এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২০ অক্টোবর : চলতি দুর্গাপূজায় বামপন্থী দলগুলির বুক স্টল বসানো ঘিরে বিস্তর অশান্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে । হিন্দু ধর্ম বিদ্বেষমূলক ও লেলিন-মার্ক্সের গুণগান করা বই নজরে পড়তেই হিন্দুত্ববাদীরা স্টল ভাঙচুর থেকে শুরু করে বামপন্থী নেতাকর্মীদের বেদম পিটিয়ে দিচ্ছে । বামপন্থীদের এনিয়ে কান্নাকাটির পাশাপাশি বিষয় আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে । এমতবস্থায় বাঙালি হিন্দুদের শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজার সময়েই “নাস্তিক” বামপন্থীদের বই বিক্রির হিড়িক কেন বাড়ে, এনিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রক ও পর্যটন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও শিলিগুড়ির বিধায়ক ডঃ শঙ্কর ঘোষ ।
তিনি আজ মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এনিয়ে লিখেছেন,“সারা বছর বামেদের পরিচালিত বুক স্টলে ক্রেতার দেখা নেই, মাছি তাড়াতেই ব্যস্ত! তাই কি হিন্দুদের পুজো মণ্ডপে বইয়ের পসরা সাজিয়ে বসা ? আদর্শের প্রচার, নাকি বিক্রির জন্য পুজোর আবেগকে হাতিয়ার করা?” শঙ্কর ঘোষ আরও প্রশ্ন তুলেছেন,”সারা বছর ধর্মবিরোধী (হিন্দু) রাজনীতি, আর পুজো এলেই হিন্দু ধর্মের মণ্ডপে বইয়ের পসরা!আদর্শ যদি সত্যিই থাকে, তবে এই দ্বিচারিতা কেন?”
উল্লেখ্য,শনিবার সন্ধ্যায় চোরবাগানে যখন পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়, তখন সেখান থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে, বুকস্টল নিয়ে সিপিএমের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদ হয় কলকাতা পুলিশের। যাদবপুরের এইট-বি-তে সিপিএমের বুক স্টলে আসে পুলিশ। অনুমতিপত্র দেখতে চাওয়া হয়। পুলিশের সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুরসভার গাড়ি এবং বুলডোজার। মানববন্ধ করে স্টল ঘিরে দাঁড়ান বাম মহিলা কর্মীরা। পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদ হয় সুজন চক্রবর্তীদের। বুলডোজারের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন অনেকেই বিক্ষোভের মুখে ফিরে যায় পুলিশ। রবিবার বুকস্টলে সেই বই স্টলে যান কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন , বইয়ের স্টল ভাঙতে কেন বুলডোজার?
যাদবপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে পুলিশ ও বাম সমর্থকদের মধ্যে টানাপোড়েন চলে। শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে সাময়িক স্বস্তি পায় সিপিএম। এই মামলায় রাজ্যকে আর্থিক জরিমানা করার আর্জি জানিয়েছে সিপিএম। আজ মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ৷
যাদবপুর ছাড়াও ওইদিনেই, নাগেরবাজারে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের পতাকা হাতে সিপিএমের স্টলে ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ । বই রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। বারাসাতের চাঁপাডালি মোড়েও সিপিএমের স্টলে ভাঙচুর করা হয়। ঢাকুরিয়া ব্রিজের কাছে তিন বাম দলের স্টল তুলে দেয় পুলিশ। শুক্রবার কলকাতায় দিকে দিকে বামেদের বুক স্টলে বাধার অভিযোগ ওঠে । সকাল থেকে বিকেল, এনিয়ে দফায় দফায় অশান্তি বাধে এন্টালিতে। জোড়াবাগানে বিজেপির বিরুদ্ধে স্টলের কাঠামো সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলে সিপিএম। প্রায় একই ছবি আহিরীটোলাতেও। তবে বিজেপির দাবি, সিপিএম প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে । তাই গনরোষের মুখে পড়তে হচ্ছে ।
এদিকে, বারাসতে সিপিএমের একটি বইয়ের স্টলে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। রবিবার বারাসতের নবপল্লি ভদ্রবাড়ি মোড়ে ওই ঘটনায় সিপিএমের পাঁচ সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি দলের। সিপিএম নেতা পলাশ দাস সমাজমাধ্যমে অভিযোগ করেন, হামলায় আহতদের বারাসতের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে বিজেপির বক্তব্য জানা যায়নি।
সিপিএমের অভিযোগ, পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনা-সহ রাজ্যের কয়েকটি জেলায় একাধিক বইয়ের স্টল ভাঙচুর করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলির পিছনে বিজেপি ও আরএসএস-ঘনিষ্ঠ সংগঠনগুলির সমর্থকদের হাত রয়েছে বলে দাবি সিপিএমের।।

