এইদিন ওয়েবডেস্ক,উত্তর চব্বিশ পরগণা,০৭ মে : বুধবার রাতে উত্তর চব্বিশ পরগণার মধ্যমগ্রামের দোহরিয়া এলাকায় যশোর রোডের উপর তাঁর চলন্ত গাড়িকে থাকা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে খুন করেছে বাইক আরোহী দুষ্কৃতীদল । ঘটনার কথা জানতে পেরেই শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, অর্জুন সিংহ, কৌস্তভ বাগচী সহ বিজেপির শীর্ষনেতৃত্ব পৌঁছে যান মধ্যমগ্রামে । এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন,’পরিকল্পিত ভাবে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে চন্দ্রনাথকে ।’ এর সাথে রাজনীতির যোগ থাকতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন । তিনি বলেন,’১৫ বছর ধরে রাজ্যে প্রতিহিংসার রাজনীতি চলেছে। বুধবারই খড়দহে বোমা, বরাহনগরে ছুরি ও বসিরহাটে গুলিতে আক্রান্ত হয়েছেন বিজেপি কর্মীরা।’
বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের হাসপাতালের সামনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে পাশে নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন,বেশ কয়েক দিন ধরে রেইকি করে পরিকল্পনামাফিক ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে তাঁর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে।এই খুনের সঙ্গে রাজনীতির যোগ থাকতে পারে। তবে তা নিয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করতে চান না তিনি। রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তথ্য পাওয়া গিয়েছে। শুভেন্দুর দাবি, সঠিক তদন্তের স্বার্থেই ফুটেজের বিষয়ে কোনও তথ্য চাওয়া হয়নি পুলিশের কাছ থেকে। তিনি আরও জানান, তদন্তের জন্য পুলিশের উপরেই ভরসা রাখা হচ্ছে। দোষীরা দ্রুত ধরা পড়বে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি দলের কর্মীদের শান্ত থাকার বার্তা দিয়েছেন । তিনি আরও জানান, মৃতের পরিবারের ও আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নেবে দল।
চন্দ্রনাথ রথের শেকড় ছিল পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে। মেধাবী ছাত্র হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল শৈশব থেকেই।মাধ্যমিকে তিনি ২০০০ সালে উত্তর ২৪ পরগনার বিখ্যাত রহড়া রামকৃষ্ণ মিশন থেকে অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন । রহড়া মিশনের প্রাক্তনী হিসেবে তাঁর চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং শৃঙ্খলা ছিল অনুকরণীয়। মিশনের আদর্শই তাঁকে পরবর্তী জীবনে দেশের সেবায় উদ্বুদ্ধ করেছিল । ভারতীয় বায়ুসেনার গর্ব উচ্চশিক্ষা শেষ করে তিনি দেশের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেন। তিনি ভারতীয় বায়ুসেনায় (Indian Air Force) যোগদান করেন । বায়ুসেনায় তিনি শর্ট সার্ভিস কমিশনে (Short Service Commission) অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।বেশ কয়েক বছর বায়ুসেনায় দায়িত্ব পালনের পর তিনি সেখান থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
বায়ুসেনা থেকে ফিরে চন্দ্রনাথ রথ রাজনীতির আঙিনায় পদার্পণ করেন। শুভেন্দু অধিকারীর সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিল প্রশ্নাতীত বিশ্বাসের । দীর্ঘ দিন ধরেই শুভেন্দুর আপ্ত সহায়কের দায়িত্ব সামলেছেন চন্দ্রনাথ রথ। বুধবার দিনভর শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেই ছিলেন তিনি । রাতে নিজের স্করপিও গাড়িতে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন । ফেরার সময় উত্তর চব্বিশ পরগণার মধ্যমগ্রামের কাছে ওই গাড়িটি একটি বিরিয়ানির দোকানের সামনে থেমেছিল। গাড়ির চালকের পাশের আসনে বসছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা । তাঁর শরীরে অন্তত তিনটি গুলি বিদ্ধ হয় বলে জানা গিয়েছে। গাড়ি চালকও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এই ঘটনার পরই চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চন্দ্রনাথ রথ এবং গাড়ির চালককে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষের অভিযোগ, ভবানীপুর কেন্দ্রে নিবিড়ভাবে নির্বাচনী কাজ করার জন্যই প্রাণের মাশুল দিতে হল শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ বা চন্দ্রকে।।
