এইদিন ওয়েবডেস্ক,কাটোয়া(পূর্ব বর্ধমান),১৬ মে : শুক্রবার দুপুরে কাটোয়া আজিমগঞ্জ লাইনে কাটোয়া স্টেশনের অদূরে কেশিয়াপাড়ায় রেলফটকের কাছে রেলদপ্তরের নিজস্ব জায়গা ঘিরতে গিয়ে স্থানীয়দের পাথরবাজিতে জখম হন ৫ জন আরপিএফ কর্মী । যদিও রাতেই বিশাল বাহিনীকে সঙ্গে গিয়ে জায়গা ঘেরার কাজ সম্পূর্ণ করে রেল কর্তৃপক্ষ । এদিকে হামলার ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সুফল রাজোয়া এবং আব্দুল হাসেম ও সাজাহান শেখ নামে আরও দুই তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে জিআরপি । আজ শনিবার ধৃতদের কাটোয়া মহকুমা আদালতে তোলা হলে সুফল রাজোয়াকে তিন দিনের জিআরপি হেফাজত এবং আব্দুল হাসেম ও সাজাহান শেখকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে,ধৃত সুফল রাজোয়া কাটোয়া পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর। বাকি দুই অভিযুক্ত আব্দুল হাসেম ও সাজাহান শেখ পুরসভার কর্মী এবং স্থানীয় তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত৷ তারা তিনজন মিলেই এলাকার মানুষকে উসকে দিয়ে এই ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ। এদিকে কাটোয়ার বিজেপি বিধায়ক সাধারণ মানুষদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন,’তৃণমূল থেকে সাবধান । ওরা ভোটে পরাজিত হয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে পারে ।’ তিনি আরও বলেছেন,’যদি কোনো আপত্তি থাকে তাহলে অভিযোগ জানানোর নির্দিষ্ট জায়গা আছে । তাই বলে সরকারি কর্মীদের উপর হামলা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায়না ।’
কাটোয়া রেলস্টেশন থেকে কিছুটা দূরে কাটোয়া -আজিমগঞ্জ শাখায় রেললাইন পারাপার করে চলাচল করে কাটোয়া পুরসভার ১৩ নম্বর, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড সহ আশপাশের ওয়ার্ডের অন্তর্গত মাঠপাড়া, কেশিয়া, দরগাতলা, কুলতলা প্রভৃতি পাড়ার লোকজনরা । বিকল্প রাস্তা থাকলেও সেটি একটু ঘুরপথ হওয়ায় স্থানীয়রা রেললাইন টপকে যাতায়াত করতেই বেশি পছন্দ করে । যদিও রেলের তরফে এইভাবে লাইন টপকে যাতায়াতের অনুমতি নেই। ইতিপূর্বেও রেলদপ্তর নিজস্ব জায়গা ঘেরার কাজ করতে গিয়েছিল । কিন্তু তখনও স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়তে হয় ।সেসময় স্থানীয়দের চাপে পড়ে ৮ ফুট চওড়া অংশ যাতায়াতের জন্য ছেড়ে রেখে বাকি অংশ ঘেরা হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার দুপুরে ওই অবশিষ্ট অংশ ঘিরতে প্রচুর লোকজন জড়ো হয়ে রেলকর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে দেয় । জনতার পাথরবাজিতে গুরুতর জখম হন ৫ আরপিএফ কর্মী হলেন অধীর দেবনাথ, বিপিন বিহারী পাসোয়ান, অমর হালদার, এস কে সাধূ, এবং ভি এন সিনহা । এই ঘটনায় আরপিএফের সাব-ইন্সপেক্টর রঞ্জিত কুমার শুক্রবার রাতেই সুফল রাজোয়া, আব্দুল হাসেম-সহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় তৃণমূল কাউন্সিল ও দুই তৃণমূল কর্মীকে । বাকিদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চলছে ।।
