এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৮ জুন : মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ১৪০টি জনজাতিকে নিয়ে যে নতুন ওবিসি বিল এনেছিলেন তার উপর গতকাল স্থগিতাদেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ । ২৬-এর বিধানসভার ভোটের আগে যা রাজ্যের শাসকদলের কাছে চরম ধাক্কা । এদিকে হাইকোর্টের এই রায়ের পর একদিকে শাসকদলের মধ্যে শ্মশানের নিঃস্তব্ধতা,অন্যদিকে তখন এই রায় উদযাপন করছে বিজেপি । আজ বুধবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিধানসভার গেটে বিজেপি পরিষদীয় দল লাড্ডু বিতরণ করেন । শুভেন্দু অধিকারী “ওবিসি বিল হরিবোল” শ্লোগান তোলেন । করতাল বাজিয়ে তাতে গলা মেলান বিজেপি বিধায়করা । পাশাপাশি “মমতা সরকার আর নেই দরকার”, “মুসলিম তোষণকারী সরকার আর নেই দরকার”,”ওবিসি বিল আটকে গেল”, “ভুয়া ওবিসি বিল হায় হায়” প্রভৃতি শ্লোগান দেওয়া হয় ।
পরে সল্টলেকের করুণাময়ীতে বিজেপির ঘোষিত “রাজ্য সরকারের একতরফা ভাবে ধর্মের ভিত্তিতে ওবিসিদের সংরক্ষণ ও সনাতনী হিন্দু ওবিসিদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার প্রতিবাদে ভারতীয় জনতা ওবিসি মোর্চার ধর্না অবস্থান” মঞ্চে যোগ দেন বিরোধী দলনেতা । মঞ্চে ভাষণে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতিদ্বয় যে ঐতিহাসিক অন্তর্বর্তীকালীন রায় দিয়েছেন তাকে স্বাগত জানাই ৷ এই রায় হওয়া তো কথাই ছিল । চারিদিকে খুশির আবহ । কেবল দুঃখিত মমতা ব্যানার্জি আর তার ভাইপো৷ যে মুসলিমরা পাওয়ার যোগ্য নয় শুধুমাত্র ভোট ব্যাংকের রাজনীতির জন্য মমতা ব্যানার্জি এটা করতে গিয়েছিলেন৷ কিন্তু অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ হয়েছে । অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ মানে চূড়ান্ত রায় নয় । তাই এই আন্দোলনকে প্রতিটা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে । হাইকোর্টের সুপ্রিম কোর্টে তো আমরা লড়বই, রাস্তাতেও আমাদের থাকতে হবে ।’
তিনি বলেন,’পশ্চিমবঙ্গে তোষণের রাজনীতির চরমসীমায় পৌঁছে গেছে । বাবা সাহেব ভীমরাও আম্বেদকর যখন সংবিধান রচনা করেন তখন তপশিলি জাতি এবং উপজাতিদের সংরক্ষণ দিয়ে গেছেন । এই সংরক্ষণ কখনো ভোট ব্যাংকের রাজনীতির জন্য হয় না ৷ এর প্রথম উদ্বোধন করলেন পশ্চিমবঙ্গের কমরেডরা । বামফ্রন্ট মুসলিমদের ভোট নেওয়ার জন্য ওবিসির কেন্দ্রীয় তালিকায় অনেকগুলি মুসলিম সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করেছিল । তারপরেই ২০১১ সালে মমতা ব্যানার্জি ক্ষমতা আসার পর তালিকায় ৯০% মুসলিমদের এনে প্রকৃত ওবিসিদের বঞ্চিত করেছিল । এখন সেটা ৯৮% হয়ে গেছে ।’
শুভেন্দু অধিকারী বলেন,’পশ্চিমবঙ্গে চরম তোষামোদের রাজনীতি চলছে । এর কারণ হলো আমাদের রাজ্যে জনবিন্যাসের ক্রমশ পরিবর্তন হচ্ছে । আর জনবিন্যাস পরিবর্তনের কারণ হলো মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশ সীমান্তে সাড়ে পাঁচশ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফকে জমি দেয়নি । তার ফলে মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা বার্মা থেকে বাংলাদেশের কক্সবাজারের শিবির হয়ে স্থলপথে এবং জলপথে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকছে । তারপর গোটা ভারতের ছড়িয়ে পড়ছে ।’
তিনি বলেন,’এর রাজ্যের তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষরা আমাদের হাজার হাজার বছরের প্রাচীন সনাতনী সংস্কৃতির অবমাননা করছে । মমতা ব্যানার্জি পিতৃপক্ষে দুর্গাপুজোর ফিতে কাটতে শুরু করেন । তিনি রাম মন্দির উদ্বোধনের সময় পার্ক সার্কাসে মিছিল করলেন । নাম দিলেন সংহতি মিছিল । কখনো মহাকুম্ভকে বলছেন মৃত্যুকুম্ভ । মমতা ব্যানার্জি হিন্দু ধর্মকে জনসভাতে গন্দাধর্ম বললেন । এভাবে আজকে বাংলাতে ধর্মনিরপেক্ষতার নামে তোষণবাজি চরমসীমায় চলে গেছে ।’
শুভেন্দু অধিকারী বলেন,’মমতা ব্যানার্জি সংবিধানের কোনো স্তম্ভ মানেন না । এ রাজ্যের ল’মেকার্সদের মার্সাল দিয়ে বিধানসভার বাইরে বের করে দেওয়া হয়, আমলাতন্ত্ররা অবসর নেয় না । মেরুদণ্ড সোজা রাখা আইএএস এবং আইপিএস অফিসারদের মমতা ব্যানার্জি কাজ করতে দেন না। অগণতান্ত্রিক মুখ্যমন্ত্রী । জিহাদীদের নেতা মুখ্যমন্ত্রী । বিচার ব্যবস্থাকে মানেন না ।’।

