এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৮ অক্টোবর : কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজোয় পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জন দর্শণার্থীর মৃত্যু হয়েছে । শনিবার রাতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে,কারোর গাফেলতি প্রমান হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে । অবশেষে আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটল রাজ্য সরকার । এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের দায় পুজো উদ্যোক্তাদের কাঁধে চাপিয়ে গিরিশ পার্ক থানায় স্বতঃপ্রণোদিতভাবে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। তার ভিত্তিতে পুজো কমিটির সম্পাদক, সহ-সভাপতি এবং একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দুই শীর্ষকর্তা সহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে খবর। পাশাপাশি সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ সহ বিস্তীর্ণ চোরবাগান সংলগ্ন এলাকায় আগামী তিনদিনের জন্য ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে।
এদিকে আজ সকালেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাথে অ্যাপোলো হাসপাতালে গিয়ে আহতদের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ । তার আগে তিনি দক্ষিণ কলকাতার বিখ্যাত কালীঘাট মন্দিরে পূজো দিতে যান । তার সাথে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী,রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সহ একাধিক বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
উল্লেখ্য,শনিবার দুপুরের পর থেকে কলকাতায় বৃষ্টিপাত হলেও পূজো মণ্ডপগুলিতে ছিল উপচে পড়া ভিড় । সন্ধ্যার দিকে ফের বৃষ্টির জেরে বহু মানুষ আশ্রয় নিতে চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে ভিড় জমায়। আর সেই সময়ই ঘটে যায় মর্মান্তিক পদপৃষ্টের ঘটনা । তথ্য অনুযায়ী, বড় বিপদের আঁচ পেয়ে দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক মুহূর্ত আগেই মাইক থেকে মাইকিং করে সতর্কতা জারি করেছিল পুজো কমিটি। মণ্ডপের ভেতর আটকে পড়া ভিড় এবং বাইরে থেকে নতুন করে ঢোকার উপচে পড়া স্রোত সামাল দিতে মাইকে বারবার ঘোষণা করা হয়েছিল যে প্যান্ডেলের অবস্থা ভালো নয় এবং তা ভেঙে পড়তে পারে, তাই দর্শনার্থীরা যেন দ্রুত বেরিয়ে আসেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি এবং সেই সতর্কবার্তার ঠিক পরেই ঘটে যায় ভয়াবহ ঘটনাটি ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, চোরবাগান মণ্ডপের প্রবেশপথের ঠিক পরেই রয়েছে একটি বৃত্তাকার এলিভেটেড করিডোর, যেখান দিয়ে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে দর্শনার্থীদের বাইরে বের হতে হতো। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এই নির্দিষ্ট করিডোর চত্বরেই চরম হুড়োহুড়ি ও পদপিষ্টের ঘটনাটি ঘটে। যাতে ১৯ জনের মৃত্যু হয় এবং অন্তত ২৫ জন আহত হয় । আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে ।।

