এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,২০ সেপ্টেম্বর : বাংলাদেশের খুলনা থেকে একটা মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে । মেসে ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে নির্মমভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে । ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে খাজা খানজাহান আলী আবাসিক হলের পেছনে ইসলাম নগর রোডের একটি চারতলা ছাত্রাবাসে । নিহত ২১ বছর বয়সি আজমুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি নগরীর বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন।
জানা গেছে,চারতলা ভবন পুরোটা ছাত্রদের মেস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন ছাত্র থাকেন। প্রায় এক বছর আগে আজমুল চারতলার ডি-৮ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। চারতলায় মোট আটটি ঘর রয়েছে। ডি-২ কক্ষে থাকেন মেসের ম্যানেজার ও গোপালগঞ্জ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মেহেদী।
জানা যায়,শুক্রবার রাতে মেহেদীর ভাত খেয়ে ফেলেন আজমুল। এরপর ভাত চুরি করে খাওয়ার অপবাদ দিয়ে মেহেদীসহ মেসের কয়েকজন ও বহিরাগত কয়েকজন তাকে ছাদে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে মারধর করে নিচে ফেলে দেয় । ছাদ থেকে কিছু একটা পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পান আশপাশের বাসিন্দারা। পরে তারা গলিতে আজমুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে মেসের অন্য ছাত্ররা তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর খবর পেয়ে মেসের ছাত্ররা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে দ্রুত চলে যান বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একজন চিকিৎসক বলেন, আজমুলের সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার দুই পাও ভাঙা ছিল।মেসের মসি ফাতেমা বললেন, আজমুলের বিরুদ্ধে এর আগেও টাকা ও জামা-কাপড় চুরির অভিযোগ ছিল। তবে শুক্রবার রাতে ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগে মেসের ছাত্র ও বহিরাগতরা তাকে মারধর করেন। তিনি নিষেধ করলেও তারা শোনেননি।
নগরের হরিণটানা থানায় ওসি মহম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। আজমুলের বাবা মামলা না করলে পুলিশ স্বতপ্রণোদিত হয়ে মামলা করবে।মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার হুমায়ুন কবির বলেন,’এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে আইনগতভাবে যা যা করা যায়, আমরা তাই করব।’।

