এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৭ জুন : ওবিসি মামলায় আদালতে জোর ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ১৪০টি জনজাতিকে নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিলেন । কিন্তু আদালতের নির্দেশ অমান্য করে এবং বিধি না মেনে, নামমাত্র সমীক্ষা করে তড়িঘড়ি নতুন ওবিসি তালিকা প্রকাশের অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের হয় । সেই মামলায় আজ রাজ্যের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল বেঞ্চ । এদিকে আদালতে রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে মন্তব্য করে স্বাগত জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । তার অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের তোষণের রাজনীতির কারনে যোগ্য হিন্দু এবং অন্যান্য অমুসলিম শ্রেণীগুলিকে বঞ্চিত করে তালিকায় ৭৬টি মুসলিম শ্রেণীর অন্তর্ভুক্তি করেছিল ।
শুভেন্দু অধিকারী এক্স-এ লিখেছেন,’মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের তৈরি নতুন ওবিসি তালিকায় ৭৬টি মুসলিম শ্রেণীর অন্তর্ভুক্তি স্থগিত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের জন্য আমি কলকাতার মাননীয় হাইকোর্টের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। এটি একটি অহংকারী রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের এক বিরাট বিজয়, যারা তাদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য বারবার সাংবিধানিক নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকারের স্পষ্ট তোষণের রাজনীতি, যা প্রায় ৯০% নতুন ওবিসি শ্রেণীর অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে স্পষ্ট, সমতা ও ন্যায্যতার নীতির সরাসরি অবমাননা।’
তিনি আরও লিখেছেন,’২০১০ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার আগে, ওবিসি শ্রেণীর মাত্র ২০% মুসলিম ছিল। তবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে, এই সংখ্যা আকাশছোঁয়া বেড়েছে, যোগ্য হিন্দু এবং অন্যান্য অমুসলিম শ্রেণীগুলিকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে যারা ঐতিহাসিকভাবে পিছিয়ে ছিল এবং যাদের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল। আজকের স্থগিতাদেশ একটি শক্তিশালী স্মারক যে রাজনৈতিক সুবিধাবাদের উপর আইনের শাসন প্রাধান্য পায়। ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখার এবং ভোট-ব্যাংক রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে সংরক্ষণের অপব্যবহার না করতে দেওয়ার জন্য আমি বিচার বিভাগকে অভিনন্দন জানাই।’
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দাবি করেছিলেন, রাজ্যে ২৬ শতাংশ এসসি সংরক্ষণ রয়েছে। এসটি সংরক্ষণ ৬ শতাংশ। প্রত্যেকে হিন্দুদের মধ্যে পড়ে। রাজ্যে ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু রয়েছে। পিছিয়ে থাকা সংখ্যালঘুদের খেতে-পরতে দেবো না, তা হতে পারে না। সামাজিক এবং আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়ার উপর ভিত্তি করে মণ্ডল কমিশন অনুযায়ী ওবিসি সংরক্ষণ করা হয়েছে।’ যদিও আজ ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন তোলেন, ‘বিভিন্ন বিষয়ে রাজ্যের ৪-৫টি বিজ্ঞপ্তিতে আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে । কেন ২০১২ সালের আইনে সংশোধনী আনা হল না ?’ বেঞ্চ
আপনারা ২০১২ সালের OBC আইন অনুযায়ী অর্ধেক কাজ করেছেন। তারপর আবার ১৯৯৩ সালের আইনে ফেরত গেছেন, এটা কেন?’ বেঞ্চ রাজ্যের পক্ষে এজি কিশোর দত্তকে প্রশ্ন করেন,’আপনারা ২০১২ সালের ওবিসি আইন অনুযায়ী অর্ধেক কাজ করেছেন। তারপর আবার ১৯৯৩ সালের আইনে ফেরত গেছেন, এটা কেন ?’ বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ হল,২০১২ সালের আইন পুরোটা কার্যকরী করা হয়নি। সেই আইনে যে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা দরকার ছিল, সেটাও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে করা হয়নি ।।

