা ভাজতে ও প্যাড়া তৈরি করতে দেখা গেছে । সেগুলি ইংরেজিতে “বীরভূম” লেখা প্যাকেটে ভরে নিয়ে যেতেও দেখা গেছে । ভিডিও রেকর্ডকারী একজনকে বলতে শোনা গেছে, ‘গজা প্যারা সরকারের কারবার দেখুন । বীরভূমের মহম্মদ বাজারের একটি এলাকায়
মহাপ্রভুর প্রসাদ তৈরি হচ্ছে । জুতো পরে, পাম তেলে দেদার ভাজা হচ্ছে গজা সঙ্গে প্যাড়া । এই নাকি মহাপ্রভুর প্রসাদ হিসাবে বাড়ি বাড়ি যাবে । কি আত্মপ্রবঞ্চনার এই সরকার! জগন্নাথ দেবের নামে কাকে ঠকাচ্ছেন আপনি ? সামনে ২৭ তারিখে রথযাত্রা । এভাবে আপনি গজা আর প্যাড়া বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেবেন ? ন্যূনতম সূচিতা নেই ? এটাকে মহাপ্রভুর প্রসার হিসেবে আমাদের গ্রহণ করতে হবে ? জুতো পরে, খালি পায়ে, পাম তেলে গজা ভেজে তারপরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাড়ি বাড়ি ? কোথায় আপনার দীঘা জগন্নাথ মন্দিরের খোয়া ক্ষীর ? প্রতিবাদ করুন আপনারা ।’
প্রসঙ্গত,গত মঙ্গলবার থেকেই জগন্নাথ মহাপ্রভুর মহাপ্রসাদ বাড়ি বাড়ি পৌঁছনো শুরু হয়ে গিয়েছে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে ৷ ওইদিন আলিপুরদুয়ার ও নদীয়ার রেশন দোকানের মাধ্যমে কথিত মহাপ্রসাদ বাড়ি বাড়ি পৌঁছনোর কাজ শুরু হয়েছে বলে খবর । তবে দক্ষিণবঙ্গের বাকি অংশে শুক্রবার(২০ জুন) থেকে এই মহাপ্রসাদ রূপী প্যাকেট পৌঁছনোর কাজ শুরু হবে ৷
উল্লেখ্য, গত ৯ জুন দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ৩০০ কেজি খোয়া ক্ষীর নিবেদন করা হয় । সেই ক্ষীরের প্যাড়া ও গজা ঐতিহ্যবাহী রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি । কিন্তু সাংবাদিক সম্মেলন করে শুভেন্দু অধিকারী জানান যে একটা গজা ও একটা প্যাড়া দিয়ে মাত্র কুড়ি টাকা মূল্যের প্যাকেট তৈরি করে সেগুলি শ্রী জগন্নাথ কালচারাল সেন্টারের প্রসাদের নামে হিন্দুদের মধ্যে বিতরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি ।
সরকারি সার্কুলার দেখিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এই সার্কুলারটা জেলাশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে । জেলাশাসক সেগুলো এসডিও, বিডিওদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি । এসডিও, বিডিওরা আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে । তাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জগন্নাথ ধাম কালচারাল কমপ্লেক্সের উদ্বোধনের জন্য প্রতিটি ঘরে ঘরে মিষ্টির প্যাকেট বিতরণ করতে হবে ।
প্যাকেটে থাকবে মন্দিরের ছবি এবং দুটো করে মিষ্টি । সব জেলাতেই একই প্যাকেট বিতরণ করা হবে৷ আর এই মিষ্টি দুয়ারে রেশনের মাধ্যমে দিতে বলেছে । লোকাল মিষ্টির দোকানে অর্ডার দিতে বলা হয়েছে । দীঘা থেকে প্যাকেট আসছে না ।’ তিনি রাজ্য সরকার নির্দেশিত মিষ্টির পরিমাপও ওই সার্কুলার থেকে উল্লেখ করেছিলেন । পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের আস্থায় আঘাত করার জন্য মমতা ব্যানার্জি এই কাজ করছেন বলেও অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু অধিকারী ।।

