দেশের তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ বাস্তুতন্ত্রের প্রকৃত চরিত্র জানতে হলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বেলা এম ত্রিবেদীর কার্যকালের দিকে একবার নজর দিতে হবে । তিনি হলেন সেই বিচারক যিনি সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করেননি,তিনি সততার সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করে গেছেন । কিন্তু অবসরের সময়ে তিনি তার প্রাপ্য সম্মানটুকু পাননি । তার ন্যায়নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের জন্য তাকে প্রাপ্য সম্মান দেয়নি বিতর্কিত আইনজীবী কপিল সিব্বালের কথিত ধর্মনিরপেক্ষ বাস্তুতন্ত্র ।
সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহ্য হলো বার অ্যাসোসিয়েশন প্রতিটি অবসরপ্রাপ্ত বিচারককে সম্মানিত করে। কিন্তু বিচারপতি বেলা এম ত্রিবেদীর ক্ষেত্রে কপিল সিব্বলের নেতৃত্বাধীন SCBA তা সেই সম্মান তাকে দিতে দেয়নি ।
কারণ কি ? কারণটা জানলে আপনারা অবাক হয়ে যাবেন ।
প্রথম কারন হল, বেলা ত্রিবেদী সুপ্রিম কোর্টে যারা ভুয়া মামলা দায়ের করছিল তাদের সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন । আসলে, ২০২৪ সালে, কিছু আইনজীবী এবং AOR মিলে একজন ব্যক্তির নামে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। যখন সেই ব্যক্তি নিজেই আদালতে একটি চিঠি পাঠিয়ে জানান যে তিনি এই ধরণের কোনও মামলা দায়ের করেননি, তখন ত্রিবেদীজির বেঞ্চ সরাসরি সিবিআইকে এই বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন । এতে পুরো বাস্তুতন্ত্র ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে, মিথ্যা আবেদনের মাধ্যমে কে বিচারব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করছে ? এই প্রশ্ন ওঠে তখন ।
কপিল সিব্বল সহ কিছু লোক চেয়েছিলেন যে এই প্রতারকদের ক্ষমা করা উচিত। কিন্তু জাস্টিস ত্রিবেদী বলেছিলেন – “আইন সবার জন্য সমান”। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ শুরু হয়। এছাড়া উমর খালিদকেও জামিন দেননি তিনি । এটি কপিল সিব্বলদের ‘দুষ্টচক্র’-দের জন্যও সমস্যা তৈরি করেছিল। বেলা ত্রিবেদী হলেন সেই একই বিচারক যিনি গুজরাট সরকারের আইন সচিবও ছিলেন। তৎকালীন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল । আর এটাই ছিল সিব্বলদের তার প্রতি ঘৃণার একটা অজুহাত ।
বিচারপতি বেলা এম ত্রিবেদী EWS সংরক্ষণের পক্ষে রায় দিয়েছেন, যাতে সাধারণ শ্রেণীর দরিদ্ররাও সমান সুযোগ পান –কেউ কেউ এতে ক্ষুব্ধও হয়েছিলেন। ডি কে শিবকুমারের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ এবং সত্যেন্দ্র জৈনের জামিন না দেওয়া – এই সমস্ত বিষয় এই দলটিকে আরও ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল।
এটা স্পষ্ট যে কেউ নিয়ম মেনে চলুক, ভ্রষ্ট সিস্টেমের সংস্কার করুক,এটা কপিল সিব্বালের বাস্তুতন্ত্র পছন্দ করেনি । তারা চায় বিক্রয়যোগ্য সিদ্ধান্ত, সিদ্ধান্তহীন মনোভাব এবং নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী ন্যায়বিচার।
বেলা ত্রিবেদীকে সম্মান না দিয়ে এই লোকেরা নিজেদের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ করেছে । কিন্তু সত্য হলো, একজন সৎ বিচারককে সম্মান না দিয়ে তারা নিজেদের ভাবমূর্তিকেই কালিমালিপ্ত করে ফেলেছে ।
প্রসঙ্গত,জওহরলাল নেহেরুর সময় থেকেই সুপ্রিম কোর্টে বামপন্থী বাস্তুতন্ত্র গজিয়ে উঠেছে । তারা নিজের ইচ্ছামত আদালতকে পরিচালিত করে এসেছে এতদিন । আজ সেই বাস্তুতন্ত্রের পান্ডা হলেন গান্ধী-নেহেরু পরিবারের দালাল বলে পরিচিত আইনজীবী কপিল সিব্বাল ।
কিন্তু সুপ্রিম কোর্টকে বামপন্থার শৃঙ্খলে বেশিদিন আটকে রাখা যাবে না। দেশ যেমন বামপন্থা থেকে মুক্ত হয়েছে, তেমনি সুপ্রিম কোর্ট থেকেও একদিন তারা পরিষ্কার হবে । এখন জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে-তারা কাকে সমর্থন করবে…ন্যায়বিচারকে অথবা মুখোশধারী শত্রুদের ।।

