এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৫ অক্টোবর : এবারে দুর্গাপূজার সময় বামপন্থীদের বুকস্টল ঘিরে রাজ্য জুড়ে বিস্তর অশান্তি হয়েছে ৷ হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির পাশাপাশি অনেক সাধারণ মানুষও বামপন্থীদের ‘নেতিবাচক’ লেখা বই নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখিয়েছে । সিপিএম আর এস আই সি ইউ-এর বুকস্টলে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে । রাজ্য বিজেপির ক্যাবিনেট মন্ত্রী স্বপন দাসগুপ্ত আর রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বামপন্থীদের বুকস্টল ভাঙচুরের নিন্দা করলেও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে,পশ্চিমবঙ্গে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বা ‘সনাতন বিরোধী’ কোনও লেখা বরদাস্ত করা হবে না। আজ রবিবার শুভেন্দু বলেন,৩৪ বছরের নাস্তিক সিপিএম আর ১৫ বছরের জামাতি তৃণমূল সংস্কৃতিকে শেষ করে দিয়েছে৷ এর থেকে বেরিয়ে আসতে প্রাথমিক স্কুল স্তরে “রাষ্ট্রবাদী” শিক্ষার উপর জোর দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি । মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন,’মা’কে আম্মা, ফুফু-বুবু- রংধনু, এসব কি ? এসব পরিবর্তন করা দরকার আছে ।’ তিনি বলেন,’আগামী বছর থেকে স্কুলের পাঠক্রমে আমূল পরিবর্তন দেখতে পাবেন ।’
আজ রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের চোরবাগানে মৃত কল্পনা জানার বাড়িতে শ্রদ্ধা জানাতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ‘দিমাগি নকশাল’ ও ‘আরশোলা’দের প্রতিরোধ করতে স্কুলস্তরে ‘রাষ্ট্রবাদে’র পাঠ এবং সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেন । তিনি বলেন,’প্রাথমিক স্কুল স্তরে ছাত্রছাত্রীদের রাষ্ট্রবাদী করার জন্য প্রত্যেক বছর তিন দিন ধরে অন্তত বিতর্ক, কুইজ প্রতিযোগিতা, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা—এগুলোও কালচারাল ইভেন্টের মধ্যে আনতে হবে। তাহলেই এই ‘আরশোলা’, ‘ছারপোকা’, ‘দিমাগি নকশাল’, টুকরে টুকরে গ্যাং, কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি—এই সমস্ত ভাইরাসগুলোকে দমন করতে আর হিট স্প্রে করার প্রয়োজন হবে না।’
এদিন পূর্বের বাম ও তৃণমূল জমানাকে একযোগে আক্রমণ করে তিনি বলেন,’৩৪ বছরের নাস্তিক ও ১৫ বছরের জামাতিরা ঐতিহ্য, সংস্কৃতি নষ্ট করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনসিসি তুলে দিয়েছেন। এনসিসি কেউ তুলে দেয়? মা-কে আম্মা—এসব শিখিয়েছে। ফুফু, রংধনু—এসব কী? সব পরিবর্তন করার দরকার আছে।’
পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে স্কুলে মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা এবং পুরনো পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনারও জোরালো সওয়াল করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ভারতবর্ষ ও পশ্চিমবঙ্গের সঠিক ইতিহাস পড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি স্কুলে ব্রতচারী, এনএসএস এবং এনসিসি-র মতো শৃঙ্খলাবদ্ধ পাঠগুলি বাধ্যতামূলকভাবে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
পাশাপাশি বামপন্থীদের বুকস্টল ভাঙচুর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন,’মানুষের লেখা, ইত্যাদি তার নিজস্ব অভিব্যক্তির উপর নির্ভর করে। তবে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রবিরোধী বা সনাতন বিরোধী, কোনও ধর্মকে আঘাত করে লেখা আমরা করতে দেব না। স্টল খাটিয়ে যেটা করার চেষ্টা হয়েছিল, মানুষ সেটাকে প্রতিহত করেছে।’।
