এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৯ সেপ্টেম্বর : রাজ্যে বামফ্রন্টের শাসনকাল তখন মধ্য গগনে । বিশাল বড় লাল শালুক ধরে দোকানে দোকানে ঘুরছেন সিপিএমের নেতা ও ক্যাডাররা । দলের পান্ডা শুধু গুরুগম্ভীর গলায় দোকানদারকে কার্যত নির্দেশের সুরে বললেন : “কিছু দে” । ব্যাস, নিমেষের মধ্যে বিশাল লাল শালুক ভর্তি হয়ে গেল বান্ডিল বান্ডিল টাকায় । কখনো দেশবিদেশের কোথাও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কখনো দুর্ভিক্ষ কবলিত কোনো ইসলামি রাষ্ট্র… এভাবে সিপিএমের ঝোলা হাতে টাকা সংগ্রহ ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার । কিছু না হলে জোর করে পার্টির মুখপত্র “গনশক্তি” নিতে বাধ্য করা হত বলে অভিযোগ । প্রতিবাদ করলেই “লাল চোখ”!
২০১১ সালে সিপিএমের বিদায়ের পর তৃণমূল কংগ্রেস এসে সিপিএমের ঝোলা ধরে টাকা তোলার অভ্যাসে বিরাম ঘটে । কিন্তু মনে হচ্ছে,সেই পুরনো অভ্যাস এখনো ভুলতে পারেনি সিপিএম । তবে এবারে ঝোলা ধরে রাস্তায় বেরুনোর ঝুঁকি নেয়নি তারা । তার পরিবর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিউ আর কোড দিয়ে জনগনের কাছে পার্টি ফান্ডে চাঁদা দেওয়ার জন্য কাতর আবেদন জানানো হয়েছে ।
ফেসবুক পেজে কিউ আর কোড দিয়ে লেখা হয়েছে : “আসন্ন রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রচারে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন।নির্বাচনী তহবিলে অর্থদান করে সাধ্যমতো পাশে থাকুন। কিউ আর কোডটি স্ক্যান করুন ।”
তবে সিপিএমের এই চাঁদা সংগ্রহে সিংহভাগই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। কেউ লিখেছেন : “ডিজিটাল কটোরা” । একজন লিখেছেন : “এবার ডিজিটালি কৌটো নাচানো” । একজন আবার সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন,’স্ক্যান করবেন না ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যাবে’ ।
একজন ব্যবহারকারীর প্রতিক্রিয়া হল,’কৌটো যখন ডিজিটাল রূপে ফিরে আসে, জয় বিজেপি তথা MODIJI জয় ।’ এছাড়া, “₹1 পাঠিয়ে দিয়েছি চেক করে নাও”, “কৌটো থেকে স্ক্যানার”, “Computer er বিরোধিতা করা দল,,,এখন upi ইউজ করছে” প্রভৃতি লিখে সিপিএমকে কটাক্ষ করেছেন ।
উল্লেখ্য,আসন্ন উপনির্বাচনে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন সঈদ আসাদ আলি। আর বামফ্রন্টের অপর শরিক দল সিপিআই নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে শান্তিগোপাল গিরিকে প্রার্থী করেছে। তবে দুটি কেন্দ্রেই বামপন্থীদের জমানত জব্দ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা । কারন, ধুলিয়ানে পিতাপুত্র হরগোবন্দ দাস ও চন্দন দাস ধর্মীয় কারনে রেজিনগরে হিন্দু ভোট এককাট্টা হয়ে বিজেপিতে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা । আর নন্দীগ্রাম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গড় বলে পরিচিত । তাই সেখানেও হিন্দু ভোট সিপিএমের পক্ষে বিশেষ পড়বে না বলেই অনুমান ।
অন্যদিকে, আই এস এফ,কংগ্রেসে,বিক্ষুব্ধ তৃণমূল এবং হুমায়ুন কবিরের দল দুটি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে । তাই মুসলিম ভোট ভাগাভাগি হবেই । তার মধ্যে বামপন্থীদের কত মুসলিম ভোট জুটবে সেটা নিয়ে বিস্তর সন্দেহ আছে ।।

