এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,৩১ মে : নেদারল্যান্ডসে অবৈধ মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের রোষ গিয়ে পড়ল রটারডামে মেভলানা মসজিদের উপর । শুক্রবার রাতে ৬ জন যুবক মসজিদে হামলা চালায় । তারা মসজিদে ভাঙচুরের পাশাপাশি বিয়ারের বোতল ছুড়ে মারে । এমনকি মসজিদের মূল দরজায় প্রস্রাব করে দিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে । এ ঘটনায় এবং পুলিশের ভূমিকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির ইসলামিক ফাউন্ডেশন নেদারল্যান্ডস (আইএসএন)। শুক্রবার (২৯ মে) এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, মসজিদ কর্তৃপক্ষের বারবার ফোন পাওয়া সত্ত্বেও হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবনটিতে লোকজন উপস্থিত থাকা অবস্থাতেই এই ঘটনা ঘটে।মসজিদ কর্তৃপক্ষ পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে এবং জানিয়েছে যে, এই ঘটনায় উপস্থিত ব্যক্তিরা গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন। অপরাধীরা একটি ট্যাক্সিতে করে পালিয়ে যায়। মসজিদ কর্তৃপক্ষ সন্দেহভাজন অপরাধীদের ভিডিও ফুটেজ রেকর্ড করেছে।পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “আমাদের দৃঢ় সন্দেহ যে, একদল মাতাল ব্যক্তি এই ভাঙচুর চালিয়েছে । আমরা ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করেছি এবং তদন্ত চালাচ্ছি।”
মেয়র ক্যারোলা শাউটেন এই ঘটনায় তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন”এই ধরনের ভীতি প্রদর্শনমূলক ও ধ্বংসাত্মক আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং এটি আমাদের শহরে ও নেদারল্যান্ডসে সমুন্নত রাখা সম্মান ও ধর্মীয় স্বাধীনতার মূল্যবোধের পরিপন্থী।”
আইএসএন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে,শুক্রবার রাত আনুমানিক ১৯:৪০ নাগাদ ছয়জন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারী মেভলানা মসজিদে ভাঙচুর চালিয়েছে।
মসজিদের একটি মোজাইক দেয়াল ভাঙচুর করা হয় এবং হামলাকারীরা ভবনটিতে বিয়ারের বোতল ছুঁড়ে মারে ও সম্মুখভাগে প্রস্রাব করে।বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মসজিদ কর্তৃপক্ষ বারবার পুলিশকে ফোন করলেও হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।এতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, মুসলিম ও মসজিদ লক্ষ্য করে হামলার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে মুসল্লিরা ক্রমবর্ধমানভাবে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন এবং উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে “সরাসরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন আছে এমন কোনো হুমকি” হিসেবে বিবেচনা করেননি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পুলিশের মূল্যায়ন বোঝা কঠিন ছিল এবং উপাসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সকল পরিস্থিতিতে নির্ভয়ে তাদের ধর্ম পালনের অধিকার রক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, হামলার পাশাপাশি পুলিশের সাড়া প্রদানে বিলম্ব গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়েছিল।আইএসএন আরও জানিয়েছে যে, তারা এই হামলার বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেছে এবং ঘটনাটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তদন্ত হিসেবে বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছে।।
