এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৯ মে : ২০১১ সালে রাজ্যে শেষ আদমশুমারি বা জনগণনার কাজ হয়েছিল । তারপর কোনো এক রহস্যময় কারনে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আদমশুমারি করতে কিছুতেই রাজি হননি । অবশেষে মমতার জমানার অবসান ঘটিয়েই জনগণনার কাজ শুরুর কথা ঘোষণা করেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । গত ১১ মে এনিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে গেজেট বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে । আজ শুক্রবার থেকেই রাজ্যে জনগণনার প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছবে বলে জানা গেছে ।
জানা গেছে,আজ নবান্ন সভাঘরে প্রিন্সিপ্যাল সেন্সাস অফিসারদের সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । এই কাজ পরিচালনার জন্য রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক বিভাগ থেকে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (DM), এবং ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (BDO) পর্যায়ের আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । সম্মলনে আদমশুমারি কার্যক্রমের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরা হবে। এ বিষয়ে তাঁর মতামত দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যে এবারই প্রথম আদমশুমারিতে নাগরিকদের জন্য ‘সেলফ এনিউমারেশন’ বা ‘স্ব-গণনা’ (Self-Enumeration) পদ্ধতি যুক্ত করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়া যাবে। চলতি বছরের ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত স্ব-গণনার এই সুবিধা ব্যবহার করা যাবে। পরিবারের তাদের বিবরণ এবং উত্তর জমা দেওয়ার সরকারি পোর্টাল www.se.census. gov.in- চালু করা হয়েছে । বৃহস্পতিবার রাজ্যের ডাইরেক্টোরেট অফ সেন্সাস অপারেশনস-এর তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে,সফলভাবে তথ্য জমা দেওয়ার পর, একটি ‘সেলফ এনিউমারেশন আইডি’ তৈরি হবে, যা পরবর্তীতে পরিদর্শনে আসা গণনাকারী সংগ্রহ করবেন এবং কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তথ্য আপলোড করবেন। স্ব-গণনার পর, ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ‘এইচএলও ফেজ-১’ পরিচালিত হবে। এই পর্ব চলাকালীন, গণনাকারীরা ৩৩টি প্রশ্ন সম্বলিত সুনির্দিষ্ট প্রশ্নাবলির মাধ্যমে আবাসন, পারিবারিক সুযোগ-সুবিধা, সম্পদ, পরিবারের বিবরণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করতে বাড়ি বাড়ি যাবেন।
সংগৃহীত তথ্য যাতে সুরক্ষিত থাকে, তার জন্য বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। ব্যবহার করা হবে সুরক্ষিত ‘এইচএলও’ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। পাশাপাশি, রিয়েল-টাইম তদারকির জন্য ওয়েব-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘সেন্সাস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম পোর্টাল’ থাকবে। উপগ্রহ-সহায়ক ম্যাপিং-এর জন্য ব্যবহার করা হবে ‘হাউস লিস্টিং ব্লক ক্রিয়েটর ওয়েব পোর্টাল’। প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য সাধারণ মানুষ যাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে পারে সেজন্য টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর ১৮৫৫ চালু করা হয়েছে ।
প্রসঙ্গত,আগের ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা ছিল ৯.১৩ কোটির বেশি, যা ভারতের চতুর্থ সর্বাধিক জনবহুল রাজ্য হিসেবে স্থান করে দিয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা ৬ কোটি ৮২ লক্ষ ৫১ হাজার ৮ জন। এখন বিগত ১৫ বছরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জনবিন্যাসের পরিবর্তন ঠিক কি পরিমানে হয়েছে তা স্পষ্ট হয়ে যাবে আদমশুমারি ২০২৬ সম্পূর্ণ হওয়ার পর ।।
