এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,১৩ জুলাই : ভারত সরকার তার প্রতিরক্ষা উৎপাদন নীতিতে একটি বড় পরিবর্তন আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই প্রথমবার, কেন্দ্রীয় সরকার ভারতের বেসরকারি সংস্থাগুলোকে ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন ও উৎপাদনের অনুমতি দেওয়ার দিকে এগোচ্ছে। এখন পর্যন্ত, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন মূলত সরকারি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
সরকারের এই পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে নেওয়া হচ্ছে যখন ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো ভারতের দেশীয়ভাবে তৈরি অস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং ভারত প্রতিরক্ষা রপ্তানি বাড়াতে ও উৎপাদন ক্ষমতা প্রসারিত করতে চাইছে। এটিকে দেশের প্রতিরক্ষা খাতে এখন পর্যন্ত অন্যতম বড় সংস্কার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শীঘ্রই অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল উৎপাদনের জন্য বেসরকারি সংস্থাগুলির কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান (আরএফপি) করতে পারে। আইকম, আদানি গ্রুপ, ভারত ফোর্জ, টাটা গ্রুপ এবং মাহিন্দ্রা গ্রুপের মতো প্রধান ভারতীয় সংস্থাগুলি এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে কারণ ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী এবং মিত্র দেশগুলির কাছ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে, অথচ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড (বিডিএল) একা বর্তমান চাহিদা মেটাতে সক্ষম নয়।
প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) দ্বারা নির্মিত অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ এর পাল্লা প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার। এটি চীনের দূরপাল্লার পিএল-১৫ই এয়ার-টু-এয়ার মিসাইলকে মোকাবেলা করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যা গত বছর অপারেশন সিঁদুরের আগে পাকিস্তান সংগ্রহ করেছিল বলে জানা গেছে।
প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) দ্বারা নির্মিত অস্ত্র মার্ক-২ এর পাল্লা প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার। এটি চীনের দূরপাল্লার পিএল-১৫ই আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রকে মোকাবেলা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে, যা পাকিস্তান গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর আগে সংগ্রহ করেছিল বলে জানা যায়।এই ক্ষেপণাস্ত্রটি তেজাস মার্ক-১এ, মিগ-২৯, সুখোই-৩০ এমকেআই এবং রাফাল সামুদ্রিক যুদ্ধবিমানের সাথে সংযুক্ত করা হবে।
সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ হতে পারে প্রলয় কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন ও উৎপাদনে বেসরকারি সংস্থাগুলোকে যুক্ত করা। প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি শব্দের গতির প্রায় ছয় গুণ বেগে উড়তে পারে। প্রলয় ভারতের সমন্বিত রকেট বাহিনীর একটি অংশ। এই বাহিনীতে আরও রয়েছে দূরপাল্লার ভূমি-আক্রমণ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, পরবর্তী প্রজন্মের ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র এবং বর্ধিত পাল্লার পিনাকা রকেট সিস্টেম, যা ৩০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এই অস্ত্র ব্যবস্থাগুলোর মাধ্যমে ভারত ক্রমাগত তার দূরপাল্লার নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা জোরদার করছে।
অপারেশন সিঁদুরের পর, আধুনিক যুদ্ধে দূরপাল্লার স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্রের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার তার ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট সক্ষমতা দ্রুত শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য শুধু আক্রমণাত্মক অস্ত্রের উৎপাদন বৃদ্ধি করাই নয়, বরং এমন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা যা শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝ-আকাশেই ধ্বংস করতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোর সংঘাত, বিশেষ করে ইরান-মার্কিন সংঘাত, এটাও দেখিয়ে দিয়েছে যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর কী পরিমাণ ক্ষতি করতে পারে। এই কারণেই ভারত তার বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছে।
ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারত তার আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কও ক্রমাগত প্রসারিত করছে। ভারত ও ইসরায়েল যৌথভাবে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের জন্য একটি দূরপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করছে।দেশটি স্বল্পমূল্যের ড্রোন থেকে শুরু করে দূরপাল্লার রকেট এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পর্যন্ত বিভিন্ন হুমকি মোকাবেলার জন্য একটি স্তরযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র-প্রতিরোধী এবং ড্রোন-প্রতিরোধী প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কও তৈরি করছে। নভেম্বরে রাশিয়া থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পঞ্চম ইউনিটটি পাওয়ার কথা রয়েছে ভারতের।
দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সরকার অতিরিক্ত পাঁচটি এস-৪০০ সিস্টেম কেনার একটি পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করছে। এর ফলে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা এবং ক্ষেপণাস্ত্র-প্রতিরোধী সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।।
