এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,০৩ ডিসেম্বর : ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের বানিয়াচং ও আজমিরিগঞ্জ থানায় হামলা চালিয়ে এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে(শুভ) ময়মনসিংহের দীপু দাসের কায়দায় পিটিয়ে আধমরা করে গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে মেরেছিল কথিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জিহাদিরা৷ হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানা থেকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ পরিচয়ে এক যুবককে ছাড়িয়ে আনতে গিয়ে পুলিশের সামনেই ৫ আগস্টের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের স্বীকারোক্তি দিল ওই জিহাদি গোষ্ঠীর এক নেতা মাহদী হাসান । তার ওই স্বীকারোক্তিমূলক একটা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে । যেখানে তাকে বলতে শোনা যায়,‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কারণে আজকে এই প্রশাসন বসেছে। আমরা বানিয়াচং থানা পুড়িয়েছি, এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালিয়ে দিয়েছি।’
ভিডিওতে উল্লেখিত ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। ওই দিন বানিয়াচং ও আজমিরিগঞ্জ থানায় নৃশংস বর্বরোচিত হামলা চালায় বাংলাদেশের জিহাদি ছাত্র গোষ্ঠী৷ থানা পুড়িয়ে অস্ত্র লুট করা হয়। সে সময় পুলিশের এসআই ৩৬ বছর বয়সী সন্তোষ চৌধুরীকে উদ্ধার করতে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গেলে জিহাদিরা সেনাবাহিনী ও পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাকে পিটিয়ে আধমরা করে গাছে ঝুলিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরে ফেলে ।এই নৃশংস ঘটনার পর এসআই সন্তোষের পরিবার এখনো ন্যায়বিচার পায়নি। এমনকি দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিহত হলেও বাহিনীর পক্ষ থেকে তার পরিবার যথাযথ সুযোগ- সুবিধা পর্যন্ত পায়নি বলে জানা গেছে। এতদিন বিষয়টি নিয়ে মূলধারার গণমাধ্যমে তেমন আলোচনা না হলেও, খোদ ছাত্রনেতার স্বীকারোক্তিতে বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ে এনামুল হাসান নয়নকে কলিমনগরের বাড়ি থেকে আটক করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় আনা হয়। পুলিশ জানায়, ২০২৩ সালের ছাত্রলীগের কমিটির পদধারী নেতা ছিল নয়ন। দুপুরে তাকে ছাড়াতে থানায় যায় মাহদী হাসানের নেতৃত্বে তথাকথিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। মাহদী দাবি করে, নয়ন অতীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত থাকলেও জুলাই আন্দোলনে দল ত্যাগ করে সম্মুখ সারিতে লড়াই করেছে। সে বলে, ‘ওসি শুরুতে আমাদের কথায় গুরুত্ব দেননি। পরে সহকারী পুলিশ সুপারের মধ্যস্থতায় বিষয়টি সুরাহা হয়। নয়নকে না ছাড়ালে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিত।’
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আন্দোলনকারী জানান, এনামুল হাসান নয়ন ছাত্রলীগের কমিটিতে নাম লেখালেও মূলত সে এবং তার পরিবার কট্টরপন্থী ইসলামি গোষ্ঠী জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত। শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম বলেন, ‘এনামুল হাসান নয়ন শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিল, সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছিল। পরে বৈষম্যবিরোধী নেতৃবৃন্দ তার জুলাই আন্দোলনে জড়িত থাকার প্রমাণ দিলে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’।

