গারউইন টুমেল্টি বিশ্বের সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক রোগে ভুগছেন এবং এতটাই যন্ত্রণায় ছিলেন যে তিনি আত্মহত্যা পর্যন্ত করতে চেয়েছিলেন । তিনি দুই বছর ধরে ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া নামক একটি অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক রোগে ভুগছিলেন। তিনি এই আক্রমণগুলোকে “বৈদ্যুতিক শক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা সাধারণ নড়াচড়া করলেই শুরু হতো। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, খাওয়ার মাঝেই তাকে টেবিল ছেড়ে উঠে যেতে হতো।
যন্ত্রণা এতটাই অসহনীয় ছিল যে, গারউইনের মনে বেশ কয়েকবার আত্মহত্যার চিন্তা এসেছিল। “আমি অদৃশ্য হয়ে যেতে চেয়েছিলাম।” শুধুমাত্র পরিবারের ভালোবাসাই তাকে এই কাজটি করা থেকে বিরত রেখেছিল। দুই বছরের যন্ত্রণার পর, ২০১৯ সালে তিনি একটি জটিল নিউরোসার্জারির মধ্য দিয়ে যান: ট্রাইজেমিনাল নার্ভের মাইক্রোভাসকুলার ডিকম্প্রেশন। এই অপারেশনে নার্ভের উপর থেকে চাপ কমানোর জন্য মাথার খুলি খোলা হয় এবং এটি সফল হয়েছিল।
গারউইন এখন তার শারীরিক যন্ত্রণা থেকে অনেকটাই মুক্তি পেয়েছেন। মানসিক শৃঙ্খলা জোরদার করার জন্য তিনি আবার সক্রিয় ও খেলাধুলাপূর্ণ জীবনযাত্রা শুরু করেছেন। তবে, এর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব রয়ে গেছে এবং ২০২২ সালে তাঁকে বিষণ্ণতার সাথে লড়াই করতে হয়েছিল।
বন্ধু ও পরিবারের সমর্থনে গারউইন এই কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হন। এই স্বল্প-পরিচিত রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে তিনি তাঁর গল্পটি বলছেন এবং যারা এতে ভুগছেন, তাঁদেরকে নিজেদের কষ্টের কথা বলতে উৎসাহিত করছেন।
কি এই ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া ?
ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া (Trigeminal Neuralgia) হলো মুখের ট্রাইজেমিনাল স্নায়ুর সমস্যার কারণে সৃষ্ট অত্যন্ত তীব্র ও আকস্মিক ব্যথা, যা সাধারণত বিদ্যুৎ শকের মতো অনুভূত হয় । এটি সাধারণত মুখের একপাশে চোয়াল, দাঁত বা গালে অনুভূত হয় । চিকিৎসায় প্রধানত কার্বামাজেপাইন বা অক্সকার্বাজেপাইন ওষুধ ব্যবহৃত হয় এবং গুরুতর ক্ষেত্রে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন বা সার্জারি করা হয় ।
মূল লক্ষণ হল :
হঠাৎ মুখে ছুরিকাঘাত বা বৈদ্যুতিক শকের মতো তীব্র ব্যথা। ব্রাশ করা, কথা বলা, খাওয়া বা মুখে বাতাস লাগলে এই ব্যথা শুরু হতে পারে । ব্যথা কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে ।
চিকিৎসা পদ্ধতি ও ওষুধ :
ওষুধ: ব্যথা কমানোর জন্য কার্বামাজেপাইন (Carbamazepine) সাধারণত প্রথম সারির ওষুধ । এছাড়া অক্সকার্বাজেপাইন (Oxcarbazepine), গ্যাবাপেন্টিন (Gabapentin) বা ব্যাক্লোফেন (Baclofen) ব্যবহার করা হয় ।
ওষুধে কাজ না হলে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন (RFA) বা নার্ভ ব্লকের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয় ।
মাইক্রোভ্যাসকুলার ডিকম্প্রেশন (MVD) নামক অস্ত্রোপচারও করা যেতে পারে ।
সতর্কতা :
এই রোগের চিকিৎসার জন্য অবশ্যই একজন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ (Neurologist) বা নিউরোসার্জনের পরামর্শ নেওয়া উচিত।।
