এইদিন ওয়েবডেস্ক,কোচবিহার,১৫ আগস্ট : স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ভারত -বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ এলাকা থেকে ৩ জন পাকিস্তানি গুপ্তচরকে গ্রেপ্তার করল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) । ধৃতদের নাম রশিদুল হক, নূর নাসিরুদ্দিন আলি এবং শফিকুল ইসলাম। ধৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ভুয়ো নথির সাহায্যে ভারতীয় সিমকার্ড সংগ্রহ করে চোরাপথে বাংলাদেশে পাঠাতো এবং সেখান থেকে তা পৌঁছে যেত পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে আই এস আই-এর হাতে । তদন্তকারীদের প্রাথমিক সন্দেহ, ধৃতরা একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার কাজে এই সিমকার্ডগুলি ব্যবহার করা হতে পারে। বিশেষ করে সামরিক বাহিনী বা নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের টার্গেট করে ‘হানিট্র্যাপ’ তৈরির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সুন্দরী নারীদের ছবি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতীয় সামরিক বাহিনীর কর্মীদের ফাঁদে ফেলে দেশের গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা । এছাড়া ধৃতরা জাল নোটের কারবার এবং বাংলাদেশ সীমান্তে চোরাচালানের সঙ্গেও যুক্ত ছিল বলে STF জানতে পেরেছে।
এর আগে উত্তর ২৪ পরগনার হাবরা এলাকা থেকে রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলম নামে এক পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে STF । সে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় তাকে ধরা হয়। তার কাছ থেকে কলকাতায় অবস্থিত ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের সদর দপ্তর ফোর্ট উইলিয়ামের একটি মানচিত্র ও ছবি উদ্ধার করা হয়। ধৃত পাকিস্তানি সীমান্ত এলাকার সামরিক পরিকাঠামো এবং গতিবিধি সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করছিল । তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর কলকাতার তপসিয়া এলাকা থেকে মহম্মদ ইজাজ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। যে রানা রউফ খালিদকে আশ্রয় দিয়ে এবং জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র পেতে সাহায্য করেছিল।
রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমকে জেরার পর এবং তার নোটবুকের তথ্য খতিয়ে দেখেই কোচবিহারের এই চক্রটির ৭ জনের সন্ধান মেলে ।তাদের মধ্যে ৩ জনকে পাকড়াও করা সম্ভব হলেও তিনজন এখনো অধরা ।তদন্তকারীদের অনুমান, শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের আরও কয়েকটি সীমান্তবর্তী এলাকায় এই ধরনের নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকতে পারে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সন্দেহজনক যোগাযোগ ও লেনদেনের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।ধৃতদের মোবাইল ফোন, যোগাযোগের তথ্য, নথিপত্র এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল ।।
